শিরোনাম :

সভা বর্জন ইসি মাহবুবের


সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ১২:১২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সভা বর্জন ইসি মাহবুবের

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার সভা বর্জন করেছেন। আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সোমবার সকাল ১১টায় নির্বাচন কমিশনের ৩৬তম সভা শুরু হয়।

সভায় মতের মিল না হওয়ায় আবারো নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সভা বর্জন করেন তিনি। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিৎ করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নিজেই।

 

মাহবুব তালুকদার জানান, ইসি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারত্বমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে কতিপয় প্রস্তাবনা শিরোনামে আমি যা আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, আমাকে নির্বাচন কমিশন সভায় তা উপস্থাপন করতে দেওয়া হয়নি। অথচ গত ৮ অক্টোবর ইসি সচিবালয় থেকে ইউওনোটের মাধ্যমে আমাকে আজকের সভায় তা উপস্থাপনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে বলে, উপস্থাপন না করতে দেওয়ায় আমি অপমানিত বোধ করেছি।’

১৫ অক্টোবর, সোমবার নির্বাচন কমিশনের ৩৬তম সভা বেলা ১১টার দিকে শুরু হয়। সভার শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সভা বর্জন করেন মাহবুব তালুকদার।

নোট অব ডিসেন্টে মাহবুব তালুকদার লিখেছেন, ‘আমার প্রস্তাবনাসমুহ যাতে কমিশন সভায় উপস্থাপনা করতে না দেওয়া হয়, এ জন্য তিন নির্বাচন কমিশনার এক ও অভিন্ন চিঠি লিখে পৃথক পৃথক ইউওনোটের মাধ্যমে সিইসি তাদের সঙ্গে একমত হওয়ার আমাকে প্রস্তাবনাসমূহ করতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন সভায় আমার বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেওয়ায় তাদের অভিন্ন অবস্থান আমাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে।’

কমিশন সভায় একাদশ জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। সেগুলো হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরকারের সঙ্গে সংলাপ।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘জানানো হয়েছিল। আমাকে আমার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে বলে তা না দেওয়া আমি আপমানিত বোধ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাক প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত আমার মৌলিক অধিকার। নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই আমার এই অধিকার খর্ব করতে পারে না। এমতাবস্থায় অনুন্যোপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের এ রকম সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি এবং এর প্রতিবাদস্বরূপ নির্বাচন কমিশনের সভা বর্জন করেছি।’

সেনা মোতায়েন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনীর মূল্যায়ন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে তাদের ব্যবহার করা যায়, তা ঠিক করতে হবে।’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিষয়ে মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে নির্বাচনে অনিয়মের পথ বন্ধ হয়। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না হলে তা গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশকে সমর্থন করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশন দ্বিপক্ষীয়ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারে।’

নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নিরপেক্ষতা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর নির্ভর করে। নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের নিষ্ক্রিয় রাখা নির্বাচনের কমিশনের একার ওপর নির্ভর করে না। এতে সরকারের সহযোগিতার দরকার হয়।’

ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট ক্ষমতা আছে। কিন্তু ক্ষমতা প্রয়োগে সীমাদ্ধতাও আছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বাস্তবতায় কমিশন ক্ষমতা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর খুব একটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না। ক্ষমতা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কীভাবে আরও নিয়ন্ত্রণাধীন করা যায়, তা দেখা উচিত।’

সরকারের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নির্বাচন কমিশনের বড় অংশীজন। সংলাপে দেখা যায়, কিছু বিষয় রাজনৈতিক বা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ আবশ্যক।’

এদিকে, কমিশন সভায় বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেওয়ার বিষয়ে কমিশনার মাহবুব তালুকদারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

কমিশন সভা শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে কমিশনের বক্তব্য তুলে ধরেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এ সময় তিনি মাহবুব তালুকদারের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ‘মাননীয় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার প্রথমে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন একটা বিষয় এজেন্ডাভুক্ত করার জন্য কমিশনে অনুরোধ করেছেন। সিইসিসহ অন্য তিনজন কমিশনার মনে করেছেন, মাহবুব তালুকদারের যেহেতু এজেন্ডাভুক্ত নয়, কাজেই আজকের এই সভায় আলোচনা করার কোনো কারণ নেই। যেহেতু উনার বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত হয়নি, তাই তিনি (মাহবুব তালুকদার) চলে গেছেন।’

কমিশনারদের মধ্যে অনৈক্য দেখা দিয়েছি কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এটা কমিশনের বিষয়। এ বিষয়ে সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে মন্তব্য করতে চাই না।’

জানা যায়, বিভিন্ন বিষয়ে মতের মিল না হওয়ায় এবং তার মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন না করার কারণে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন তিনি। সভা শুরু হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট পর সভা বর্জন করে বের হয়ে নিজের রুমে চলে আসেন এ কমিশনার।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট কমিশনের ৩৫তম সভাও নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বর্জন করেছিলেন তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন