শিরোনাম :

গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষি ভিত্তিক উন্নয়নে আইসিটি উদ্যোক্তাদের করণীয়


রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৬, ০৮:০২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষি ভিত্তিক উন্নয়নে আইসিটি উদ্যোক্তাদের করণীয়

ডক্টর শাহ জাহান মিয়া:

গোটা বিশ্বে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ভিত্তিক গবেষণা এবং তার প্রচারণার পরিব্যপ্তি ঘটেছে ব্যপক পরিসরে, কৃষিএবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী গ্রামীণ ব্যবস্থাপনায় তো বটেই। গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে যে সব ব্যবস্থাপনা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে তার মধ্যে প্রাথমিক উৎপাদনকারী কৃষি ও মৎস খামারগুলো অন্যতম। এইসব গ্রামীণ খামার সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সবসময় অনেক ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রত্যাশা করে - সেটা হতে পারে আর্থিক ঋণ, ভর্তুকি, সক্ষমতার উন্নয়নের ও সম্পদের সুষম বন্টনের প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনাধর্মী জ্ঞান ও বিজ্ঞান নির্ভর সহায়তা। সরকারেরও লক্ষ্য থাকে তাদেরকে যথাযথ সহযোগিতা করা। আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে সরকারী সহযোগিতা অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধাজনক সেবা দিয়ে- খামারগুলোর শুধু পরিচালনাই করে না, এদের পরিচালনার দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

এই বিষয়ের জন্য একটা পদ্ধতি এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ- আর সেটা হবে সরকার কর্তৃক কিভাবে সেবা প্রদান করবে এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তারা সেটা কিভাবে ব্যবহার করবে এর ভিত্তির উপর। এই দুই গ্রুপের ইউজারদের (সরকারি কর্মকর্তা ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা) জন্য কি কি ইনফরমেশন কিভাবে ডিসপ্লে করা হবে, কিভাবে ইনফরমেশন আসবে ও যাবে, কিভাবে প্রসেস করা হবে, সেগুলো কিভাবে স্টোর ও প্রিজার্ভ করা হবে এবং কিভাবে ভবিষ্যৎ ব্যবহারকারীর জন্য ইনফরমেশন গুলো ট্রন্সফরম করা যাবে। এই পারস্পারিক সম্পর্কযুক্ত ভূমিকায় দুই গ্রুপ ইউজারকে কি কি ধরনের টেকনোলজি বা আইসিটি সিস্টেম দেয়া যেতে পারে - এটাই হচ্ছে আজকের লেখার প্রতিপাদ্য।

এই দুই গ্রুপের এক গ্রুপ ইউজারকে আমরা সার্ভিস প্রোভাইডার ইউজার বলতে পারি; যারা কিনা সরকারি কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা। আর অন্য ইউজার গ্রুপ হলো সার্ভিস রিসিভার যারা বিভিন্নভাবে গ্রামীণ প্রাথমিক উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট বা উদ্যোক্তা। প্রোভাইডারদের জন্য অনেক টেকনোলজি এর মধ্যে সহজেই ব্যবহার যোগ্য ও কুইক টার্নওভার পেতে ক্লাউড কম্পিউটিং টেকনোলজি হচ্ছে এই যুগে উপযুক্ত সমাধান। এখন সার্ভিস প্রোভাইডাররা তাদের ম্যানেজারদের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুসারে অনেক ধরনের তথ্য সেবা। যেমন: ঋণ সুবিধা, পরামর্শ সুবিধা, মাঠ পরিদর্শন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ও পরিক্ষণ, নতুন পদ্ধতির প্রচারণা এবং প্রয়োগ, এবং নানাবিধ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে পারে, ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে এটা সম্ভব। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারের মাধ্যমে যেটা হবে কস্ট ইফেকটিভ এবং পাবলিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যা কিনা হবে অনেক বেশি ওপেন একসেস ভিত্তিক।

সার্ভিস রিসিভারদের ক্ষেত্রে তো তেমন কোন সমস্যা নেই। আন্তর্জাতিক গবেষকদের ধারণা হচ্ছে এমন- মোবাইল কম্পিউটিংই পারে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের হাতের মুঠোয় তথ্যের ভাণ্ডার প্রদান করতে। মোবাইল অ্যাপলিকেশন এর সাইটে এখন দরকার নির্ভরযোগ্য এপিআই (অ্যাপলিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেজ) ডেভেলপ করা। এর মাঝখানে গ্লু হিসাবে থাকে টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্টাকচার - যেটা কিনা মোবাইল কানেকটিভিটি দিয়ে থাকে। উপরের ছবিতে পুরো সিচুয়েশনটি তুলে ধরা হয়েছে, যেটা কিনা সিস্টেম ডিজাইনের ফিল্ডকে তুলে ধরেছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কৃষি ভিত্তিক উন্নয়নে আইসিটি উদ্যোক্তাদের করণীয়

টেকনোলজি এর উন্নয়ন সার্ভিস প্রোভাইডারদের এবং সার্ভিস রিসিভাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের তরুণ আইসিটি উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে - কিভাবে এই দুটো ইউজার গ্রুপের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব আর সেটা হতে হবে গ্রামীণ ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট ডিমান্ড এর ভিত্তিতে। কেননা মৎস চাষের নিয়মাবলী এবং সরকারি কার্যক্রম ইরি ধান চাষের নিয়মাবলী এবং সেবা কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা। এটা একটা উদাহরণ। যাই হোক, আইসিটি ডেভেলপারদের মনে রাখতে হবে, লগইন, ডাউনলোড, আপলোড, কেটাগোরাইজিং, ডিসপ্লেইং, ডেটা এন্ট্রি, টাস্ক এসসাইনিং এবং অন্যান্য কমন অপশনের বাইরে- ইনোভেটিভ চিন্তাধারার সংমিশ্রন ঘটাতে হবে। নতুন নতুন ইনোভেটিভ সলিউসন ডিজাইনের মাধ্যমে, আইসিটি ডেভোলপাররাই পারবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যপক পরিবর্তন এনে এবং এর সামগ্রীক উন্নয়ন ঘটিয়ে শক্তিশালী টেকসই অর্থনীতি গড়তে। আর যেটা কিনা সহায়ক হবে - বাংলাদেশকে দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করতে।

লেখক: সিনিয়র একাডেমিক এবং আইসিটি বিষয়ক গবেষক, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন, অষ্ট্রেলিয়া।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন