শিরোনাম :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ দরকার


বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিবেশ দরকার

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার ভূয়সী প্রশংসা ক‌রে‌ছেন জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তি‌নি ব‌লেন, শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন তিনি।

বুধবার রা‌তে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা ব‌লেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত। এ সময় জোলি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতা বর্তমানে পৃথিবীতে খুবই কম।

সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

জোলি বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ওপর বিশাল বোঝা সৃষ্টি করেছে। আশ্রয় শিবিরগুলোতে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের দেখভাল করা খুবই কঠিন কাজ।

এ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ, ইউএনসিএইচআর ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বোঝা লাঘবে একযোগ কাজ করবে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ওপরও জোর দেন।

জোলি বিশেষ করে রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে সহযোগিতার চেষ্টা করার সত্ত্বেও তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট অবশ্যই সমাধান করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী এবং তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বে হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। পাশপাশি এরই মধ্যে আশ্রয় শিবিরগুলোতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার মতো নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এক লাখের বেশি শরণার্থী সেখানে অপেক্ষাকৃত উন্নত পরিবেশে সাময়িক আশ্রয় পাবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের এক কোটির বেশি লোক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ দেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে তার মাসহ তিনি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দী থাকার এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ৬ বছর ধরে তার নির্বাসনে থাকার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন জোলি। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পরিদর্শনের পর দর্শনার্থী বইয়ে জোলি লিখেন, এই বিশেষ বাড়িটিতে এসে আমি বেশ আবেগাপ্লুত। বাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে জেনে আমি কৃতজ্ঞ।

তিন দিনের সফরে গত সোমবার ঢাকা আসেন জোলি। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজারে চলে যান। দুদিন ধরে তিনি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

পরে মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে শিবির পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন জোলি। তিনি ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে এই সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে সচেষ্ট হওয়ারও আহ্বান জানান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন