শিরোনাম :

ট্রেনে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগে যাত্রীরা


সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ট্রেনে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগে যাত্রীরা

ঢাকা: ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা ছিল। সড়কে নামার পর তা যে একেবারে হয়নি, তা নয়। তবে মহাসড়কে ভোগান্তি আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম ছিল। গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরে যান চললেও অতীতের মতো স্থবিরতা ছিল না। যদিও ভুগতে হয়েছে ঘাটে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় নদীর তীরে কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের।

সড়কযাত্রার এমন চিত্রের বিপরীতে সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে রেলে। ঢাকা থেকে প্রায় প্রতিটি ট্রেন ছেড়েছে এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে। সবচেয়ে বেশি সাড়ে সাত ঘণ্টা দেরিতে 'লালমনি এক্সপ্রেস' কমলাপুর ছেড়েছে। রাজধানীর উপকণ্ঠের সড়কগুলোতেও এবার যানজট ছিল কম। সব মিলে ঈদযাত্রায় যতটা আশঙ্কা ছিল, এর চেয়ে কম ভুগতে হয়েছে।

গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সড়কের অবস্থা অনেক ভালো। মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি থাকলেও ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ যানজটে পড়ছে না। তিনি বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের খবর মেলেনি। যানজট হবে না, তা একেবারে বলা যাবে না। কখনও গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তা বন্ধ হয়, ফেরির বিলম্বের কারণেও অনেক সময় ঘাটে গাড়ির যানজট হয়। পশুবাহী গাড়িগুলো কিছুটা ধীরে চলে। এ কারণে অন্য গাড়ির গতিও ধীর হয়ে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতি সেতু এলাকায় যানজট এড়াতে ঈদুল ফিতরের মতো এবারও ফেরি চালু করা হয়েছে। গতকাল থেকেই এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

আগামী বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আজ সোমবার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। তাই গত শুক্রবার থেকে অনেকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করলেও আজ অফিস শেষে ঈদযাত্রার ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ কল-কারখানাও ছুটি হবে। এসব কারখানার গ্রামমুখী শ্রমিকদের ভিড়ে সড়কে এরপর থেকে চাপ আরও বাড়বে। ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, এ বিষয় মাথায় রেখেই সড়কের স্পর্শকাতর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় ধীরগতিতে যান চলছে। ঘাট এলাকায় তীব্র যানজট রয়েছে। আর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি পারাপারে বিলম্বে ধীরগতিতে যানবাহন চলছে। পারাপারের অপেক্ষায় থাকা গাড়ির সারি তিন কিলোমিটার ছাড়িয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দাউদকান্দি সেতু এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বাভাবিক যানজট ছিল। ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের অন্যান্য এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও নলকা সেতু এলাকায় গাড়ি চলাচলে ধীরগতি ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সদরঘাট থেকে নৌ চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।

সড়কে ভিড় কম থাকলেও গতকালও উপচেপড়া অবস্থা ছিল কমলাপুর রেলস্টেশনে। অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে না ছাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে বেশ। আধাঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে গতকালের ট্রেনগুলো। ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়ে আড়াই ঘণ্টার বেশি বিলম্বে। সকাল ৯টার 'লালমনি এক্সপ্রেস' কমলাপুর ছাড়ে বিকেল সাড়ে ৪টায়। সকাল ৯টার 'রংপুর এক্সপ্রেস' ছাড়ে দুপুর ১২টায়।

লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রী রফিকুল কবির সকাল সাড়ে ৮টায় স্টেশনে এসেছেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। দুপুর ৩টার দিকে সমকালকে তিনি জানান, গরমে সন্তানরা কান্নাকাটি করছে। দুপুর ২টার দিকে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এলেও ইঞ্জিন লাগানো হয়নি। ট্রেনের ভেতরে গরমে বসা যাচ্ছে না। খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ট্রেনের ছাদে, পাদানিতে ঝুলে যাত্রীদের ঘরে ফেরার চিরন্তন দৃশ্য স্টেশনে দেখা গেছে গতকালও। রেলের কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এ কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে পুরো সূচিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, গত শনিবার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যমুনা এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা আটকে ছিল তেজগাঁওয়ে। এ কারণে কমলাপুরে বহু ট্রেন আটকা পড়ে। এর প্রভাব পড়েছে সব ট্রেনের সূচিতে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন