শিরোনাম :

বিকেলে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ


বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০১৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিকেলে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ

ডেস্ক প্রতিবেদন: জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ বৃহস্পতিবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন। বিকেল ৩টা থেকে তিনি এ কার্যক্রম শুরু করবেন।এটি হবে দেশের ৪৫তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর ১০ম বাজেট।

একাধারে আট বার বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন এবার। অন্যান্য বারের মত এবারও পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে মোট ১৮টি বই বিতরণ করা হবে।

আগামী অর্থবছরের জন্য তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট আসছে বলে জানা গেছে। যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৪৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। এর পরিমাণ হবে দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। বাকি ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকখাত, সঞ্চয়পত্র ও বৈদেশিক খাত থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা মাথায় রেখে ২০১৬-১৭ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের আগেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বছরে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যেতে চান।

বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তিনি ধ্বংসাত্মক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে সমর্থন জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অর্থমন্ত্রী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন, ২০১৯-২০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পর্যায়ক্রমে ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। অবশ্য তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কিছু অসমাপ্য লক্ষ্যগুলোর প্রতি অধিকতর নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে মুহিত অধিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে পরবর্তী বাজেট বক্তৃতায় একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করবেন।

অর্থমন্ত্রী এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন, আগামী বাজেটের আকার হবে তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার। এতে কিছু মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের বিধান এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বর্ধিত বরাদ্দ থাকবে।

পরবর্তী বাজেটে দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যের অনুসরণে অন্যান্য বিশেষ দিকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আসন্ন বাজেটে দেশে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তাব থাকবে। এ বাজেটে সরকার যাতে অধিক অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে এবং বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের বেশি না হয়, সে জন্য নতুন মূল্য সংযোজন আইন ও কাস্টম আইন চালু এবং রাজস্ব বোর্ডের প্রধান প্রধান কর্মকাণ্ড অটোমেশনের প্রস্তাব থাকবে।

এতে সম্ভব্য করদাতাদের করের আওতায় এনে কর পরিধি বাড়ানোর কৌশল থাকবে। বর্তমানে ১৭ টিআইএনধারীর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ আয়কর বিবরণী দাখিল করেন। আগামী চার বছরে সক্রিয় এ করদাতা ৩০ লাখে উন্নীতের পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্ববর্তী বছরের মতো এবারও বাজেট অর্থ বিভাগের www.mof.gov.bd. www.mof.gov.bd. ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ বাজেট বক্তৃতা www.bangladesh.gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.org and www.pmo.gov.bd and at the BSS website www.bssnews.net. পাওয়া যাবে।

অর্থমন্ত্রী ৩ জুন শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবেন।

এমএল

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন