শিরোনাম :

বেড়েছে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য


বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বেড়েছে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

ডেস্ক প্রতিবেদন: আসছে ঈদ। আর এই ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়ে গেছে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য। কোরবানির পশুর হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও টার্গেট করছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। বন্ধু সেজে অজান্তেই তারা আবির্ভূত হয় প্রতারক হিসেবে। চলতি মাসেই নগরীর কয়েকটি এলাকায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে প্রাণ হারান এনএসআই'এর সদস্যসহ ৫জন। এছাড়া অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয় প্রায় ৫০ জনকে।

অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

যাত্রা পথে তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকে কোমল পানীয় কেনেন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খাবারও কিনে খান যাত্রীরা। মাঝে মাঝে হকার মনে করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কাছ থেকে কেনা খাবার খেয়ে বিপদে পড়েছেন অনেকে।

অজ্ঞান পার্টির সদস্যরাই হকার সেজে রাস্তায় খাবার বিক্রি করে থাকে। তাই কোনটা হকার আর কোনটা অজ্ঞান পার্টির লোক তা বুঝতে পারে না সাধারণ মানুষ।

রাজধানীর গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে গত দোসরা আগস্ট শামসুদ্দিন নামে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা- এনএসআই'এর এক কর্মকর্তা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এছাড়া, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, সাইন্সল্যাবে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে চলতি মাসেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৫জন। চেতনা নাশক বিষাক্ত দ্রব্য মিশ্রিত খাবারই মৃত্যুর কারণ বলে জানান চিকিৎসক।

গত তিন মাসে অজ্ঞান পার্টির অর্ধ শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হলেও থেমে নেই অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা। জামিন পেয়ে ফিরে যায় একই অপরাধে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অজ্ঞান করার জন্য বারবিচুরেট-জাতীয় বিষ ব্যবহার করা হয়। খাদ্যের সঙ্গে বেশি মাত্রায় এ বিষ পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ক্লোরোফর্ম মেশানো খাবার খেলে লিভার ও কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের মাঝেমধ্যে গ্রেফতার করা হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে তারা বেরিয়ে যায়। জননিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। অজ্ঞান পার্টির কোনো সদস্য গ্রেফতার হলে বিচার চলাকালে সে যাতে জামিন না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। অজ্ঞান করে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন