শিরোনাম :

ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সংকট


শুক্রবার, ২ আগস্ট ২০১৯, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সংকট

ডেস্ক: দেশের ৬৪ জেলায় এখন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জেলা থেকে উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগটি। জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগটি শনাক্তের পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে- 

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জেলা শহর থেকে শুরু করে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এদিকে ভোলার একমাত্র সরকারি সদর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের উপাদান না থাকায় পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১
জেলা জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গত ১ সপ্তাহে দ্বীপ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে ১০ জন রোগী আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে রোগ শনাক্ত করার জন্য হাসপাতালে নেই ডেঙ্গু শনাক্তের ব্যবস্থা।

ডেঙ্গু রোগে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। ভোলা সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের কামাল মিয়া (৩০) ঢাকাতে বেড়াতে গিয়ে বাড়িতে এসে জ্বরে আক্রান্ত হলে পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু কামাল হোসেন নয় তার মতো এখন অনেকেই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস নিয়ে এসেছেন।
ভোলা সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানায়, প্রতিদিন এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে কয়েক শতাধিক রোগী। সেবা নিতে আসা আগত রোগীদের রুটিন করে প্রতিদিন সচেতন করা হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে। বলা হচ্ছে, ডেঙ্গু জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবে না বলে জানান সিভিল সার্জন। এত কিছুর পরেও এই হাসপাতালে প্রতিনিয়ত ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা। গত ১ সপ্তাহে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ঢাকাতে বেড়াতে কিংবা ঘুরতে গিয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। যারা বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ভোলা সদর হাসপাতালে। রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়স্বজনরা জানান, আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সামান্য জ্বর হলেও ভর্তি করাচ্ছি হাসপাতালে। কিন্তুু চিকিৎসা নিতে গিয়ে পরতে হচ্ছে বিপাকে। হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে টেস্ট করাতে হচ্ছে। সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা ৫০০ টাকার কথা বলা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকার ওপরে। ফলে অনেক রোগী ও অভিভাবক হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে: বৃহস্পতিবার হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা সকল প্রকার প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সেবা চালুর উদ্বোধন ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসার খোঁজ খবর নেয়ার সময় এসব কথা বলেন। দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরা সবাই ঢাকা ফেরত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে আরো ৫ রোগী। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে ফিরেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা সকল প্রকার প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সেবা চালুকরণের উদ্বোধন ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগীর চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছেন।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গতকাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন আরো চার জন। এরা হলেন- স্থানীয় চামুরকান্দী এলাকার মৃত মহিজ উদ্দিনের ছেলে আলম মোল্লা (৩৭), পাঁচবাড়িয়া এলাকার নুরুল হকের ছেলে রিয়াদ (২৬), ব্রাহ্মন্দী এলাকার মনসুর আলীর ছেলে আনোয়ার (৪৫) ও বিশ্বনন্দী এলাকার জহিরুলের মেয়ে বৈশাখী (১৪)।
শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে ৭ দিনের ব্যবধানে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১লা আগস্ট) পর্যন্ত কেবল জেলা সদর হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন ১৪ ডেঙ্গু রোগী। ইতিমধ্যে আরো ৯ জন রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেলেও একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে আলাদা একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো ৪ জন। এ ছাড়া স্থানীয় একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন আরো ৭ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, এরা প্রত্যেকেই ঢাকা থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শেরপুরে ফিরে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে: ডেঙ্গুকে পুঁজি করে রমরমা ব্যবসায় মেতেছে খুলনার কিছু বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক। এদের মধ্যে সবার আগে নাম আসছে সন্ধানী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দুই-তিনগুণ বেশি ফি নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার নামে কালো ব্যবসা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ৩০শে জুলাই মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে গুনতে হয়েছে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা। কিন্তু, তাতেও দমে যায়নি প্রতিষ্ঠানটি। উল্টো ডেঙ্গু পরীক্ষা করাই বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ! রোগীরা এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন বাধ্য হয়েই।
অভিযোগ উঠেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসক তাদের রোগীদের সন্ধানী থেকে পরীক্ষা করাতে বলেন। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন পান তারা। এ ছাড়া সন্ধানীর টেস্টের মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।
৩০শে জুলাই মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম ও ইমরান খান।
স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ থেকে: রূপগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় ‘শতাধিক রোগীর আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে রূপগঞ্জ উপজেলায়। প্রতিদিন বেড়েই চলছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা সুবিধা না থাকায় শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সী রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষায় ভিড় করছেন স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে। অলাভজনক রোগ হওয়ায় ক্লিনিকগুলোতেও ভর্তি না নিয়ে ঢাকায় হস্তান্তর করছেন অনেক ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। আবার অনেক প্রাইভেট হাসপাতালেও নেই সবধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা। এতে করে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন রোগীর স্বজনরা।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুর হাসপাতালে ২জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। এরা হলেন- উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামের আহমদ আলীর মেয়ে স্বপ্না (২০) ও দৌলতপুর সেন্টারপাড়ার আনারুলের ছেলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজ (১৭)।
চাঁদপুর প্রতিনিধি: গত কয়েকদিনে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশ রোগীই ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ২৪ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১১ রোগী।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগের গাইড লাইন অনুযায়ী আক্রান্ত রোগীর তারা চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৮৬ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। বর্তমানে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়া হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে: কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গত নয় দিনে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫ জন। বাড়িতে চলে গেছে একজন এবং ৪ জন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে টেস্টের পর ৪ ডেঙ্গু রোগ বহনকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন- মেহেদী হাসান (১৮), বিসি রায় (২৪), শ্রেষ্ঠ (২২) এবং আরিফ (২৬)। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানান, বৃহস্পতিবার ১২ জন রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের রেজাল্ট এখনো আসেনি। ফলে রোগীর সংখ্যা বাড়তেও পারে। এদের সকলেই আগে ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় আবারো ডেঙ্গুবাহী জীবাণু পাওয়া গেছে।
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা জেলায় গতকাল পর্যন্ত ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি রয়েছে এবং আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ভর্তি রয়েছে। ২ জনের অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিদিনই ২-৩ জন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগী বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ ব্যাপারে বরগুনা পৌর কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে বিভিন্ন ড্রেন, জলাশয়ে মশা নিধন স্প্রে প্রয়োগ করছে তারা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন