শিরোনাম :

ঈশ্বরগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঈশ্বরগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ইউনিয়নে ‘গরুচোর’ বানিয়ে রফিকুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রফিকের নিজ বাড়িতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করে। এতে আগত জনগণ রফিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

গতকাল বুধবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নে ভাষা গকুলনগর গ্রামের দামেশের বাড়ির গোয়াল ঘর থেকে কাভার্ডভ্যানে করে চারটি গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলো সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যরা। এ সময় রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে একজনকে ধরে ফেলে স্থানীয় জনতা। পরে গণপিটুনি দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে সকাল ১১ টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রফিকুল পাশের মগটুলা ইউনিয়নের নাউড়ি গ্রামের প্রবাসী আবু ছিদ্দিকের ছেলে। গত দুই বছর আগে সে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আসেন। অভিযোগ করে স্থানীয়রা আরো জানায়, একজন সিঙ্গাপুর প্রবাসী কখনও তার বিরোদ্ধে চুরির অভিযোগ তারা কখনও শোনেননি। রফিকের স্ত্রী একজন উচ্চ শিক্ষিত। সেও শিক্ষিত। কোন ভাবেই অন্ত:ত গরু চুরি সে করতে পারেনা। তাছাড়া তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও বেশ সম্পদশালী।

তাছাড়া নিহত রফিকুলের পিতাও একজন প্রবাসী। একই গ্রামের আবু তাহের ও কলিম উদ্দিন মেম্বারের সাথে তাদের দীর্ঘদিন ধরে আক্রোশ ছিল। হয়ত পরিকল্পিতভাবে রফিককে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক ঘটনা বের করে এ হত্যাকান্ডের বিচার চান।

নিহত রফিকের স্ত্রী জানান, রফিক গরু চুরিতে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। সে সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছিল। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার পিতাও প্রবাসী। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তার দশ মাসের একটি মেয়ে সন্তানের কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এবং রফিক হত্যার বিচার চান।

নিহত রফিকুল ইসলামের ভাই শফিক অভিযোগ করে বলেন, রফিকুল স্থানীয় বাজারের ইজারাদার ও ব্যবসায়ী ছিলো। মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর) বিকেলে আবু তাহের ও কলিম উদ্দিন মেম্বার তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার সকালে ভাষা গকুলনগর গ্রামের একটি বিলে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তাকে ‘গরুচোর’ বানিয়ে পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শফিক। এ ঘটনায় স্থানীয় হোসেন মেম্বার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা জনতাকে আসামি করে দুপুরে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ওসি বদরুল আলম খান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন