শিরোনাম :

মোবাইল অ্যাপস’র কারিগরী শিক্ষা বদলে দিবে বাংলাদেশ


শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মোবাইল অ্যাপস’র কারিগরী শিক্ষা বদলে দিবে বাংলাদেশ

ড: শাহ্ জাহান মিয়া

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে বাংলাদেশের আইসিটি এর উন্নয়ন এখন রুল মডেলে পরিণত হয়েছে। প্রেরণার দিক থেকে দেখলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা একটি বিস্ময়।

ছোট্ট এই ভূখণ্ড যেখানে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি’র উপরে এবং আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার অভাবনীয় চাপ, সেখানে স্বভাবত কারণেই সমস্যা সমূহ যেমন দারিদ্রতা, বেকারত্ব, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রয়ে গেছে সর্বত্রই।

যার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যে গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পাচ্ছিল না সেই গতির ধারা। এদেশে এক সময় অর্থনৈতিক চালক ছিল কৃষির উন্নয়ন এবং তারপরই পোষাক শিল্প যদিও সেখানে অনেক বাধা এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতা তো আছেই। এত বাধার পরেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারার চালক হিসাবে ধরে রেখেছে রেমিটেন্স এর অর্জন। প্রতি বছরই বৈদেশিক মুদ্রার অর্জন তার পূর্ববর্তী রেকর্ড অতিক্রম করছে, কিন্তু এই অতিক্রমের ধারা আরও ত্বরান্নিত করা যেতে পারে।

বর্তমান পৃথিবীতে তথ্য ও প্রযুক্তির গবেষণা, ব্যবসা এবং নানাবিধ বিকাশে আমাদের একটা ভাল পথপ্রদর্শক হতে পারে নতুন আইসিটি ভিত্তিক অর্থনৈতিক গঠন। এই অর্থনীতি বিশ্বব্যপি কারিগরী জ্ঞানের সমৃদ্ধি প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে যা আমাদের তরুণ সমাজের মাধ্যমেও সম্ভব। অতীতের সরকারগুলোর অব্যবস্থাপনায় যেটাকে উদ্ধুদ্ধ করা হয়নি।

সুতরাং বর্তমান সময়ে সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগে দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে। বিশ্ববাজারের উপযুক্ত কারিগরী প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে বিশেষ করে মোবাইল অ্যাপস বিষয়ক কারিগরী শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।

বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান GARTNER প্রকাশিত তথ্য মতে ২০১৭ সালের শেষের দিকে মোবাইল অ্যাপস এর বাজার চাহিদা হবে আইটিসি সংস্থার মোট দক্ষতার ৫ গুণ এরও বেশি। তাদের মতে ২০১৯ সাল নাগাদ মোবাইল অ্যাপস এবং মোবাইল ফোন এর বিক্রি দাড়াবে ২.১ বিলিয়ন একক। আর এখানে উচ্চ সাফল্যের এবং ক্রেতার নিত্য ব্যবহার্য অ্যাপস গুলোই হবে মূল আকর্ষণ।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মূলক এই শ্রম বাজারে বাংলাদেশও জনশক্তি রপ্তানি করতে পারে এই প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে। বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্থনীতিতে যোগ হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে?

একটা সম্ভাব্য ভাবনা হতে পারে আমাদের বিপুল সংখ্যক তরুণ সমাজ যারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সেই পেশা সম্পর্কিত মোবাইল অ্যাপস তৈরির জ্ঞান বিকাশ।

এই মোবাইল অ্যাপস সম্পর্কিত কারিগরী শিক্ষায় কতগুলো বিষয় খুবই অপরিহার্য যেমন ১০ টি বিষয় উল্লেখ্য। প্রায় ২০০ মোবাইল অ্যাপস বিষয়ক গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি এই ১০ টি বিষয় যেমন: সিকিউরিটি, প্রাইভেসি, লিটারেসি, একসেসসিবিলিটি, একসেপটিবিলিটি, রিলায়াবিলিটি, ইউসিবিলিটি, কনফিডেন্সিবিলিটি, ইনট্রিগ্রিটি এবং নলেজ সেয়ারিং সম্পর্কিত মোবাইল অ্যাপস ডিজাইন জ্ঞানের আওতায় থাকতে হবে। এছাড়াও GARTNER মনে করে চারটি বেষ্ট ডিজাইন প্রেকটিস কারিগরী প্রশিক্ষণকে আরও ত্বরান্নিত করতে পারে।

প্রথমত অ্যাপলিকেশনস বিল্ডিং এর কাজগুলো হবে ফ্রাষ্ট কাম ফ্রাষ্ট সার্ভিস ভিত্তিতে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এবং ভোক্তার প্রাধান্যই আগে। দ্বিতীয়ত ট্রেডিশনাল আইটি ডেভলপমেন্ট পদ্ধতিগুলো সমূলে পরিবর্তন করে রেপিড ইনোভেশন সাপোর্ট করে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, ফলে কাজের হাই প্রোডাকটিভিটি আসবে।

তৃতীয়ত, রেপিড মোবাইল অ্যাপলিকেশন টোলস্গুলো ব্যবহারের জন্য হাতের কাছে রাখতে হবে। কারণ মোবাইল অ্যাপস এ সঠিক ভিজুয়ালাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই টোল গুলো খুবই সাহায্যকারী।

সবশেষে, মিক্সড সোর্সিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে সর্বত্র। এর অর্থ শুধুমাত্র পিউর ইন হাউস কখনোই ডেভলপারদের মাল্টি অ্যাসপেক্ট এ সাফল্য অর্জন করতে দিবে না। ফলে আউটসোর্স বা থার্ড পার্টি অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ইস্যু ভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত বিষয়গুলোর উপর নজর দিলে এবং কারিগরী শিক্ষার কারিকুলাম গুলোতে বিস্তর রিডিজাইন করলে আমরা হতে পারবো আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। আইসিটি শিক্ষায় শিক্ষিত, বিশেষ করে মোবাইল অ্যাপস এর উপর জ্ঞান সমৃদ্ধ তরুণরাই আমাদের অর্থনৈতিক রূপ বদলে দিবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তো বটেই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে, এই সরকারের এবং জনগনের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌছতে। এতে করে সরকারের ভিশন ২০২১ এ উল্লেখিত ২০ লক্ষ আই.সি.টি তরুণ-তরুণী, ৪০ লক্ষ আইসিটি তরুণ-তরুণী সমান সাফল্যতা দেখাতে সক্ষম হবে। এভাবে বাংলাদেশ হতে পারে আইসিটি তে পৃথিবীর অন্য দেশের রুল মডেল।

লেখক: সিনিয়র একাডেমিক এবং আইসিটি বিষয়ক গবেষক, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন, অষ্ট্রেলিয়া

এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন