শিরোনাম :

কৃপা নয়, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচুন-বাঁচান


শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০১৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কৃপা নয়, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচুন-বাঁচান

কবির য়াহমদ

এটা দুঃখের বিষয় যে, শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর পরিবারের সদস্য মাকসুদুল হায়দার চৌধুরী, কবি প্রান্ত পলাশ ও বাংলামেইলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাহাদাত উল্যাহ খানের বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিপরীতে জোরালো কোনো কথা বা দাবি ওঠেনি। খোদ সাংবাদিকদের কাউকে কথা বলতেও দেখা যাচ্ছে না। সাংবাদিকদের বাইরে শিক্ষিত, সজ্জন, সুবিবেচনাপ্রসূত দাবিদারদের কাউকেও কিছু বলতে দেখা যাচ্ছে না। কেন এমন হচ্ছে তা জানিনা। হতে পারে সবাই ভাবছে আমি নিরাপদ, তাই চুপ থাকি। কিন্তু আদতে কেউ কি নিরাপদ? আজ যিনি নিজেকে নিরাপদ ভাবছেন, একই পেশার লোক হয়েও চুপ করে বসে আছেন, সেই কোনকালে নিজেদেরকে সচেতন দাবি করে বসে আছেন; কাল তিনি বা তারা এমন অবস্থায় পড়লে তখন অন্যেরাও একই ভূমিকা পালন করলে তাঁর অথবা তাঁদের কি কিছু করার থাকবে? হ্যাঁ, ভাবতে পারেন- আমি ত ভুল করিনি, কিংবা করব না। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কী, চাইলে অবিসংবাদিত কোনো সত্যেও অন্য কেউ ভুল ধরে কিংবা নিজের খেয়ালখুশিমতো বিশ্লেষণ করে অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে দাবি করে বসতে পারে। আর তা যদি হয় ক্ষমতাধরদের কারও মাধ্যমে তখন সেখানে যুক্তির ব্যাপারটা হয়ে পড়বে ঠুনকো। তখন?

খুব বেশি দূর যাওয়ার দরকার নেই। মনে করে দেখুন- যখন লেখক-ব্লগারদের ওপর ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের একের পর এক আক্রমণ হতে থাকল তখন এক শ্রেণির লোক বিচারের দাবি তো দূরের কথা খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দোষত্রুটি খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এরপর একে একে যখন অন্য শ্রেণী-পেশা এমনকি মসজিদের ইমামও একইভাবে আক্রোশের শিকার হচ্ছেন এবং ক্রমাগত আস্কারা দিয়ে বড় হতে সাহায্য করা সংঘবদ্ধ জঙ্গি হামলায় পুরো দেশ হুমকির মুখে পড়েছে, তখন অনেকেই বুঝতে পারছেন সমস্যার ভয়াবহতা। অথচ দেরিতে বোঝার কারণে পিছনে খুব বেশি জায়গা নেই নিজেদের রক্ষা করার! দেখুন, একদা যাকে ছোট ব্যাপার বলে ধরে নিয়েছিলেন সেটা কত বড় আকার ধারণ করেছে আজ।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো অবশ্যই খারাপ কাজ হয়েছে। এ ধরনের কাজ পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো হয়েছে এমন তো না। জর্জ ডব্লিউ বুশের মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল, ফিডেল ক্যাস্ট্রোর হয়েছিল, মার্গারেট থ্যাচারের হয়েছিল, মার্ক টোয়েনের হয়েছিল, দ্বিতীয় পোপ জন পলের হয়েছিল, সাহিত্যিক এস.টি. কোলেরিজসহ আরও অনেকেরই হয়েছিল; কিন্তু এর বিপরীতে কাউকে শাস্তি হিসেবে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়নি, জেলে পুরেনি, মিডিয়ার মুখ জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। তারা ভুলকে সাধারণভাবে দেখে নিজের মহত্ব দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছে; আবার কেউ কেউ সেখান থেকেও মজা নিয়েছে। যে বুশের অঙুলি হেলনে দেশে দেশে যুদ্ধের দামামা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র, সেই বুশ চাইলে সংশ্লিষ্টদের একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু করেননি। ক্ষমতায় ছিলেন না, তাই বলে কি কোনো ক্ষমতাই নেই, তা তো না!

ফিরে আসি সাংবাদিক প্রসঙ্গে। দেশে ছোট্ট এক ভুল সংবাদে যখন ভয়াবহ এক কাণ্ড ঘটে গেছে তখন সাংবাদিকদের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কেন নেই জানি না। তবে এ প্রসঙ্গে বারবার মনে পড়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো প্রেস ব্রিফিংয়ের তাদের ভূমিকা। বিনত ভঙ্গি আর অতিপ্রশংসার প্রতিযোগিতা দেখে মাঝে মাঝে মাথা গুনি কৃপাপ্রার্থীর। এত কৃপাপ্রার্থী যদি হয় দেশে, তবে কৃপাদাতারা কত বিলিয়ে দিতে পারে কৃপার গোলাপজল?

লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক। সম্পাদক, সিলেট টুডে২৪ ডটকম

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি অনলাইন এবং বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন