শিরোনাম :

টানা তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারে : ইসি


মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

টানা তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারে : ইসি

ঢাকা: ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গত বছর আয় ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০১৭ সালে দলটির আয় হয়েছে ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৬ টাকা, আর ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা। ফলে গত বছর ৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার ১১৭ টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে দলের বার্ষিক হিসাব জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলটির দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

তিনি বলেন, আয়ের প্রধান উৎসের মধ্যে রয়েছে দলের নতুন ভবন নির্মাণে অনুদান, দলের সদস্যদের কাছ থেকে বার্ষিক চাঁদা, ব্যাংকের টাকা থেকে লাভ ইত্যাদি।

আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, আর ব্যয়ের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে দলের ভবন নির্মাণ, কর্মচারীদের বোনাস-বেতন, আপ্যায়ন, সভা-সেমিনার, ইউটিলিটি বিল ইত্যাদি।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর সবুর।

বিএনপি এবং জাপাসহ বাকিরা এ বছর যথাসময়ে হিসাব জমা দিলেও আওয়ামী লীগসহ সাতটি দলকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত সময় দেয় নির্বাচন কমিশন।

এবার বিএনপিরও ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি। একাদশ সংসদের আগে ২০১৭ সালে দলটির ব্যয় মিটিয়ে এখন উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় সোয়া ৫ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৯ টাকা। আয় বেশি হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৯ টাকা।

২০১৫ সালে দলটির আয় হয়েছিল ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর ব্যয় ছিল ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। অর্থাৎ সে সময় দলটি প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত দেখিয়েছিল।

২০১৪ সালে দলটি আয় দেখিয়েছে ৯ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। আর ব্যয় দেখিয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। এতে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল আওয়ামী লীগের।

২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ আয় দেখিয়েছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর ব্যয় দেখিয়েছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকার দলটির উদ্বৃত্ত ছিল।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে নিবন্ধিত দলকে প্রতি পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষা করিয়ে পরের বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে নিবন্ধিত দলগুলোকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন।

কোনো দল পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে নির্বাচন কমিশন চাইলে তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন