শিরোনাম :

নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ


শনিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৮, ০৪:১৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

কক্সবাজার: নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে বিক্ষোভ করেন তারা।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় রোহিঙ্গা নেতারা বক্তব্য রাখেন।

রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আন্তর্জাতিক মহলসহ সবার সহযোগিতা চাই। নির্মম গণহত্যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আমাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

নেতারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনের এক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কোনও উন্নয়ন হয়নি।

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং বাজারের সামনের প্রধান সড়কেও মাথায় লাল ফিতা বেধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন তারা। তাদের দাবি একটাই সম্মানের সাথে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে। মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা তাদের নির্যাতনের বিচার চায়। রাখাইনে তারা সহায় সম্বল নিয়ে বাঁচতে চায়। অধিকার ছাড়া তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না।

কুতুপালং ক্যাম্পের ব্লক-৩ এ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কতো দিন এ দেশে থাকবো? আমরা ফিরে যেতে চাই স্বদেশে। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ, মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে সরকার দ্রুত আমাদের নিয়ে যায়। নিরাপদ প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা টালবাহানা শুরু করেছে।

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, শনিবার সকালে রোহিঙ্গারা নিরাপদ প্রত্যাবাসন, মিয়ানমারে নাগরিকত্ব প্রদান ও মিয়ানমার সরকার এবং সেনাবাহিনী, (বিজিপি) পুলিশ, ও রাখাইন যুবকরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল তার বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের আজকের এই দিনে (২৫ আগস্ট) মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিধনে অভিযান শুরু করে। পূর্ব পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত এই অভিযানে নিহত হয়েছেন কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী। বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন