শিরোনাম :

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুরু


বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮, ০৪:৪১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুরু

ডেস্ক প্রতিবেদন: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় জনসভা।

জনসভায় সভাপতিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছান। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ শুরু করেন।

বেলা ৪টা ৪০ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন শেখ হাসিনা। ভাষণের শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ এবং জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণটি স্মরণ করেন।

বেলা তিনটার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, কর্নেল ফারুক খান প্রমুখ

আজ বেলা দুইটার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় ভরে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সভাস্থল।

সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ধরে নানা জায়গা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এসব মিছিলে ছিল সভা উপলক্ষে তৈরি নানা প্রতিকৃতি ও পোস্টার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিবাহী পোস্টার ও প্রতিকৃতি ছিল অনেকের হাতে।

জনসভার সূচনা বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের শপথ নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজ আমাদের শপথ হোক, মৌলবাদী, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনব।’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরবর্তী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই প্রথম দেশে ঐতিহাসিক এই দিনটি পালিত হচ্ছে। বৈশ্বিক এই স্বীকৃতি পাওয়ায় দিনটিকে এবার বিশেষ আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করছে আওয়ামী লীগ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষসহ দলের নেতাকর্মীরা।

শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের রাস্তা দিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানারে দলের প্রতীক নৌকা, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি, ফেস্টুন নিয়ে জনসভাস্থলে এসেছেন। নেতাকর্মীদের অনেকেই লাল-সবুজ গেঞ্জি পরিহিতসহ মাথায় লাল-সবুজ ও সাদা রঙের টুপি পরে সভাস্থলে হাজির হয়েছেন।

এ ছাড়া বাসে ও পিকআপ এবং অনেক যানবাহনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজতে দেখা গেছে। এ ছাড়া উদ্যানের আশপাশে ভাষণ বাজছে এখনো।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। উদ্যানের আশপাশে পুলিশ, র‍্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশকে দেখা গেছে। এ ছাড়া উদ্যানের ভেতরে প্রবেশের জন্য ছবির হাট ও টিএসসির প্রবেশদ্বারে পুলিশকে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। সভাস্থলে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে থাকা হেডফোন, কলম ও ডায়েরি রেখে দিয়ে ঢুকতে দিচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাগ হাতে কাউকেই ঢুকতে দিচ্ছে না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা ও প্রধানমন্ত্রী আগমন উপলক্ষে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনসভাস্থলের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন