শিরোনাম :

বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন


বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকা: ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হামলার সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ অক্টোবর) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এর মাধ্যমে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ১৪ বছর এবং এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রথম অভিযোগপত্র দাখিলের ১০ বছর পর রায় ঘোষণা হলো।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার রায় ঘোষণার জন্য গত ১৮ই সেপ্টেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। ওই দিন মামলার সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়। শুনানি নিয়ে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৩০শে মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দকে জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ৫২ আসামির নাম থাকলেও অন্য মামলায় জামায়াতের সাবেক নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় মামলার আসামি সংখ্যা এখন ৪৯ জন। এর মধ্যে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় ৩৮ জন আসামির নাম রয়েছে। যারা হত্যা মামলারও আসামি। আসামিদের মধ্যে ৮ জন জামিনে রয়েছেন, ১৮ জন পলাতক ও ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। আইন অনুযায়ী পলাতকদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ সম্পন্ন হচ্ছে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও তাদের স্বজনরা মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন বলে জানিয়েছেন।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০১২ সালের মার্চে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর সাড়ে ছয় বছর ধরে বিচারকাজ চলছে। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামি হিসেবে রয়েছেন, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চারদলীয় জোট সরকারের তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক ভূমি উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম মহাসচিব হারিছ চৌধুরী। এই মামলায় প্রথম দফা অভিযোগপত্রে ২২ জন আসামি থাকলেও অধিকতর তদন্তে বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

২০১২ সালের ১৮ই মার্চ দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ গঠন করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক। এর আগে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ই জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগপত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপ-মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি নেতা মুফতি হান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) সহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মামলার অধিকতর তদন্ত শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২রা জুলাই সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন