শিরোনাম :
   জাগো বাংলাতে সাংবাদিকতায় চাকরির সুযোগ    ইরানকে নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন হাসান রুহানি    রোহিঙ্গা সংকট: নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান    সু চিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে ফৌজদারি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুপারিশ    আজকের রাশিফল: ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৭    নিজেদের মাঠে বেটিসের কাছে হেরে গেল রিয়াল মাদ্রিদ    মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত: জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান    রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ২৬২ কোটি টাকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র    রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে ধ্রুবতারার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত    সাপাহারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাগুলো  দ্রুত সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর 

মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব বাংলাদেশের


সোমবার, ২৮ আগস্ট ২০১৭, ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মিয়ানমার সীমান্তে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গত বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর সন্ত্রাসীদের বাঙালি হিসেবে অভিহিত করায় সোমবার দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রদূতকে মিয়ানমারের ইসলামি জঙ্গি, আরাকান আর্মি ও অন্য যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগ) মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, গত সপ্তাহে মিয়ানমারে পুলিশের উপর হামলার ঘটনাটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তার সঙ্গে ‘বাঙালী’ শব্দের ব্যবহার নিন্দনীয়। এটি অগ্রহণযোগ্য।

রাষ্ট্রদূতকে আরো বলা হয়েছে, যদি তারা মনে করে, সীমান্তে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি আছে, তাদের ধরতে ঢাকা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের মাটি কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার কোন সুযোগ না দেয়ার যে নীতি সরকারের রয়েছে তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

আবারো রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। আর এতেও ক্ষান্ত হচ্ছেনা তারা, নিজেদের গণমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন নিবন্ধও প্রকাশ করছে।

বিবিসি বলছে, ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’দের ব্যাপারে সেদেশের জনগণ এবং বিদেশি নাগরিকদের সাবধান থাকতে বলেছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমার থেকে প্রকাশিত দৈনিক মিয়ানমার টাইমসের সোমবারের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। একইসঙ্গে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভাশন আর্মি বা আরসার ব্যাপারেও।

মিয়ানমারের সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবারে রাখাইনের টং বাজার গ্রামটি ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’রা অবরোধ করেছিল। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এর সঙ্গে আরো জড়িত আছে বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থার কিছু কর্মীও। রিপোর্টে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি’র অফিস স্টেট কাউন্সিলর অফিস ইনফরমেশন কমিটির বরাত দিয়ে আরো বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিদেশী সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার ইন্টারপোলের সাহায্য চেয়েছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দৈনিক গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীদের একটি অংশ আরসা’কে সহায়তা করছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অং সান সু চি’র অফিস। ঐ প্রতিবেদনে ‘আরসার সন্ত্রাসী’দের সমর্থনে নেয়া যেকোনো কাজের জন্য দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করা হবে বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এর আগে ঐ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এদিকে, দ্য ইরাওয়াদি দৈনিকে স্টেট কাউন্সিলরের অফিসের বরাত দিয়ে শুক্রবারের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এর পেছনে উত্তর রাখাইনের সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা দায়ী।

তবে মিয়ানমার থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ফ্রন্টিয়ার মায়ানমারে আজকের প্রধান সংবাদ বলা হয়েছে, উত্তর রাখাইন প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রবিবার রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পরিদর্শনে যান, আর তা কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো অভিযানের পর বলা হয় পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল রয়েছে। মিয়ানমার থেকে প্রকাশিত দৈনিক ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকার রাখাইনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী সন্ত্রাসীদের ধরতে পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সর্বশেষ সহিংসতার পর সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে আবারো বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে বলে জানা যাচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন দৈনিকে সরকারের বিভিন্ন ধরণের ভাষ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন