শিরোনাম :

ঈদুল আজহার ছুটিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৩৮


শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঢাকা: ঈদুল আজহার তিনদিনের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন। এর মধ্যে ফেনীতে ৬, নরসিংদীতে ১১, বগুড়ায় ৫, সিরাজগঞ্জে ৩, কুষ্টিয়ায় ৩, কক্সবাজারে ২ ও নীলফামারীতে ২ জন। এছাড়া রূপগঞ্জ, টঙ্গী, রাঙামাটি, শ্যামনগর, বরগুনা, সখীপুরে একজন করে নিহত হয়।

ফেনী সদরে শ্যামলী পরিবহনের ধাক্কায় একটি অটোরিকশার ৬ আরোহী নিহত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে লেমুয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল আওয়াল বলেন, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি এসি বাস ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলে অটোরিকশার তিন আরোহী নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে আরও ৩ যাত্রী মারা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম জানা যায়নি।

টঙ্গীতে ‘তুরাগ পরিবহনের’ একটি বাসের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় তিনি দুর্ঘটনায় পড়েন। দুপুরে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত বীথি আক্তার পিন্নী (২৫) শরীয়তপুরের টুটুল মিয়ার স্ত্রী। তারা টঙ্গী কলেজ গেইট এলাকায় বসবাস করতেন।

মোটরসাইকেলে করে রাঙ্গামাটি বেড়াতে আসা চট্টগ্রামের এক তরুণ বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু। রাঙ্গামাটির কোতোয়ালি থানার এসআই লিমন ঘোষ জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে জেলা শহরের প্রবেশমুখে মানিকছড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সাহেদ (২০) চট্টগ্রামের রাঙ্‌গুনিয়া উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। আহতরা হলেন তার বন্ধু সুমন তালুকদার (২২) ও সোহেল সিকদার (২২)।

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার সদরের বটতৈল এবং দৌলতপুর উপজেলার তারাগুণিয়া বাজারে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- দৌলতপুরের সাহাবুল (১২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলারর শিপন (২৮)। নিহত অপর এক শিশুর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার এসআই মাহবুব হোসেন জানান, দুপুরে সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজের পূর্বপাশে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী একটি ছাগলবোঝাই ট্রাক ওভারব্রিজে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর উল্টে যায়। এতে ট্রাকে থাকা ১৫ জন ব্যাপারীর মধ্যে দুইজন নিহত হন। অপরদিকে, সলঙ্গায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অজ্ঞাত পরিচয় এক গরুর ব্যাপারী নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালকসহ ছয় জন।

ঈদের দিন সন্ধ্যায় নীলফামারী-সৈয়দপুর প্রধান সড়কের ইকু জুটমিলের কাছে মোটরসাইকেল ও আটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আক্তারুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অপর ২ আরোহী। ওদিকে ২১শে আগস্ট সন্ধ্যায় কিশোরীগঞ্জ-বড়ভিটা সড়কে গরুর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত মোটরসাইকেল আরোহী খায়রুল ইসলাম (৩২) ঈদের দিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এছাড়া ঈদের দিন রাতে কিশোরীগঞ্জের বড়ভিটা ইউনিয়নের পাইকারটারী গ্রামে নিজ বাড়িতে বৈদ্যুতিক তারে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে আতিয়ার রহমান নামের (৬০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।

বগুড়ায় ঈদের দিন সকালে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী ও গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ২ যুবক নিহত হয়েছেন। ঈদের দিন সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়। শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত আরো ১ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতরা হলেন, অটোরিকশার যাত্রী আলিমুদ্দিন প্রামাণিক (৭০), মঞ্জুয়ারা বেগম (৬০) ও অটোরিকশার চালক শফিকুল ইসলাম (৪২)।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা ছেড়ে আসা বগুড়াগামী আল-হামরা পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৮৬৩২) বগুড়ার শাজাহানপুর এলাকার মাঝিড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি বগুড়া থেকে শাজাহানপুরগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত দুইজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তির পর একজন মারা যান।

এদিকে ঈদের দিন সকালে শামীম রেজা (২৬) নামে একজন মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন বগুড়ার শেরপুর শহরের হাসপাতাল এলাকায় খালার বাড়িতে। সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশী চাচাতো ভাই সোহেল রানা (২৫)। মোটর সাইকেলের বেপরোয়া গতির কারনে পথে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিহত হন এই দুই কলেজছাত্র। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় শেরপুর-কাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের বোয়ালকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আল সাদিক (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। ঈদের দিন বিকেলে কাঞ্চন-ছনপাড়া সড়কের ভূইয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ছাব্বির আহমেদ জানান, বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় কেন্দুয়াপাড়া এলাকার নুরে আলম জিকুর ছেলে আল সাদিক তার বড় বোন নাদির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কাটাখালী এলাকায় বেড়াতে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে কাঞ্চন-ছনপাড়া সড়কের ভূইয়া পাড়া এলাকায় পৌঁছেলে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় ছবুরভান বিবি (৬০) নামে এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওয়ালভাংগী বাজার সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি হাওয়ালভাংগী গ্রামের সায়েদ আলী গাজীর স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী মোস্তফা গাজী জানান, সকালের দিকে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পুলিশ মোটরসাইকেলসহ চালককে আটক করেছে।

বরগুনায় দুই গাড়ির মাঝখানে চাপা পড়ে সাইফুল নামে ইসলাম পরিবহনের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। ২২শে আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বরগুনা-বেতাগী আঞ্চলিক মহাসড়কের টাউনহল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধাল মোড় গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক আবদুস সামাদ (৩৫) নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার মহাখালী মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়। নিহত আবদুস সামাদ মির্জাপুর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্সের ওয়ার হাউস (ইন্সপেক্টর) পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার নিজকল্পা গ্রামে।

কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে রামুর জোয়ারিয়ানালা এলাকায় পর্যটকবাহী বাস ও বেলা ১২টার দিকে উখিয়ার উপকূলীয় সোনারপাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কে টমটমের ধাক্কায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের রামুতে পর্যটকবাহী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় বাপ্পি (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর জোয়ারিয়ানালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহত বাপ্পী চকরিয়া উপজেলা সদরের মৃত গণি উদ্দিনের ছেলে ও চকরিয়া সিটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে আহত আশরাফ উদ্দিন (২০) ও একই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

অপরদিকে, উখিয়ার উপকূলীয় মেরিন ড্রাইভ সড়কে টমটমের ধাক্কায় জাফর আলম (৮) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। সে উখিয়ার উপকুলীয় জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রামের আলী হোছনের ছেলে। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঈদের আগের দিনে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস-হিউম্যান হলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাত জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- আবুল হোসেন (৫৫), আব্দুল মিয়া (২৪), মোবারক হোসেন (২৮), সুজন (৩০) ও তার ২৪ বছর বয়সী স্ত্রী (নাম জানা যায়নি), ওলিউর রহমান (২৮) ও হিউম্যান হলারের চালক। বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাভেদ মাহমুদ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহত অন্যদের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বেলাবোর নয়াকান্দি এলাকায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মহাখালীগামী ‘ঢাকা বস পরিবহন’র বাস তিন চাকার বাহনটিকে ধাক্কা দিলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন