শিরোনাম :

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর


সোমবার, ৮ অক্টোবর ২০১৮, ০১:২৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি কার্যকর হলো। বিভিন্ন মহলের আপত্তি ও মতামত উপেক্ষা করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার প্রতিবাদে সম্পাদকেরা মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে বৈঠকও করেন আইন, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। গণমাধ্যমের আপত্তিতে থাকা ধারাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে।

গত ৩ অক্টোবর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী মন না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কোন কারণ নেই।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো ৪টি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে।

আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ১১ জন ও স্বতন্ত্র একজন সাংসদ বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই ও আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রস্তাব দেন। তবে এর মধ্যে তিনজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না। আর জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করেছিল মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক্‌স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে।

প্রবল আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল সংসদ বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে। সাংবাদিকদের ৩টি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন