শিরোনাম :

প্রার্থী, ভোটারদের মনে ভয় ভীতি দূর করতে হবে


মঙ্গলবার, ১ আগস্ট ২০১৭, ০৫:৪২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

প্রার্থী, ভোটারদের মনে ভয় ভীতি দূর করতে হবে

আসিফ নজরুল: পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের মনে যে ভয়ভীতি আছে, সেটা দূর করতে হবে। এ নিয়ে (নাগরিক সমাজের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ) কারও মনে কোনো দ্বিমত ছিল না। ভয়ভীতিটা কোন প্রক্রিয়ায় দূর করতে হবে, এই প্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদ ছিল।

এখানে অনেকে বলেছেন, সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করতে হবে। সরকারের একজন সাবেক আমলাকে দেখেছি, উনি বলেছেন, সেনাবাহিনীকে আনা দরকার নেই। তবে আমি বলেছি, সেনাবাহিনী দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র চালানো যায়, বিমা প্রতিষ্ঠান চালানো যায়, ট্যাক্সিক্যাব চালানো যায়, রাস্তা নির্মাণ করানো যায়, তাহলে সেনাবাহিনীকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার কাজে ব্যবহার করতে অসুবিধা কোথায়?

আমরা মোটামোটি কয়েকটি কনফ্লিক্টিং ইস্যু দেখেছি। যেমন কেউ কেউ বলেছেন, সহায়ক সরকার কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কথা বলা উচিত না। কেউ কেউ বলেছেন, সহায়ক সরকার কেমন হওয়া উচিত এটা নিয়ে আমাদেরও কথা বলা উচিত না। আমার কাছে মনে হয়েছে নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেছে সবার বক্তব্য শোনার। এই বক্তব্যগুলো শুনে তারা কী পদক্ষেপ নেয় সেটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে আমরা অনেক কমিটিকে দেখেছি তারা বিভিন্ন লোকের কথা শুনেছে। শুনে তারা নিজের মতো করে কাজ করেছে বা সরকারের মত করে কাজ করেছে।

এখানে যে সাজেশনগুলো এসেছে সেগুলো হলো সেনাবাহিনী নিয়োগ বা প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো, ইলেকশনের আগে বা প্রার্থীদের মনে পোলিং এজেন্টদের মনে, ভোটারদের মনে সংশয় দূর করার, ভয় ভীতি দূর করার জন্য শক্ত হাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া। এখন দেখার বিষয় এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আসলে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না। তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আগের নির্বাচন কমিশন যে ভূমিকা পালন করেছে এবং ইমেজ সংকটে পড়েছে সেই ইমেজ সংকট কাটিয়ে আগামী নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে করতে পারে।

এখানে ইলেকশন কমিশন কোনো ইস্যু রেইজ করেনি। তারা ওপেনলি বলতে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে আলোচনা হয়েছে, সেটা হলো, আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশনকে তার ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তাকে শক্তভাবে নির্বাচনী আইন প্রয়োগ করতে হবে। তাদের যে একটা স্বতন্ত্র এনটিটি আছে, বিভিন্ন বিষয়ে তারা যেন সরকারের কাছে মাথা নত না করে, তারা যেন রাজনৈতিক দলের কাছে মাথা নত না করে, তাদের যে কনস্টিটিউশন ম্যান্ডেট আছে, সেটা অনুযায়ী তারা যেন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেয়, এটাই মূল ফোকাস ছিল।

প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর কথাও উঠেছে। তখন কেউ কেউ বলেছে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব যারা কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা যায় নাকি, সেটা যেন বিবেচনা করে যেন দেখা হয়। অন্যদিকে কেউ কেউ এটাও বলেছে যে, অতীতে ডিসিরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পেরেছে, তাদের অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা হয় না।

কেউ কেউ বলেছেন, আগে বিএনপি সরকারের আমলে যারা বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে যারা কোনো সরকারের আমলেই বিশেষ সুবিধা পায়নি, তাদেরকে যেন বেশি বেশি নিয়োগ দেয়া হয় নির্বাচন পরিচালনার কাজে।

ওনাদের (নির্বাচন কমিশন) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে সুপারিশগুলো এসেছে, সেগুলো ওনারা লিপিবদ্ধ করবেন এবং ফাইনালি সবার কাছে আমাদের পাঠাবেন। ইলেকশন কমিশনের যেটা আমাদের ভাল লেগেছে, ওনারা বলেছেন, আমাদের প্রস্তাবগুলো যেন আমরা লিখিতভাবে দেই। লিখিতভাবে আমরা যেন ডিটেইল কথা বলি, সে সুযোগ তারা আমাদের দিয়েছেন।

যারা না ভোট নিয়ে বলেছেন, তারা বলেছেন, অতীতে না ভোট ছিল। আমাদের কোনো অসুবিধা হয়নি। তাতে বড় রাজনৈতিক দলগুলো যে মনোনয়ন বাণিজ্য করে থাকে, অযোগ্য প্রার্থীদেরকে টাকা নিয়ে বা সন্ত্রাসী ক্ষমতার জোরে তাদের যে মনোনয়ন দিয়ে থাকে, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য সাধারণ ভোটারদের জন্য না ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা উচিত। তারা বলতে পারেন, আমার কাউকে পছন্দ হলো না।

একজন বলেছেন, যদি কোনো প্রার্থী পছন্দ না হয়, তাহলে তিনি ভোটকেন্দ্রে না গেলেই তো পারেন। তবে ম্যাক্সিমাম বলেছে না ভোটের পক্ষে।

আমার মূল প্রস্তাব ছিল, প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের মন থেকে ভয় ভীত দূর করতে হবে। এর মধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডেফিনেশনের (সংজ্ঞা) মধ্যে সেনাবাহিনীকে আনতে হবে। আরেকটি হচ্ছে, নির্বাচনকে কারচুপি মুক্ত করার জন্য ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার পদে যারা এই সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছে তাদেরকে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ লোকদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।

আমার আরেকটা প্রপোজাল ছিল নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের যে কাজটা হবে সেখানে যেন যথেষ্ট সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়, দেশি পর্যবেক্ষকদেরকে যেন ঠিকমত স্ক্রুটিনি করা হয়। কারণ অনেক পলিটিক্যাল লোকজন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ঢুকে যায়। এ জন্য যেন স্ক্রুটিনি করা হয়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজটা যেন অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে করা হয়।

ইভিএম নিয়ে শুধু হোসেন জিল্লুর ভাই বলেছেন, এমনিতে আমাদের এখানে অনেক বিতর্ক আছে, নতুন ক্ষেত্র তৈরি করে যেন আমরা এই বিতর্ক না বাড়াই। আবার একজন বলেছেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি যেগুলো এসেছে, সেটা যেন আমরা বিবেচনায় রাখি।

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন