শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি

বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ


শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৩৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ঢাকা, ০৭ সেপ্টেম্বর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাড়তি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে সহকারী পরিচালক মো. শফিউল্লাহকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দুদকে আসা একাধিক অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে এ-সংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে এসব তথ্যে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় এ সংস্থা।

দুদকের দায়িত্বশীল কেউ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জনশক্তি রপ্তানিতে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে যাঁরা যুক্ত আছেন, তাঁদের সম্পদের অনুসন্ধানে বেশি নজর দেওয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক (রিক্রুটিং এজেন্সি) একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ‘জি টু জি প্লাস’পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাত। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই অভিযোগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে জি টু জি প্লাসপদ্ধতিতে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়ান সরকার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সভাপতিত্বে ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কমিটির বৈঠকে কর্মী নিয়োগের বিশেষায়িত পদ্ধতি এসপিপিএ (যা জি টু জি প্লাস নামে পরিচিত) থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে জি টু জি প্লাস (সরকারি-বেসরকারি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া হয় অনলাইনে। এর এক বছর পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া গেছেন প্রায় দুই লাখ শ্রমিক। জনপ্রতি ৩৭ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। এই হিসাবে অতিরিক্ত সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ ওই চক্রের প্রধান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশীয় নাগরিক মোহাম্মদ আমিন বিন আবদুন নূর। মালয়েশিয়ায় বসে তিনি সেখানকার রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলাসহ প্রভাবশালীদের নিয়ে সিনারফ্ল্যাক্স নামে একটি কোম্পানি তৈরি করেন। সিনারফ্ল্যাক্স বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়ার দায়িত্ব পাওয়ার পর শুধু এখানকার নির্দিষ্ট ১০ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ করত।

বাংলাদেশের ১০ এজেন্সি হলো ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড, ক্যারিয়ার ওভারসিজ, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, এইচএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, সানজারি ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম ও আল ইসলাম ওভারসিজ।

ইউনিক ইস্টার্নের স্বত্বাধিকারী জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সমিতি বায়রার সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের মালিক মো. নূর আলী। প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটসের মালিক আরিফ আলম। তিনি একজন মন্ত্রীর শ্যালক। ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক বায়রার সদ্য সাবেক মহাসচিব মো. রুহুল আমিন। রাব্বী ইন্টারন্যাশনালের মালিক বায়রার সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ বশির।

প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজমের মালিক বায়রার সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা। এর সঙ্গে যুক্ত আছেন ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের প্রথম সারির একজন নেতা। সানজারি ইন্টারন্যাশনালের মালিক শেখ আবদুল্লাহ।

ক্যারিয়ার ওভারসিজের মালিক রুহুল আমিন ও বদরুল আমিনরা তিন ভাই। আল ইসলাম ওভারসিজের মালিক জয়নাল আবেদীন জাফর। তিনি পদ্মা ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পরিচালক। আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের পরিচালক তুহিন সিদ্দিকী। আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক মো. রুহুল আমিন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন