শিরোনাম :

শিক্ষাঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ফলপ্রসূ তদারকি চাই


রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শিক্ষাঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ফলপ্রসূ তদারকি চাই


অমিত রায় চৌধুরী : 


সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা বিষয়ে নানা আলোচনা মানুষের ভাবনা কেন্দ্রে আবর্তিত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ কাঠামো, কারিকুলাম, পাঠদান, পরীক্ষা পদ্ধতি, ফলাফল, ভর্তি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দুর্নীতি নিরোধ, দেশপ্রেম সকল বিষয়ে স্তরভিত্তিক অংশীজনের অভিমত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে মাঠ পর্যায়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে গোটা ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করার আন্তরিক চেষ্টা লক্ষ করা গেছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য অর্জন কিংবা পরিস্থিতির সহনীয় অগ্রগতি বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এখনও সন্তোষজনক নয়।

সরকারের সদিচ্ছা, সাধু উদ্যোগ ও সাহসী পদক্ষেপসমূহ কী কী কারণে তীব্র প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে পারে সে বিষয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করতে চাই। প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানত তিন শ্রেণির উপকারভোগী আছে। এক-শিক্ষার্থী, দুই-শিক্ষক, তিন-অভিভাবক। সমাজের সিংহভাগ যখন আগ্রাসী দুর্নীতি ও সর্বাত্মক ভোগের সংস্কৃতিতে নিমগ্ন, তখন বৈষয়িক লক্ষ্যই নির্ধারণ করে গন্তব্যপথ। সে অবস্থায় কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম বাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের লক্ষ্য এক ন্যূনতম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা। সেক্ষেত্রে কালবিলম্ব না করে এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুপরিকল্পিত স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য মন্ত্রণালয় অনেক করণীয় স্থির করেছেন, একে একে সমস্যার প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হয়েছেন। জাতীয় শিক্ষানীতির ধারাবাহিকতায় শিক্ষা আইন প্রণয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীগণের বেতনÑ ভাতা বৃদ্ধি করা, স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ, কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক নিয়োগ, নিরন্তর শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি না দেওয়া, পরিচালনা পরিষদে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা,সেশন জট মুক্ত করা, অনলাইনে ভর্তি, নিবন্ধন, হাজিরা, প্রবেশপত্র সংগ্রহ, ফলাফল, পুণনিরীক্ষণ সম্পন্ন করা, ভর্তি, ফরম পূরণ বা যেকোন খাতে অঞ্চলভেদে ফিস গ্রহণের উর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা, শ্রেণিকক্ষ উপস্থিতি, পাঠদান আকর্ষণীয় ও মানসম্মত করতে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার, সৃজনশীল পাঠদানে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইন-হাউস ট্রেনিং ও প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতি চালু করা, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, একই পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনায় দুর্ণীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা এবং সর্বোপরি বিপুল তারুণ্যকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে জাতীয় ইস্যুতে সম্পৃক্ত করার মত যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তদসত্ত্বেও কেন আমরা প্রত্যাশিত লক্ষ্যে দৃঢ়পদক্ষেপে অগ্রসর হতে পারছিনা সেটি ভেবে দেখতে হবে।

আমরা যদি আনুপাতিক অর্জনগুলো বিশ্লেষণ করি, দেখতে পাব গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে শিক্ষাসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এনরোলমেন্ট বেড়েছে, ঝরেপড়া কমেছে, পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হার এমনকি সিজিপিএ বৃদ্ধিও ঘটেছে। দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে যেমন মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার বিকল্প নাই, অন্যদিকে মননশীলতার বিকাশ কাঙ্ক্ষিত না হলেও মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। দুটি ক্ষেত্রেই আমাদের সাফল্য কতটা তা বিশ্লেষণ সাপেক্ষ।

প্রথমেই বলেছি, অবক্ষয়িত মূল্যবোধে আক্রান্ত সমাজমানস শিক্ষার্থীর সঠিক চাহিদা নিরূপণ করতে পারে না, শিক্ষকও সেখানে প্রয়োজন মাফিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে অপ্রস্তুত কিংবা অনাগ্রহী। শ্রমের মাধ্যমে উৎকর্ষ সাধন, চর্চার মধ্যদিয়ে ঘাটতি লাঘব কিংবা সেবা প্রদানের সামাজিক দায় অনুভব করা কষ্টকল্পনা বৈ আর কিছু নয়। সুতরাং প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতা যদি শিক্ষাসেবার মানোন্নয়নে ব্যবহৃত না হয়, ডিজিটাল কনটেন্ট প্রস্তুতি যদি নিয়ম রক্ষার হাতিয়ার হয়, বিশেষ করে পাঠদান, প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়ন মেধা সৃজনশীল পাঠ্যক্রম অনুযায়ী আদর্শ ও অঙ্গীকারের জায়গা থেকে না আসে তবে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

‘পিক আওয়ারে’ শহর গ্রাম নির্বিশেষে কলেজ পর্যায়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী থাকেনা বললেই চলে। উপবৃত্তি প্রদান, ফরম পূরণের অনুমতি, বিভিন্ন ইনকোর্স পরীক্ষা চলমান থাকা সত্ত্বেও ছেলে মেয়েরা কেন কলেজে আসে না Ñ ভেবে দেখতে হবে। প্রথমেই মনে হয়, তারা ধরে নেয় ক্লাসে যাওয়া গ্রেড পাওয়ায় অবদান রাখে না, অন্যান্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিপত্তি‘ ম্যানেজ’ করা যায় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব, সক্ষমতা ও আদর্শতাদের যথেষ্ট আকৃষ্ট করে না। শিক্ষকের পেশাগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এমনকি চাকরি রাষ্ট্রীয়করণও অনেক ক্ষেত্রেআদর্শিক পুনর্জাগরণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে হয় না।

পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণএখন প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার পথে একটি মারাত্মক অন্তরায় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। পঁচাশি দিন স্বাভাবিক নিয়মে ক্লাস বন্ধ থাকে। উমা, স্নাতক ও সম্মান পরীক্ষার কারণে পুনরায় মাসের পর মাস ক্লাস সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষাকর্যক্রমে যে ক্ষতি হয় তা অপূরণীয়। দীর্ঘদিন নকলমুক্ত পরীক্ষা হচ্ছে এমন ভেবে আত্মতৃপ্তি লাভ করার সুযোগ নেই। যে সমাজ নৈতিক মানদণ্ড স্থাপনে বারবার হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নকলের বদলে বিকল্প পদ্ধতিতে সকল পরীক্ষার্থী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’ পরীক্ষায় বসছে কিনা সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

প্রশ্ন ফাঁস যেমন সর্বাত্মক ভিজিল্যান্স এর মাধ্যমে কমানো গেছে, পরীক্ষা গ্রহণ ও কোচিংসেন্টার বিমুক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্ভর শিক্ষাসেবা প্রদানও সম্ভব হতে পারে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্মোহ ন্যায্যতা প্রদান করে বরং সেই মানবিক সত্তাকে আমরা যদি শ্রেণিকক্ষে বিনিয়োগ করতে পারি, তবে তা দীর্ঘ মেয়াদে নিঃসন্দেহে সুফলবয়ে নিয়ে আসবে। সংখ্যার পাশাপাশি গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে। সঠিক মূল্যায়নে শিক্ষার্থী আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ পাবে।

শিক্ষক নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ মহৎ। তবে বিসিএস মডেলে শিক্ষক নিয়োগ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা মূলত শিক্ষককে চৌকস অফিসার বানানোর প্রয়োজন দেখিনা। বরং তাঁর বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, গবেষণায় আগ্রহ, আদর্শের প্রতি আনুগত্য, নৈতিক মানদণ্ড
, মানসিক ঝোঁক ইত্যাদি তীক্ষèভাবে যাচাই করে সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্রকে আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগ দেওয়া কাম্য। যতদিন সেটি করা না যায়, নিরন্তর প্রশিক্ষণ, চর্চা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান স্থাপন নিরূসাহিত করার সাম্প্রতিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। জনসংখ্যা, যোগাযোগ, সামাজিক চাহিদা ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ প্রক্রিয়া বিবেচনাধীন। রাজনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ সমাজে মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষাবিস্তারের লক্ষ্যে উপজেলা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের যে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আবারও সরকারের একটি দৃঢ় বার্তা বহন করে। বৈষম্যহীন ও আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সরকারের একটি অঙ্গীকার, তার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার এটি একটি ধাপ। তবে এর ফলে যেন শিক্ষকের জবাবদিহিতা বিন্দুমাত্র শিথিল না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পক্ষান্তরে শিক্ষাঙ্গনকে বিশ্বজনীন শিক্ষা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধের লালন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তদারকি ব্যবস্থাকে আরো নিবিড় ও বাস্তব সম্মতভাবে কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। তবে শিক্ষাকে জাতীয়করণ করে সারাদেশে অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা অচিরেই বলবত হবে এটি আমি বিশ্বাস করি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাম্প্রতিক সময় নতুন এক আগ্রাসন মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তা হলো ধর্মীয় উগ্রবাদের বিস্তার। নানাবিধ মনঃস্তাত্ত্বিক শূন্যতা দূর করে আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধের শক্ত ভীত নির্মাণ করতে হবে। বিপুল তারুণ্যাশ্রয়ী শিক্ষাঙ্গনে দেশপ্রেম, বিজ্ঞান মনস্কতা ও জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটিয়ে সুস্থ সমাজ নির্মাণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সেক্ষেত্রেও নিবিড়, নিরন্তর ও সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নাই।

একথা বলা বাহুল্য যে, শিক্ষাক্ষেত্রে একটি মৌলিক, বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে যে বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাকে সকলেই মান্যতা দেয়।বিগত সময়ে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যকে ধারণ করে শিক্ষা নিয়ে এত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কাঠামোগত অথবা গুণগত পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যায় নাই। শিক্ষামন্ত্রণালয় বর্তমানে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষাক্ষেত্রেব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় অনেক দৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে আমি মনে করি আয়োজনের সাফল্য অধিকাংশই নির্ভর করবে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে তত্ত্বাবধানের উপর। প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-এমনকি অভিভাবককে পর্যন্ত নিয়মিত জবাবদিহিতার নাগালে আনতে না পারলে সরকারের সকল মহৎ উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাফল্য নাও পেতে পারে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি যখন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, এমডিজির বিভিন্ন সূচকে তাক লাগানো সাফল্যেও পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা বধ্য পরিকর, তখন মানসম্মত শিক্ষায় সমৃদ্ধ বাংলার সম্ভবনাময় তারুণ্য একটি ক্ষধামুক্ত, শান্তিময় ধরিত্রী নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এ আকাক্সক্ষা সর্বজনীন। আর সেজন্য আমাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে যার যতটুকু করণীয় তার সবটাই নিঙড়ে দিতে হবে এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণের এখনই সময়।


লেখক: অধ্যক্ষ
ফকিরহাট ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়
ফকিরহাট, বাগেরহাট।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি অনলাইন এবং বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন