শিরোনাম :

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার মূলমন্ত্র: প্রধানমন্ত্রী


শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই ছিল স্বাধীনতার মূলমন্ত্র: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক প্রতিবেদন: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা এই ভাষণের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে বলেছিলেন। এত দূরদর্শিতা, দিক নির্দেশনা কোনও ভাষণে পাওয়া যায় না।’

এই ভাষণের পর থেকে আওয়ামী লীগের যে নির্দেশনা যেত তা বাঙালি অক্ষরে অক্ষরে পালনে করতো উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপর থেকেই ইয়াহিয়ার শাসন বাংলাদেশে অচল হয়ে যায়। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মানুষ।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শাসনতন্ত্র রক্ষাসহ জাতির জীবনের প্রত্যেকটি অর্জনে আওয়ামী লীগ জড়িত। বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে জাতির পিতা দিয়েছিলেন ৬ দফা। তিনি এ ছয় দফা দিয়েই বসে ছিলেন না, তিনি এটা নিয়ে সারা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়, তাকে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাঙালিরা তার প্রতিবাদ করেছে। বাংলার ছাত্রসমাজ, বাংলার জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে বারবার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বার বার মনে পড়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের কথা। সে দিনের জনসমুদ্রে আমার আসার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমরা এসেছি, ভাষণ শুনেছি। দেখেছি সেদিন বাংলার মানুষের উত্তাল তরঙ্গ।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি অর্জন জাতির পিতার নেতৃত্বে। শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের পাশাপাশি দেশকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা আন্দোলন গড়ে তোলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার মন্ত্রে বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেন। বাংলার মানুষের সঙ্গে জাতির পিতার আত্মিক সম্পর্ক এ ভাষণে ফুটে ওঠে। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত দূরদর্শিতা, এত দিক-নির্দেশনা পৃথিবীর কোনো ভাষণে পাওয়া যায় না।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিহাস বিকৃতকারীরা যেন আর কখনও ক্ষমতায় আসতে না পারে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে আরও এগিয়ে যাবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই দেশ গড়ে উঠবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐহিত্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় শনিবার রাজধানীতে আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে সোহরাওয়ারাদী উদ্যানের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীসহ সারাদেশেই আয়োজিত হয়েছে এই শোভাযাত্রা।

দুপুরে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে বের হয় শোভযাত্রা। হাজার হাজার মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসতে থাকেন সোহরাওয়াদী উদ্যানে। এই কর্মসূচির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেলা ১২টার পর থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

৪৬ বছর আগের এই ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেই এক সময় এই ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল। এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে। আজকে ইউনেস্কো সেই ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রমাণ হয়েছে ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না।

তিনি বলেন, আজকে আমরা আনন্দিত। এ ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ৪৬ বছর আগের এ ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কো, তার সাবেক পরিচালক, যারা ভোট দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কেমন হবে- তা বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ভাষণেই বলে গেছেন। একটি উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার কথাও তিনি ওই ভাষণেই বলে গেছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উদযাপনে দেশব্যাপী আয়োজিত হয়েছে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। 

বিকেল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।

এর আগে ধানমন্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই উদযাপন শুরু হয়।

প্রথমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকসহ সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা ।

শনিবার সকালে প্রশাসনের আয়োজনে বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়াম থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশাসহ আরো অনেকে অংশ নেন।

বরিশালে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর নগরীতে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মসূচির শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ কমিশনার মো. রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।

গোপালগঞ্জে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য দান করা হয়। পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় পৌর পার্কে এসে শেষ হয়। সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে ‘দূর্জয় পাবনা’ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনসহ সরকারি বেসরকারি সর্বস্তরের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে পাবনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধীজনেরা ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার নিয়ে অংশ নেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা স্কুল বড় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় জেলা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিশু-কিশোর, ক্রীড়া সংগঠক ও খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক, শিল্পকলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, এনজিও, স্কাউটস ও রোভারের সদস্যরা অংশ নেয়।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের শহীদ ড. সামসুজ্জোহা নগর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন চত্বরে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, জেলা জজ মো. গাজী রহমান, পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম রসুল, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বশির আহম্মেদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ময়মনসিংহে বেলুন উড়িয়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। শোভাযাত্রাটি সার্কিট হাউজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলওয়ে চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন, ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানসহ বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি পেশা ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রাজনৈতিক সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন