শিরোনাম :

কোহিনূর ‘ছিনতাই’ কাহিনী


মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:০৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কোহিনূর ‘ছিনতাই’ কাহিনী

ডেস্ক: কোহিনূর নিয়ে গল্পের অন্ত নেই। কোথা থেকে কোহিনূরের উৎপত্তি, এর আসল মালিক কে? এসব নিয়ে অনেক বিতর্ক। কারও দাবি, ভারতীয় রাজারা স্বেচ্ছায় কোহিনূর ব্রিটিশ মহারানির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

অনেকে দাবি করেন, কোহিনূর জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছিল ব্রিটিশরা। এমন হাজারো জনশ্রুতির মধ্যে এবার আসল তথ্য দিল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া। আর এই সংস্থার দেওয়া তথ্যে বিতর্ক আরও বেড়ে গেল।

জানা যায়, কোহিনূরের বর্তমান ওজন ১০৫.৬ ক্যারেট। একসময় এটার ওজন ছিল ১৮৬ ক্যারেট, যা বিশ্বের বৃহত্তম হীরের টুকরো। এর কাটাইয়ের ধরন দেখলেই বোঝা যায় এটি মোঘল আমলে তৈরি।

১৮৪৯ সালে মহারাজা দিলীপ সিংয়ের কাছ থেকে এই হীরাটি চলে যায় ব্রিটেনের মহারানি ভিক্টোরিয়ার কাছে। এরপর থেকেই এটি ইংরেজদের সংগ্রহশালায় শোভা বাড়াচ্ছে।

প্রশ্ন হলো কীভাবে কোহিনূর ইংরেজদের হস্তগত হলো। তা জানতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি আরটিআই করেন রোহিত শোভ্রাওয়াল। প্রশ্নটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) কাছে পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

এএসআই জানিয়েছে, কোহিনূর স্বেচ্ছায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দেয়নি ভারত। বরং তা একপ্রকার ছলনা করে নেওয়া হয়েছিল।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই হীরাটি মহারাজা দিলীপ সিংয়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ইংরেজরা। ১৮৪৯ সালে ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধের পর মহারাজা দিলীপ সিং এবং লর্ড ডালহৌসির মধ্যে লাহোর চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতেই কোহিনূর ব্রিটেনকে দিয়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়; যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ কোহিনূর দাবি করে ব্রিটিশরা। আর তাতে রাজি হয়ে যান মহারাজ দিলীপ সিং।

সেসময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর। তাই তিনি ওই হীরাটির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া। তাঁকে ফাঁকি দিয়েই হীরের কথা চুক্তিতে লেখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন, মহারাজা দিলীপ সিং মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও। তাঁর দাবি, কোহিনূর হাতিয়ে নিতে ছলনার আশ্রয় নিয়েছে ব্রিটেন, তাই ওই হীরাতে ভারতেরই প্রথম অধিকার।

এএসআই জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান এখনও ইংল্যান্ডের কাছ থেকে হীরাটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন