শিরোনাম :

রাজস্বে ৬ মাসে ঘাটতি ২৯ হাজার কোটি টাকা


বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাজস্বে ৬ মাসে ঘাটতি ২৯ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা: রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা হোঁচট খেয়েছে কয়েক মাসে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৯৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।


তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় বেড়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশ। যদিও গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায়ে বেশি পিছিয়ে এনবিআর। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজস্ব আদায় এত কম হওয়ায় রাজস্ব বোর্ডেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে রাজস্বেও গতি মন্থরতার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে এনবিআরের কাছে। কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়ার কারণ খোঁজার চেষ্টা করছে এনবিআরও। এ নিয়ে কয়েক দফা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে গত ছয় মাসে রাজস্ব আদায় এত কমে যাওয়ার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারাও। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের সময় হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে কিছুটা প্রভাব পড়বে। কিন্তু রাজস্ব এত কমে যাওয়ার কারণ বোধগম্য নয়। হঠাত্ করে তো এনবিআরের দক্ষতাও কমে যাওয়ার কথা নয়। অবশ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু খাতে কর ছাড় একটি কারণ হতে পারে। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বাড়ছে কিনা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি রোধ করতে এনবিআরের তদারকি বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে ৪০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আমদানি শুল্ক আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায় হয়েছিল ২৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। অর্থাত্ গত ছয় মাসে শুল্ক আদায় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশের বেশি। গত ছয় মাসে ৫০ হাজার ২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৩৬ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে গত ছয় মাসে আদায় বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এ দুটি খাতের চাইতে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি, প্রায় ১১ শতাংশ। তবে আয়কর খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে প্রায় পৌনে সাত হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে সরকার কয়েকটি জনবান্ধব খাতে আয়কর, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ছাড় দিয়েছে। এ কারণে রাজস্বে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ছাড় দেওয়ায় এ খাত থেকে চলতি বছর প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব কমবে। অন্যদিকে ইন্টারনেট সেবায় ভ্যাট ছাড় এবং কিছু খাতে কর ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্বে। এছাড়া পেট্রোবাংলাসহ কয়েকটি খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব বকেয়া পড়ে থাকলেও সমন্বয়ের অভাবে ওই অর্থ আদায় হচ্ছে না। কেবল পেট্রোবাংলার কাছেই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রয়ে গেছে। এনবিআরের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। এসব কারণে রাজস্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ ইত্তেফাককে বলেন, গত বছরগুলোতে রাজস্ব আদায়ে যে প্রবৃদ্ধি ছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার ধারেকাছেও নেই। এটি উদ্বেগের। এক্ষেত্রে এনবিআরের মনযোগ কম ছিল কিনা - সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে ফাঁকি ও কারসাজি হতে পারে। এসব বিষয়ে এনবিআরের নজরদারি বাড়ানো দরকার।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন