শিরোনাম :

ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী


বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮, ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা একাত্তরে গণহত্যা চালিয়েছিল তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন জাতির পিতা। কিন্তু স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি যারা তাদেরকে পরবর্তীতে জাতির পিতার হত্যার পর পুনর্বাসিত করা হয়েছিল।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতাবিরোধীরা। তখন ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর কোনও অধিকার ছিল না। যেখানেই এই ভাষণ বাজানো হতো সেখানেই তারা বাধা দিতো। আমি স্যালুট করি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। শত নির্যাতন-বাধার পরও  তারা এ ভাষণ বাজিয়েছিলেন। 
 
তিনি বলেন, জাতির পিতার নামটি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না। ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকো স্বীকৃতি দিয়েছিল। আড়াই হাজার বছরের ভাষণের ইতিহাসের মধ্যে এই ভাষণ অন্যতম শ্রেষ্ট ভাষণ।
 
বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এদেশের মানুষ ছিল শোষিত বঞ্চিত, তাদের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য জাতির পিতা সংগ্রাম করেছেন। বাংলার মানুষের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।
 
তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর সাড়ে তিন বছরে একটি প্রদেশ, সেটাকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা, বিশ্বের দেশগুলো থেকে স্বীকৃতি আনা, বঙ্গবন্ধু তা করেছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যেখানে শিশুপার্ক ঠিক সেখানে সেদিনের মঞ্চ ছিল। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেখানে উপস্থিত থাকার। জাতির পিতা সেখানে দাঁড়িয়েই ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। 

শেখ হাসিনা হলেন, তার সেই ঘোষণা সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে যায়। সত্যই প্রতিটি ঘরে দুর্গ গড়ে উঠে। পাকিস্তানিরা যখন গণহত্যা শুরু করলো তখন বঙ্গবন্ধু ইপিআরের ওয়ারলেস ব্যবহার করে স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলছিলেন। বাংলার মানুষ সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন আন্দোলন করেছেন। যেখানেই বঙ্গবন্ধু অন্যায় দেখেছেন সেখানেই তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এই সামান্য সময়েই তিনি সারাবিশ্বে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়, মানুষের অভাব দূর, রাস্তাঘাট সংস্কার, এককোটি শরনার্থীর পুনর্বাসনসহ অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু যখনই দেশ ভালোভাবে চলতে শুরু করে, তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তিনি দেশ স্বাধীন করেছিলেন, এটাই কি তার অপরাধ ছিল?

এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ বেলা ২টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কোরান তেলোয়াত, গীতা, ত্রিপিটক, বাইবেল সহ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য রাখেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।  
 
এদিকে সকাল থেকে আওয়ামী লীগের সমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল নামে। দুপুর ১২টার পর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশ মিছিলে মিছিলে সরগরম হয়ে উঠে। 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন