শিরোনাম :
মানবতাবিরোধী অপরাধ

ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড


বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭, ০১:২৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক প্রতিবেদন: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার সাবেক এমপি আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি আমির হোসেন ও মো. আবু আহমেদ জমাদার।রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও রায় মনপুত না হওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।এসব আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়।এর মধ্যে দুটিতে সব আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং বাকি একটি সবার আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

তিন অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে গাইবান্ধার মৌজামালি বাড়ি গ্রামে গিয়ে লুটপাট, স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে আটক, অপহরণ ও নির্যাতন এবং পরে দাড়িয়াপুর ব্রিজে নিয়ে একজনকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

দ্বিতীয় অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগ নেতা মো. বয়েজ উদ্দিনকে ধরে মাঠেরহাট রাজাকার ক্যাম্প এবং থানা সদরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে গুলি করে হত্যা করে তার লাশ মাটির নিচে চাপা দেয়ার ঘটনায় ছয় আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থানার পাঁচটি ইউনিয়নে স্বাধীনতার পক্ষের ১৩ জন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে আটক করে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে নদীর ধারে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও আসামিদের সবার প্রাণদণ্ডের রায় এসেছে।

এর আগে এই আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গেলো ২৩ অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

আব্দুল আজিজ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। ছয় আসামির মধ্যে মো. আব্দুল লতিফ কারাগারে আছেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক।

এর আগে বিচারিক কাজ শেষে মামলাটি গেলো ৯ মে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।কিন্তু গত ১৩ জুলাই বিচারপতি আনোয়ারুল হকের মৃত্যু হলে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম থমকে যায়।

পরবর্তীতে বিচারপতি শাহিনুরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ট্রাইব্যুনাল থেকে হাই কোর্টে ফিরে যান।তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে নতুন যুক্ত হন বিচারপতি আমির হোসেন ও আবু আহমেদ জমাদার।

ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হওয়ায় বিচারকরা রায় দেয়ার আগে আবারও এ মামলার যুক্তিতর্ক শোনার সিদ্ধান্ত দেন গত ১২ অক্টোবর। সে অনুযায়ী ২২ অক্টোবর নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। দুই দিন শুনানির পর মামলাটি আবারো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি করেন সায়েদুল হক সুমন ও সৈয়দ হায়দার আলী। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শেখ মুশফিক কবির।

অন্যদিকে আসামিদের মধ্যে লতিফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার রেজাউল এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

আজিজসহ গাইবান্ধার এই ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর। এক বছরের বেশি সময় তদন্তের পর ছয় খণ্ডে ৮৭৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত সংস্থা ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ওই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করলে প্রসিকিউশন শাখা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর বর্তমান গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান আসামিরা। এর ওপর শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গতবছর জুনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।

এর আগে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের পলাতক দেখিয়েই এ মামলার কার্যক্রম চলে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন