শিরোনাম :

বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান হবে না : প্রধানমন্ত্রী


বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:১৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান হবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক প্রতিবেদন: রাজশাহীতে গত সাড়ে আট বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা এর আগের কোনো সরকার করতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি জাতির পিতার মেয়ে, আমি জানি উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়’।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ানে অবস্থিত রাজশাহী চিনিকল মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের গত সাড়ে আট বছরের শাসনামলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা দীর্ঘদিন বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও হয়নি।
এ সময় রাজশাহীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজশাহীবাসীর জন্য নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, আমি জাতির পিতার মেয়ে, আমি জানি কিভাবে উন্নয়ন করতে হয়।

বৃহস্পতিবারসকালে প্রথমে হেলিকপ্টারে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদহে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করে পবায় হরিয়ান চিনিকল মাঠে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্য শুরু করার আগে প্রধানমন্ত্রী ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হয়। সেই উন্নয়নের ধারা এখন অব্যাহত আছে। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতি আর বিদেশে টাকা পাচার করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত থাকলে তারা কী করেছে? খুন-খারাবি আর দুর্নীতি, মানি লণ্ডারিং, টাকা পাচার। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ দেশের উন্নয়ন করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। ২০১৪-এর নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করেছি বলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে।’

‘জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন কেন? করেছিলেন একটাই কারণে, একটাই লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত। প্রত্যেকটা মানুষ খাদ্য পাবে, বাসস্থান পাবে, চিকিৎসা পাবে, শিক্ষা পাবে, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে। এটাই ছিল তার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি, আপনাদের জন্য কী এনেছি-খালি হাতে আসিনি। আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি, কিছুক্ষণ আগে আপনারা জানেন, অনেকগুলো প্রকল্প উদ্বোধন করেছি, অনেকগুলো ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি, যাতে রাজশাহীর সার্বিক উন্নতি হয়।’

আওয়ামী লীগের নিহত নেতাদের স্মরণ করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে রাজশাহীতে এসে এই বিএনপি-জামায়াত জোট ওই বাংলাভাই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী, তাদের হাতে যারা জীবন দিয়েছে আমি তাদের স্মরণ করছি। স্মরণ করছি, জোট সরকারের সন্ত্রাসীদের দ্বারা নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আলো খন্দকার, আজহার মেম্বর, শফিকুল ইসলাম, আবদুল বাকি, সাদেক আলী, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মালেক, হযরত আলী মণ্ডল, পারভেজ, দুলু, নাহিদ পারভেজ আরজু, সৈয়দ আলী, আনিসুর রহমান, নরেষ চন্দ্র, ছাত্রলীগ নেতা আহসান হাবিব বাবু ফিরোজ আলীসহ রাজশাহীতে তখন যারা শহীদ হয়েছে তাদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. ইউনুস, ড. তাহেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।’

‘বিএনপি জামায়াত জোট যে জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, সেখানে তাদের হাতে বিএনপি-জামায়াত আরো হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ, রবিউল ইসলাম রবি, যুবলীগের শামসুল আলম, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট শাহীন আলম ও আসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমনকি যুবলীগের আনোয়ারুল ইসলাম আনারকে শিবিররা হাতপায়ের রগ কেটে দিয়ে হত্যা করে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১০ সালে শিবিরের ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ফারুক, তাকে হত্যা করে ডাস্টবিনের মধ্যে ভরে রাখে। এমনকি জেএমবি-বাংলাভাই এসে আবদুল কাউয়ুম বাদশাকে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। আওয়ামী লীগের ইয়াসির আলী, খেজুর আলী, রব্বানী বকুলকে হত্যা করে। সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। দুজন সংসদ সদস্য, এ এস এম কিবরিয়া এবং আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করে। এমনকি আমাদের এই সারা বাংলাদেশের ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা করে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন