শিরোনাম :

‘আইনের সীমাবদ্ধতায় মাদক পাচার প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না’


বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০১৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

‘আইনের সীমাবদ্ধতায় মাদক পাচার প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সীমাবদ্ধতা থাকায় সীমান্ত এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি মহাপরিচালক চলতি বছরে বিজিবির সার্বিক কর্মকান্ড ও সফলতা তুলে ধরেন।

টেকনাফে ইয়াবার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত বলে বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। কারও জিম্মায় মাদকদ্রব্য না পেলে আমরা তাকে ধরতে পারি না।

তিনি বলেন, আপনারা যেমন জানেন, আমরাও সে রকম জানি। অনেক কিছুই জানি। এটুকু বলতে পারি, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের পক্ষ থেকে বাধা নেই। এদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেকে এলাকাছাড়া হয়েছে।

আজিজ আহমেদ বলেন, আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো ইয়াবা ও ফেনসিডিল। এখন এত রকমভাবে মাছের পেটে, মরিচের মধ্যে, ফুলের মধ্যে করে ইয়াবা আসছে, আমাদের একার পক্ষে এটা আটকানো সম্ভব নয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ, অভিভাবক, গণমাধ্যমসহ সমাজের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা ধরে দেই আর দুই-তিন মাসের মধ্যে জামিনে বের হয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে কঠিন সাজার ব্যবস্থা করা না গেলে এগুলো বন্ধ হবে না। তারা আমাদের সামনে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে যাবে, এভাবে এটা বন্ধ করা যাবে না।


সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না বলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। এরপরও হত্যাকান্ড চলছে। এসব থামানো যাচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে আজিজ আহমেদ বলেন, এর জন্য গরু চোরাচালান বন্ধ করতে হবে। ভারতের গরুর দিকে তাকানো যাবে না।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সীমান্তে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জন ভারতের সিভিলিয়ানদের হাতে। আমাদের সীমান্তগুলো এ রকম যে একজনের রান্নাঘর ভারতে আর বাড়িটা বাংলাদেশে। আবার ভারতে অনেকের আত্মীয়স্বজন থাকে। দেখা গেছে, প্রেম করতে ওপারে গিয়ে প্রেমিকার আরেক প্রেমিকের হাতে নিহত হয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে।

ব্রিফিংয়ে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্ত ব্যাংকের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাস থেকে চালু হতে যাচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক। এ মাসেই ব্যাংকের জন্য সিকিউরিটি অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে দিয়ে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৭ থেকে ১০টি শাখা হবে।

আজিজ আহমেদ বলেন, আগামী ৫ জুন বিজিবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নারী সদস্য দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। সীমান্ত এলাকায় নারী পাচারকারী ও চোরকারবারী আটক হলে বা সন্দেহ হলে সেখানে তল্লাশির ক্ষেত্রে বিজিবিকে বিব্রত অবস্থায় পড়তে হয়। এজন্য স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নারী সৈনিক নিয়োগ করা হবে।

এমএল

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন