শিরোনাম :

জেগে উঠেছে যুগের ধর্ষণকামী সন্তানেরা


শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৬, ০৭:২১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জেগে উঠেছে যুগের ধর্ষণকামী সন্তানেরা

ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি সমাজের প্রসব বেদনা চলছে। জন্ম নিচ্ছে ধর্মীয় মূল্যবোধ বিবর্জিত একটি সমাজ। একটি পশুর জন্ম দিতে গিয়ে রক্তক্ষরণে মরে যাচ্ছে মা।

রক্তে ভাসছে পূজা, তনু, খাদিজাসহ আরো অনেকের নাম যারা স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। শুয়োপোকা থেকে জন্ম নিচ্ছে প্রজাপতি। এই বয়ঃসন্ধি বা ট্রানজিশান পিরিয়ড পার হতে পারলেই আমরা পশ্চিমাদের মতো একটি ফ্রি সেক্সের দেশে পরিণত হতো পারব। মানুষকে এত রিস্ক নিয়ে শিশু ধর্ষণ করতে হবে না।

ব্যভিচারের প্রতি আমাদের যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিটা আছে সেটা তো প্রাচীন ধর্মীয় মূল্যবোধের তলানিমাত্র। সেটা ঝেটিয়ে বিদায় করতে বেশিদিন লাগবে না। আমরা তাকিয়ে আছি পশ্চিমে আর হাঁটছি পুবে- এই দ্বিরাচরণ আমাদের সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করে রাখছে। মানুষের অবদমিত কামনা চরিতার্থ করার অবাধ সুযোগ যদি সৃষ্টি করা যায়, তাহলে এই বর্বর বিকৃতি থেকে আমাদের নারী-শিশুরা রক্ষা পাবে।
.
পশ্চিমা সমাজে মানুষের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার অবাধ সুযোগ রয়েছে। তারা পাঁচশত বছর ধরে ধর্মকে জাতীয় জীবন থেকে নির্বাসন দিয়েছে, ব্যক্তিগত জীবনদর্শন থেকেও অনেকাংশে ধর্মীয় মূল্যবোধ লুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের সমাজে নগ্নতা একটি অধিকার। মানুষ তো পোশাক ছাড়াই এসেছিল সুতরাং সেভাবে থাকাই তো প্রাকৃতিক, এমন ধারণা সেসব দেশে বেশ জনপ্রিয়। এর চর্চাও হচ্ছে কম-বেশি। আমাদের দেশেও ধর্মীয় মূল্যবোধের পোকাটি চোখ থেকে বের করে দিতে পারলেই, নারীরা যতই খোলামোলা চলুক সেটা পুরুষদের দৃষ্টিতে সয়ে যাবে, ওটুকুতে আর কাম জাগ্রত হবে না। তখন আজকের প্রাচ্যের হাভাতে পুরুষরা আর খাই খাই দৃষ্টিতে খোলামেলা পোশাক পরা নারীদের দিকে চেয়ে থাকবে না।
.
সেসব দেশের পর্ণগ্রাফি, সেক্স গেইম আমাদের দেশে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। স্কুলের ছাত্রদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন, তারা এসব ছবির নিয়মিত দর্শক। আর এই দর্শকদের ক্ষেত্রে এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, ঘুমিয়ে আছে ধর্ষকামী দর্শকেরই অন্তরে। উন্নত দেশগুলোতে সমকামিতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে, তাদের অনুকরণে আমাদের দেশেও জন্ম নিচ্ছে তাদের প্রবল সমর্থক। দিন পাল্টাচ্ছে, মূল্যবোধ পাল্টাচ্ছে। তারা স্টাইল করে বলছেন, আমি নিজে সমকামী নই, তবে সমকামীদের অধিকারকে আমি সাপোর্ট করি।
.
যারা মনে করেন মেয়েরা হেজাব করলে ধর্ষণ কমবে তাদের জবাব তনু দিয়ে গেছে। আবার যারা বলে শক্ত সাজা দিলে বা কিছু কর্তন করে দিলে ধর্ষণ বন্ধ হবে তারাও অসম্পূর্ণ কথা বলছেন। অপরাধ নির্মূলের জন্য সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা দূর করা। যেখানে টিভি খুললেই দেখা যায় উদ্দাম বক্ষপ্রদর্শনী, শিশুদের ব্যবহার করে উদ্দীপক নাচের আয়োজন, সবখানে কেবল হট আর হট, সেখানে মানুষ কী শিখছে?

আইন শক্ত থেকে শক্ত করুন, ইসলামের আইন লাগবে না সেটা তো বর্বর, আরো কঠিন আইন করুন লাভ নেই, যদি না যৌনতার কমার্শিয়াল প্রয়োগ বন্ধ করতে পারেন, যদি না উন্নত স্বর্গভূমি পশ্চিমা বস্তুবাদী সভ্যতার মানসিক দাসত্ব থেকে মগজকে মুক্ত করতে পারেন।

মনে রাখবেন, বৈষয়িক উন্নয়ন করতে করতে আমরা যদি আমেরিকার সমানও হয়ে যাই তবু ধর্ষণ কমবে না। খবরে প্রকাশ- বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ধর্ষণ হয় আমেরিকায়।

জাবেদ শেখ সাংবাদিক

জেএস/এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন