শিরোনাম :

তিনসন্তানসহ জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজার আত্মসমর্পণ


সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০১৭, ০৪:০৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ডেস্ক প্রতিবেদন: যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে জামে মসজিদের পেছনের একটি চারতলা বাড়ির আস্তানা থেকে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ  জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজা আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার ৩টা ৫ মিনিটে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সে আত্মসমর্পন করে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে খাদিজা আত্মসমর্পণ করেছে। পাবনা থেকে তার বাবা-মা আসার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তার বাবার নাম নিজাম উদ্দিন।’

এদিকে, সোমবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার মালিক ইসমত আরা বাবলীর স্বামী হায়দার আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খাদিজা তার বাসার বারান্দায় এসেছিলেন। সেখানে অবস্থানরত পুলিশ এবং আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। খাদিজা জানিয়েছে, তার বাবা-মা আসলে তিনি ভবন থেকে বের হয়ে আসবেন।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘খাদিজার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। বাবা-মা আসলে তিনি ভবন থেকে বের হবেন বলে জানিয়েছেন।’

এদিকে, বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে যশোর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাঁচটি পরিবারকে নিরাপদে নামিয়ে এনেছি। সেখানে জঙ্গি মারজানের ছোট বোন খাদিজা রয়েছে। আমরা তাকে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছি। তার মোবাইল ফোন অন করতে বলেছি।’

বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে হ্যান্ড মাইকে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান খাদিজাকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনি নেমে আসুন। আপনার সন্তানদের কথা চিন্তা করুন। আমরা আপনাকে সাহায্য করবো।’

উল্লেখ্য, রবিবার রাত ১০টায় যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি চারতলা বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। জানা গেছে, ওই বাড়িটির মালিক যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষক হায়দার আলীর শ্বশুর। হায়দার আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্ত্রী ইসমত আরা বাবলী। তারা তিন বোন। পৈত্রিক সূত্রে ওই ভবনের একটি করে ফ্লোর পেয়েছেন তারা। আমার স্ত্রী ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দুটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। আর ভবনের নিচ তলা ফাঁকা আছে। আমাদের ফ্ল্যাটগুলোতে দুটি পরিবার ভাড়া থাকে। আমি পাশে আরেকটি বাড়িতে ভাড়া থাকি। রবিবার ভোর চারটার দিকে আমি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারি রবিবার রাত ১০টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। খবর পেয়ে চলে আসি। কিন্তু আমাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধারণা করছি বাসার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মশিয়ার রহমান ও তার পরিবারকে সন্দেহ করা হচ্ছে। মশিয়ার রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি একটি হারবাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বাসা ভাড়া করে গত একবছর ধরে এ বাসায় থাকেন মশিয়ার রহমান।’

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন