শিরোনাম :

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী


রবিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৭, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক প্রতিবেদন: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ রবিবার কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির কবরে এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলে।

আজ সকাল ৭টায় কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবির নাতনি খিলখিল কাজী, তার ভাই বাবুল কাজীর স্ত্রী লুনা কাজী ও তার মেয়ে আবাছা কাজী।পরে তারা কবির আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

এ ছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে নজরুলের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তা ছাড়াও বিএনপির পক্ষে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং ছাত্রদলের নেতারা।

কবির পরিবারবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

১৯৭৬ সালের ২৯ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কবি নজরুল ইসলামের। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে সমাহিত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে।

পরে কবির নাতনি খিলখিল কাজী সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমরা সবাই কবির ৪১তম প্রয়াণদিবস পালন করছি, কিন্তু সর্বস্তরের মানুষের কাছে নজরুল ইসলামকে এখনো আমরা পৌঁছে দিতে পারিনি।

… এই পৌঁছে দিতে না পারার জন্য আমরাই দায়ী। কারণ আমরা কবিকে নিয়ে সেভাবে চর্চা করছি না। ”
কবির নাতনি বলেন, নজরুল ইসলাম ছিলেন সবার কবি, মানুষের কবি। গ্রাম থেকে শহরে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরুল পড়াতে হবে, তার জীবন দর্শন জানাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “কবির জীবন-দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক, তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন। হিন্দু-মুসলমান আমাদের পরিচয় নয়, আমরা সকলেই মানুষ- এটাই ছিল তার আদর্শ। এই আদর্শকে যদি আমরা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তবেই আমরা শোষণমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ একটা সমাজ- যেটা তিনি সবসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন- আমরা গড়তে পারব। ”

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। এক সময় তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা হয়ে ওঠেন। এরপর ১৯৪২ সালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্রমশ বাকশক্তি হারান তিনি। স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ কবিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এই সুবাদে নজরুল হন বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন