শিরোনাম :

জাপানে ছাত্রীদের অকৃতকার্য দেখানো হয়


বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট ২০১৮, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জাপানে ছাত্রীদের অকৃতকার্য দেখানো হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ধরার পড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন জাপানের শীর্ষস্থানীয় টোকিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (টিএমইউ) কর্তৃপক্ষ। ১২ বছর ধরে ভর্তি-ইচ্ছুক নারী শিক্ষার্থীদের ইচ্ছে করে অকৃতকার্য করিয়ে ভর্তির অযোগ্য তালিকায় রাখা হতো। নারী শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি নেওয়ার পর চিকিৎসা পেশায় না থেকে সন্তান লালন পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বলে ছেলে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিত তারা। তবে জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে টিএমইউ কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০০৬ সাল থেকে ভর্তি পরীক্ষায় নারী আবেদনকারীদের প্রাপ্ত নম্বর কমিয়ে প্রকাশ করে আসছিল তারা। যেসব পুরুষ আবেদনকারী অন্তত চারবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের নম্বরও কমিয়ে দেওয়া হয়।

টেলিগ্রাফ ও বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে এ জালিয়াতির খবর প্রকাশ করেছে জাপানের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘ইয়োমিরি শিম্বুনে’। অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষায় ছাত্রীদের অকৃতকার্য করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল। তাদের ধারণা, মেডিকেল পাস করলেও নারীরা পরবর্তী জীবনে চিকিৎসা পেশায় থাকেন না। সূত্রটি বলে, অনেক ছাত্রী এখান থেকে ডিগ্রি নিয়ে চিকিৎসা পেশায় না থেকে সন্তান জন্ম ও লালনপালনে সময় পার করেন। তাই ভর্তি-ইচ্ছুকদের ছাত্রদের অগ্রাধিকার দিত তারা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুতে দুই দফা ভর্তির আবেদন থেকে মাত্র ৩০ ছাত্রীকে ভর্তি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি, বিপরীতে ছাত্র নিয়েছে ১৪১ জন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরই শুরু হয় তদন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়ে বিষয়টি।

২০০৬ সাল থেকে এ জালিয়াতি করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ ছাড়া মোটা অঙ্কের অনুদানের পরই ১৯ শিক্ষার্থীকে বাড়তি নম্বর দিয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষমা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভবিষ্যতে আর এমনটি হবে না। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএমইউর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিতসুও ইউকিওকা বলেন, ‘এ ধরনের পরিবর্তন কখনোই উচিত নয়। আমরা জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। এর জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেইসুকি মিয়াজাওয়া অঙ্গীকার করেছেন, আগামী বছর থেকে পরীক্ষা স্বচ্ছ হবে।

এ জালিয়াতি ধরা পড়ায় নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যর বিষয়টি সামনে এল। ঘুষের বিনিময়ে নারীদের চেয়ে ছেলেদের বেশি করে ভর্তি করা হতো। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। সমালোচকেরা বলছেন, জাপানের সমাজ নিজেরাই নিজেদের গিলে ফেলছে। যদিও টিএমইউর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিতসুও ইউকিওকা জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

টিএমইউর কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করেছে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাড়ে ৩ কোটি জাপানি ইয়েন জরিমানা করা হয়েছে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন আইনজীবী কেনজি নাকাই বলেন, ‘এটা সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে নারীর বিরুদ্ধে গুরুতর বৈষম্য করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন