শিরোনাম :

পৃথিবীর বিচ্ছিন্ন স্থানগুলো!


শনিবার, ৯ মার্চ ২০১৯, ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পৃথিবীর বিচ্ছিন্ন স্থানগুলো!

১. পালমার্সটন আইল্যান্ড 

নিউজিল্যান্ড থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরবর্তী একটি ক্ষুদ্রতম স্থান দখল করে আছে দ্বীপটি। সাদা বালির এই সৌন্দর্যে ঘেরা দ্বীপটিতে জনসংখ্যা মাত্র ৬২ জন। যাদের মধ্যে ৫৯ জনই উইলিয়াম মাস্টার্স নামক এক ব্যক্তির সরাসরি বংশধর। মূলত তিনিই অপূর্ব ওই স্থানটির আবিষ্কারক। দ্বীপটি নিয়ে খুবই আশ্চর্য এবং অদ্ভুত এক সত্য হলো, দ্বীপটিতে কোনো মার্কেট বা দোকানপাট নেই। দ্বীপটি এতোটাই বিচ্ছিন্ন যে দ্বীপের মানুষগুলো কখনো বাইরের পৃথিবী থেকে কিছু কেনার প্রয়োজন বোধ করেনা। তারা বেঁচে আছে নিজেদের মতো করেই। বছরে মাত্র দু’বার সাপ্লাই শিপের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো নিয়ে নেয়। কিন্তু এগুলো ছাড়াও যেনো তাদের ঠিকই চলে যায়। তবে দ্বীপটির অধিবাসীরা অত্যন্ত আন্তরিক এবং বন্ধু পরায়ন। দ্বীপটিতে ইলেক্ট্রিসিটি থাকে সারা দিনে মাত্র ৬ ঘণ্টা এবং পুরো দ্বীপ জুড়ে মোবাইল ফোন আছে মাত্র দু’টি। ইন্টারনেট সংযোগ থাকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা করে।

২. সুপাই ভিলেজ, আরিজনা
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কথা আমরা কে না জানি! পৃথিবী জুড়ে স্থানটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বিখ্যাত। তবে এর সুদূরবর্তী সুপাই ভিলেজের কথা কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা। অথচ এটি গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম বরাবর জুড়ে ছোট্ট একটি গ্রাম। চারটি জলপ্রপাতের কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থিত এই গ্রামটির নিখুঁত প্রকৃতি অদ্ভুত সৌন্দর্যের আঁধার। গ্রামটির নাম হাভাসুপাই যার অর্থ সবুজ ও নীল পানির মানুষেরা। তবে সুন্দর এই স্থানটি শহর থেকে এতোটা দূরে যে ওখানে যাওয়ার একমাত্র পথ হতে পারে ৮ মাইল পথ পায়ে হেঁটে যাওয়া। তবে এর সব দোষ মিটিয়ে দেয় গ্রামটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আভাস। চারিদিকে ঘেরা এই জলপ্রপাতের মাধ্যমেই এই দূরবর্তী গ্রামের মানুষেরা তাদের পানির অভাব মেটাতে পারে।

৩. ওমিয়াকন, রাশিয়া 

পৃথিবীর এই স্থানটি সম্পর্কে জানতে গেলে ভীষণ অবাকই হতে হয়! কারণ রাশিয়ার এই ওমিয়াকন, পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা যেখানে সাধারণ তাপমাত্রাই থাকে -৫৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই জায়গাটিতে পানির ভীষণ অভাব। কারণ যা কিছু আছে সব বরফাবৃত। এমনকি সেখানকার মানুষেরা কখনো সবুজ ফসলের চাষ করতে পারেনা। জায়গাটি এতোটাই ঠাণ্ডা যে, সাধারণ মানুষেরা তাদের খাদ্য গ্রহণের সময়ও বরফে আবৃত শক্ত মাছ বা মাংস খেয়ে বেঁচে থাকে। সেখানে বসবাসরত প্রায় পাঁচশোধিক অধিবাসী আছে যারা অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার বরফে আবৃত স্থানেই তাদের জীবন কাটিয়ে দেয় এবং ওমিয়াকন নামক এই জায়গাটিতে দিনের ২১ ঘণ্টাই থাকে রাতের মত অন্ধকার। অর্থাৎ এখানে সূর্যের দেখা পাওয়া অন্যতম একটি দুষ্কর বিষয়!

 

৪. সিওয়া ওয়াসিস, মিশর
মিশরের কায়রোর কথা আমরা অনেকে জানলেও এর থেকে বেশ খানিকটা দূরবর্তী সিওয়া ওয়াসিসের নাম ও হয়তো আমরা অনেকে জানিনা। অথচ কায়রো থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বাসে করে গেলেই মরুভূমির পশ্চিমস্থ অঞ্চলের মাঝ বরাবর আলাদা করে যে প্রদেশটিকে চোখে পড়ে সেটি ই সিওয়া ওয়াসিস। যেখানে গেলে কি না বিখ্যাত ক্লিওপেট্রার স্নানাগারে সাতার কাটার সৌভাগ্য লাভ করা যায়। এছাড়াও মরুভূমিতে বসন্ত কতোটা সুন্দর হতে পারে তার সাথে পরিচিত হওয়া যায়। খোঁজ পাওয়া যায় সুস্বাদু বিখ্যাত জলপাই ও খেঁজুরের। যার জন্য মিশর অনেকখানি বিখ্যাত পৃথিবী জুড়ে।

৫. সোকোত্রা আইল্যান্ড, ইয়েমেন
এই দ্বীপটি এতোটাই দূর্গম যে, জায়গাটিতে ৪০ হাজার অধিবাসী থাকা সত্ত্বেও কয়েক বছর পূর্বে, ২০১১ সালে জায়গাটির প্রথম সড়ক তৈরি হয়। দ্বীপটিতে প্রায় ৮০০ ধরণের বিরল উদ্ভিদের খোঁজ পাওয়া যায় যেগুলোর আকার আকৃতির এতোটাই ভিন্ন রকমের যে সেগুলোকে অন্য কোনো গ্রহের উদ্ভিদ বলে মনে করা হয়। সে উদ্ভিদগুলোর এক তৃতিয়াংশ উদ্ভিদই পৃথিবীর আর কোথাও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দ্বীপটি ইয়েমেনের রাজধানী থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরে অবস্থিত।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন