শিরোনাম :

মাদকের বিরুদ্ধে জয়ী হতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মাদকের বিরুদ্ধে জয়ী হতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা: মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই। বুধবার দুপুরে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

খুলনায় র‌্যাব-৬ কার্যালয় মাঠে সুন্দরবনের ৫৭ জন বনদস্যুর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সকল গোয়েন্দা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে মাদক ব্যবসার সাথে কারা সম্পৃক্ত তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিয়েছে। আমরা বড় বড় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার ব্যবস্থা করছি, বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছি। আমরা কাউকে ক্রসফায়ারে দেই না। কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করলে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য তাদেরকে (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে) চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতেই হয়।'

তিনি বলেন, 'আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো অবস্থাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হয়। আমাদের কাছে যে তালিকা রয়েছে সেই তালিকা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজছে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে। যখন মাদক ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জ করে তখন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের জীবন রক্ষার জন্য গুলি করতে বাধ্য হয়।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনার ভাইটি কী করে, ছেলেটি কী করে তার প্রতি নজর রাখুন।

এছাড়া শিগগিরই সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত করা হবে বলেও এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, 'আমরা চাই না আর কোনো পরিবার মাদকের জন্য ধ্বংস হোক। অনেকে বলেন গডফাদার, গডফাদার কে? রাতে টেলিভিশনের সামনে বসেন, দেখবেন গডফাদার কারা। কারা এসে কান্না করছে এই জানোয়ারদের জন্য। কারা আজকে আমাদের অপারেশন বন্ধ করার চেষ্টা করছে, ওরাই হচ্ছে প্রকৃত গডফাদার। ওরা হয় মাদক খায় অথবা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়।'

তিনি বলেন, 'আমরা কাউকে ছেড়ে দেব না। আপনাদের সবাইকে নিয়ে দেশকে আমরা মাদকমুক্ত করবো।'

সুন্দরবনের সব বনদস্যুকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতি হবে। সুন্দরবনের বনদস্যুদের কারা অস্ত্র দেয়, কারা বনের মধ্যে চাল-ডাল পৌঁছে দেয়, তা বের করতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা হবে।

এছাড়া আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুদেরকে কেউ যাতে হয়রানি না করে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনে প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে রাজন ওরফে দাদা ভাই বাহিনীর ১৫ জন, হান্নান বাহিনীর ৯ জন, আমির আলী বাহিনীর ৭ জন, সূর্য বাহিনীর ১০ জন, ছোট শামসু বাহিনীর ৯ জন ও মুন্না বাহিনীর ৭ জন আত্মসমর্পণ করেন। তারা মোট ৫৮টি অস্ত্র ও ১ হাজার ২৮৪ রাউন্ড গুলি জমা দেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ২৬টি বনদস্যু বাহিনীর ২৭৪ জন আত্মসমর্পণ করলো।

অনুষ্ঠানে এর আগে আত্মসমর্পণ করা ৫৮ জন বনদস্যুর প্রত্যেককে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ডা. মোজাম্মেল হোসেন, খুলনা সিটির করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচিত তালুকদার আবদুল খালেক।

র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন নৌ পুলিশের ডিআইজি শেখ মারুফ হোসেন, খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, খুলনার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, ভুক্তভোগী জেলে সাহেব আলী, আত্মসমর্পণ করা বনদস্যু বাহিনী প্রধান রাজন প্রমুখ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন