শিরোনাম :
‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’

দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা আজ


শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:১০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

দেশজুড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা আজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেসকো ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আজ শনিবার দেশজুড়ে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হবে।

রাজধানীর শোভাযাত্রাটি আজ বেলা ১২টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর থেকে যাত্রা শুরু করে শেষ হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিক ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, এনজিও কর্মী, স্কাউটসদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এতে অংশ নেবেন।

শোভাযাত্রাটি কোন পথ থেকে কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে একটি রুট ম্যাপ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগ। এই রুট ম্যাপ দেখে নগরবাসীকে চলাচল করতে ও ট্রাফিক বিভাগকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ করেছে ডিএমপি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানিয়েছে, বেলা ১২টায় আনন্দ শোভাযাত্রাটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর থেকে যাত্রা শুরু করবে। এরপর মিরপুর রোডের রাসেল স্কয়ার ক্রসিং হয়ে কলাবাগান দিয়ে সায়েন্স ল্যাব থেকে বামে মোড় নেবে। সেখান থেকে বাটা সিগন্যাল ও কাঁটাবন ক্রসিং পেরিয়ে শাহবাগ হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ছবির হাট হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেষ হবে শোভাযাত্রাটি।

এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতাস্তম্ভে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট গেট (চারুকলার বিপরীতে), টিএসসি গেট, বাংলা একাডেমির বিপরীতের গেট, কালীমন্দির গেট ও তিন নেতার মাজার গেট দিয়ে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশজুড়ে এই আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি উদযাপনের জন্য র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ, আনসার ও ভিডিপিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সতর্ক অবস্থায় থাকবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি উদযাপনে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বর্ণিল আলোকসজ্জায় সুসজ্জিত হয়েছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার আশপাশের এলাকা। হরেক রকম ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও তোরণে সাজানো হয়েছে পুরো উদ্যান। প্রস্তুত হয়েছে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ।

শুক্রবার মধ্য রাতে গিয়ে দেখা যায় তোড়জোড়ের সঙ্গে চলছে উদযাপন অনুষ্ঠানের নানা প্রস্তুতি। উদ্যোনের প্রতিটি গাছের ডালে জ্বলছে লাল-নীল বাতি। মূল মঞ্চের যাওয়ার রাস্তার  দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ছোট-বড় আকারের তোরণ।

শিখা চিরন্তনের দুই পাশে আলোকসজ্জায় লেখা হয়েছে ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চ’। তার দুই পাশেই পুলিশ, র‌্যাবসহ সকল নিরাপত্তা বাহিনীর কন্টোল রুম। সামাবেশের প্রধান মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে উদ্যোনের গ্লাস টাওয়ার এবং স্বাধীনতা জাদুঘরের সামনে।

৬০ ফুট প্রস্থ ও ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের মূল মঞ্চের সিঁড়িগুলো তৈরি করা হয়েছে কাঠের ক্রসিং দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর বসার জায়গা বুলেট প্রুফ গ্লাস দেওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিকের সাধা ও গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে স্টেজের মূল অংশ। উদ্যানের পাশাপাশি রাজধানীর শাহবাগ, মৎস্যভবন, হাইকোর্ট মোড় ও টিএসসি এলাকাও রঙিন আলোয় সজ্জিত হয়েছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান  বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সামাবেশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রাধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হবে। বেলা তিনটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হবেন সবাই।

৭ মার্চের স্বীকৃতি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পাশাপাশি থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন