শিরোনাম :

সবিনয় নিবেদন আনিস ভাই


বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সবিনয় নিবেদন আনিস ভাই

সাইফুল হাসান: সাইফুল হাসানবনানী কবরস্থান। মস্ত একটা চাঁদ, সবে আলো ছড়াতে শুরু করেছে। আনিসুল হকের কবরে গিয়ে দাঁড়ালাম। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি কবরের ওপর সযত্নে রাখা। ফুলগুলো তখনও তাজা। একটু দূরে গোর খননকারী জিতু মিয়া দাঁড়িয়ে। এই জিতুই তার সহকর্মীদের নিয়ে আনিসুল হকের কবর তৈরি করেছেন।

ওই সময়টায় কবরস্থানে এমন নিস্তব্ধতা যে, নিজেরাই নিজেদের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। অনন্তকালের যাত্রায় একদিন আমাদেরও এখানে আসতে হবে। মানবজীবনের এটাই নিয়তি ও চূড়ান্ত পরিণতি। এই ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে কবর ধরে দাঁড়িয়ে তাকে ছুঁয়ে দেখার বা অনুভবের চেষ্টা করছি। শরীরে কোনও শক্তি পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে দরাজকণ্ঠে তিনি বলে উঠবেন, সাইফুল, মন ছোট করো না। একটাই জীবন, মাথা উঁচু করে থাকবে সবসময়।

দুই ডিসেম্বর যখন আর্মি স্টেডিয়াম থেকে আনিস ভাইকে নিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি কবরস্থানে যাইনি। হাজার হাজার মানুষের স্রোত থেকে নিজেদের আলাদা করে ফিরে গেছি নাগরিক অফিসে। তুষার ভাইয়ের সঙ্গে বসে লরেন্স শ্যামল, সজল, কামরুজ্জামান বাবুসহ স্মৃতিচারণ করেছি। তার লাশ দেখিনি, দেখতেও চাইনি। সবশেষ দেখা হাসিমুখটাই চোখে আটকে আছে, থাকবে। আনিসুল হক আমার কাছে চিরঞ্জীব।

৩ ডিসেম্বর রাতে যখন কবরে গিয়ে দাঁড়ালাম, অসংখ্য ঘটনা আর স্মৃতির প্রতিটি মুহূর্ত আলাদা আলাদা ফ্রেম হয়ে ভেসে উঠছিল মনের গহীনে। তার বলা প্রায় প্রতিটি শব্দ আলাদা করে কানে বাজছিল। স্মৃতিগুলো অব্যক্ত বেদনা হয়ে ঝরছিল দু’চোখে। ভাবছিলাম, কী বর্ণাঢ্য জীবন, আর কী রাজকীয় তার প্রস্থান! এমন জীবন কতজনের ললাটে জোটে?

আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, তার সাহচর্য, সংস্পর্শ, ভালোবাসা, আদর ও স্নেহ পেয়েছি। আমার মনে হয়, ফিকশনে কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘মাসুদ রানা’ ও বাস্তবে ‘আনিসুল হক’ই হচ্ছেন এদেশে জনগণের সত্যিকারের নায়ক। আনিসুল হক আমার মাসুদ রানা। আমার নায়ক। আমাদের সময়ের নায়ক। যিনি সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারতেন। তিনি চাইলেই সব বদলে ফেলতে পারতেন বলে বিশ্বাস করতাম।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে আনিসুল হকের সঙ্গে পরিচয়। সাপ্তাহিক ২০০০ নামক একটি সাপ্তাহিক কাগজে সবে খেলাধুলা ও বিনোদন রিপোর্টার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছি। কোনও একটা কারণে তার সাক্ষাৎকার দরকার। দায়িত্বটা আমার ওপর পড়লো। ওপারে ভরাট-দরাজ গলা। প্রয়োজন জানাতেই বাসায় যেতে বললেন। ঢাকা শহরই ভালো চিনি না, তার বাসা চিনবো কী করে। বললেন, বনানী ২৩ নম্বর সড়কে একটা চার রাস্তার (সংযোগ সড়ক) কোনায় ভাঙা আড়াই তলা বাড়িটা তার। উল্টো পাশে অ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্টের দু’টা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন আছে। দেখলেই চিনতে পারবেন। এই সড়কে এমন ভাঙা আড়াইতলা বাড়ি আর একটাও নেই।

৯৬ নির্বাচনের আগে ‘সবিনয়ে জানতে চাই’ অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদদের শক্ত শক্ত প্রশ্ন করে ঘায়েল করা মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে ভাবতেই অন্যরকম লাগছিল। বন্ধুদের কাছে গল্প করবো কিন্তু ওরা বিশ্বাস করবে না। সন্দেহ করবে বা ঈর্ষা—এই ভেবে আমি চরম পুলকিত।

বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে দুটো অ্যাপার্টমেন্ট ভবন দেখি কিন্তু ভাঙা কোনও আড়াইতলা বাড়ি পাই না। যেটা পাই, সেটা ওই সময়ের সবচেয়ে আধুনিক বাড়ির একটা। চারিদিকে উঁচু দেয়াল। খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে ফোন দিলাম। কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ি থেকে শর্টস পরে বেরিয়ে এলেন বিখ্যাত আনিসুল হক। লিলিপুট সাইজের আমাকে দেখে বললেন, আরে আপনি তো দেখি বাচ্চা ছেলে। তুমি করে বলি? সম্মতি দিয়ে বললাম, ‘ভাঙা বাড়ি তো দেখি না। পুরো মার্বেল দিয়ে বানানো।’ ট্রেডমার্ক অট্টহাসি দিয়ে বললেন, ‘ভাঙাই তো। আড়াই তলা। ভালো করে দেখো।’ এরপর কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘চলো, ভেতরে গিয়ে কথা বলি।’

জীবনের প্রথম সত্যিকারের কোনও ধনী ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকলাম। কী বিশাল ব্যাপার-স্যাপার। সে বর্ণনা আরেকদিন। অস্বস্তিতে জড়োসড়ো। ব্যাপারটা সম্ভবত বুঝলেন এবং আমাকে সহজ করার চেষ্টা করতে লাগলেন। ১০ মিনিটের সাক্ষাৎকার, গল্পে গল্পে শেষ হলো ৫ ঘণ্টায়। এক তরুণ সাংবাদিকের চোখে সেঁটে দিলেন স্বপ্ন, শেখালেন জীবনকে ভিন্নভাবে দেখার মন্ত্র। সেই থেকে কিভাবে যে ২৩ নম্বর সড়কের ৮০ নম্বর বাড়িটি আমার অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। সিদ্ধান্ত নিলাম ক্রীড়া নয়, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস সেক্টরের সাংবাদিক হবো।

খুব খুশি হলেন শুনে। বললেন, এখনকার সাংবাদিকরা পড়ে না, পড়াশোনা করবে। পড়াশোনা না করলে পৃথিবীকে জানবে কী করে, শিখবে কী করে। দুনিয়া বদলে যাচ্ছে। আর বাবা-মাকে খুশি রাখবে। তাহলে জীবনে কেউ তোমাকে আটকাতে পারবে না। মায়ের দোয়ায় আমি সাধারণ পরিবার থেকে এখানে পৌঁছেছি। এরপর কারণে অকারণে দেখা হতে লাগলো, কখনও তার অফিসে, কখনও বা বনানীর বাসায়।

আনিস ভাই আপ্যায়ন করতে খুব ভালোবাসতেন। ফলে সারাবছরই তার বাসায় কোনও না কোনও আয়োজন লেগেই থাকতো। যেখানে উপস্থিত থাকতেন এই শহরের বিভিন্ন ক্ষেত্রের খ্যাতিমান সব মানুষেরা। তাদের কাছ থেকে দেখার, কথা বলার এই এক বিরল সুযোগ। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আমাকে অসম্ভব স্নেহ করতেন, ফলে বাসায় প্রায়ই ডাক পড়তো। আমি মিস করতাম না দু’টি কারণে। প্রথমত আনিস ভাইসহ বিখ্যাত মানুষদের সঙ্গে দেখা হবে, দ্বিতীয়ত সুস্বাদু সব খাবারের লোভে। কত মজার মজার খাবার যে ওনার বাসায় পরিবেশন হতো, যারা সেখানে গেছেন শুধু তারাই জানেন। নান্দনিকতা আর আধুনিকতার এক অপুর্ব মিশেলে সাজানো বাড়ির ভেতরটাও দেখার মতো।

আনিস ভাই রুবানা ভাবীকে নিয়ে সবসময় খুব গর্ব করতেন। ২০০২ সালের কোনও এক সময়ে বাসায় ভাবীর সঙ্গে দেখা। আলাপ করিয়ে দিয়ে বললেন, তোমার ভাবী পিএইচডি করছেন। বাড়িতে যা দেখছ, তার সব রুবানার অবদান। ভাবী তো আরও অমায়িক। বড় বোন বা মায়ের মতো। সুন্দর করে কথা বলেন, স্নেহ করেন, মমতা নিয়ে কুশলাদি জানতে চান, আদর করে খাওয়ান, শিক্ষকের মতো শাসন করেন। পরে তাদের ছেলে নাভিদুল হক এবং বছর তিন/চার আগে ওয়ামিক, তানিশা, আনিস ভাইদের ভাই-বোনসহ পুরো পরিবারের সঙ্গে আলাপ হয়। পুরো পরিবারটাই অসাধারণ। বিনয়ী, শিক্ষিত, ভদ্র ও পরোপকারী। যে কাউকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা এদের মজ্জাগত।

চ্যানেল ওয়ানে যোগ দেওয়ার পর থেকে যোগাযোগ-সম্পর্ক আরও নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ হলো। নিজেকে মনে হতো হক পরিবারেরই অংশ। বিএনপি সরকারের শেষ দিকে চ্যানেল ওয়ানে আমরা বহু স্কুপ ও ব্রেকিং নিউজ করেছি। যার উৎস ছিলেন আনিস ভাই। ব্যবসায়ী নেতারা দূতিয়ালি করছে, পর্দার পেছনে কূটনীতিকরা কোথায় কী করছে, রাজনীতিবিদদের মুভমেন্টের খবরও পেতাম তার কাছ থেকে। গুলশানে অফিস শেষ করে, রাতে তার বাসায় চলে যেতাম, অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়ে ঘরে ফিরতাম। পরদিন অফিসে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরতাম। কারণ নিউজ পকেটে।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলো। এই সরকারের প্রথম দেড় বছর প্রায় প্রতিদিন দেখা হতো। ২০০৮ (ভুল না হলে) সালে হোটেল রেডিসনে মঈন উ আহমেদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করলেন। অনেক কড়া কথা শোনালেন তৎকালীন জেনারেলদের। আমরা সবাই ভয়ই পেয়ে গেলাম। বার্তা পাঠালাম, বিপদ কেন ডেকে আনছেন। উত্তর এলো, আমার বুদ্ধি কম, সাহস বেশি। যা হওয়ার তাই হবে। সত্য তো বদলে যাবে না।

এরপর এফবিসিসিআই, সার্ক চেম্বার প্রেসিডেন্ট হলেন। ডব্লিউটিওতে ট্রেড নেগোসিয়েশনে গেলেন। এসব কীর্তির কথা অন্য কোনোদিন হবে। আনিস ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকার অলিগলি থেকে সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বহু জায়গায় ঘুরেছি। এসব নিয়ে কত শত স্মৃতি, গল্প যে মাখামাখি করে আছে তা লিখে শেষ করার নয়। পেছন ফিরে তাকালে আজ মনে হয়, এই শহরে দাঁড়াতে তিনি কতভাবেই না আমাকে সাহায্য করেছেন।

২০১০ সালের ১০ এপ্রিল চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়ে গেলো। সন্ধ্যায় ফোন। মন খারাপ করো না। তোমার ভাই আছে এই শহরে। বাসায় ডাকলেন। অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করলেন। রাতে ইস্কান্দার ভাইকে (আনিস ভাইয়ের ড্রাইভার) বললেন, বাসায় নামিয়ে দিতে। আমি তার গাড়িতে যাবো না। তিনি ছাড়বেন না। জীবনের প্রথম মার্সিডিজ বেঞ্চে চড়ে বাসায় ফিরলাম। এরপর আরও অনেকদিন। ইস্কান্দার ভাই যে কতদিন আমাকে এখানে-ওখানে ছেড়েছেন, তার ঠিক নেই।

এরপর বৈশাখী হয়ে বণিক বার্তায়। বণিক বার্তাও হঠাৎই ছেড়ে দিতে হলো। ভাই ভাবী দু’জনের পরামর্শ, পেছনের দিকে না তাকাতে। এরপর ৮ মাস বেকার জীবন। আমার চাকরির জন্য তিনি কতজনকে যে ফোন করেছেন, অনুরোধ জানিয়েছেন, তা শুধু আমি জানি। ওই সময়টায় ভাই-ভাবী দু’জনেই আমাকে নিয়ে ভীষণ ভেবেছেন। সাহস জুগিয়েছেন। কেউ যখন চাকরি দিলো না, তখন নিজেদের প্রতিষ্ঠান নাগরিকে চাকরি দিলেন।

এরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এলো। সেই নির্বাচনে আমি, বাবু, জুলহাজ, ধ্রুব, শর্মী, মাহবুব, জাফর নাগরিকের কর্মী হিসেবে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। আব্দুন নূর তুষার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লো এই নির্বাচন ঘিরেই। উনি নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনের পরদিন বিকালে অনেক মানুষ তার বাসায়। এরমধ্যেও একপাশে ডেকে বললেন, সপ্তাহখানেক বিশ্রাম করো। আর শোনো, আমি না ডাকলে কখনও সিটি করপোরেশনে যাবে না। আমরা যাইনি। তিনি মেয়র হওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগে কিছুটা ভাটা পড়লো। উনি জনগণের সমস্যা সমাধানে এতটাই নিয়োজিত হয়ে গেলেন যে, তাকে দূর আকাশের তারা মনে হতো।

টেলিভিশন ভালো লাগছিলো না। নাগরিক ছেড়ে দিতে চাই। কিন্তু বলবো কী করে। তারপর এ বছরের শুরুতে সাহস করে বললাম। বললেন কী করবে, বললাম ব্যবসা করতে চাই। অনেকক্ষণ কথা শেষে বললেন, ‘শুভকামনা। যদি কোনও সহায়তা লাগে অবশ্যই আমাকে বলবে। না হয় তোমার ভাবীকে বলবে। যেখানেই থাকো সবসময় তোমার পাশেই আছি।’

পরদিন সন্ধ্যায় একটা মেসেজ, ‘Life is always full of struggle n thrill. We always encourage our people looking forward. Success is sum of some efforts n struggles. If you are focused, no one can stop you. All our doa. AH’

আনিস ভাই হচ্ছে ইউনিক একজন মানুষ। সুদর্শন, মিষ্টভাষী, ধনবান, পরোপকারী, স্মার্ট, নান্দনিক, রুচিশীল, ভিশনারি, সদয়, দেশপ্রেমিক ও একইসঙ্গে কঠোর আদর্শের। কত মানুষকে যে তিনি উপকার করতেন বা করেছেন, তার তালিকা করলে মোটামুটি একটা বই হয়ে যাবে। তাকে ঠকিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আনিস ভাইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, তিনি খুব ভালো শ্রোতা এবং সমস্যা নিয়ে নয় সবসময় সমাধান নিয়ে ভাবতেন। যে কথা ১০ মিনিট শুনলেই চলে, তা তিনি ২ ঘণ্টা ধরে শুনতেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন, পয়সা তো লাগছে না। তিনি কখনও কারও সম্পর্কে সুইপিং কমেন্টস অথবা বাজে মন্তব্য করতেন না। প্রাণ খুলে হাসতেন আর কাজ করতেন। এত কাজ করতেন যে, তার অর্ধেক বয়সী আমরা মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠতাম।

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আনিসুল হক যেখানে পৌঁছেছিলেন, তা কল্পনাকেও হার মানায়। স্বপ্ন, অধ্যাবসায় এবং মেহনত মানুষকে কোথায় পৌঁছে দেয়, উনি তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। এক্ষেত্রে তার সহযোদ্ধা রুবানা হকেরও আছে বিশাল অবদান। আনিসুল হক যাই করতেন রুবানা ভাবীও তাতে সমর্থন দিতেন, সাহস জোগাতেন। কোনও ব্যাপারে রুবানা ভাবীর সম্মতি নেই মানে, সেই কাজ বাদ। দু’জন আসলে ভাইস ভার্সা। আনিস ভাইয়ের গল্প মানেই রুবানা ভাবীর পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর সমর্থন। রুবানা ভাবী যেন সঙ্গী হারানোর শোক সামলে উঠতে পারেন, সেই প্রার্থনা সবসময়।

আনিস ভাই সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। তিনি জানতেন কোথায় থামতে হবে। তার একটা কমন ডায়ালগ হচ্ছে ‘হলে ভালো, না হলে আরও ভালো।’ কিন্তু তার চলে যাওয়া আমাদের জন্য, দেশের জন্য ভালো হলো না।

আনিস ভাই, আপনি ছাড়া অসহায় লাগছে এই শহরে। আপনি বলতেন, ‘বাবা নেই, আমি তো আছি’। কিন্তু আপনি তো চলে গেলেন। আমি জানি নায়কদের মৃত্যু নেই। জনগণ নায়কের ফেরার আশায় থাকে কিন্তু কোনোদিন সে ফেরে না। আপনিও ফিরবেন না। তারপরও, আপনার ডাক শোনার অপেক্ষায় থাকবো।

আনিস ভাইয়ের বহু ব্যক্তিগত গল্প আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু তাদের ছোট ছেলে শারাফকে নিয়ে কোনোদিন কথা বলেননি বা বলতে শুনিনি। কিন্তু শারাফ তাদের সমস্ত সত্তাজুড়ে ছিল। কবরের সামনে দাঁড়িয়ে বার বার মনে হচ্ছিল, ছোট ছেলেকে অনেক বছর আদর করা হয়নি তার। হয়তো স্বপ্নে বাবাকে ডাকতো ছোট্ট শারাফ। আর সে ডাকে সাড়া দিয়ে, শারাফকে বুকে জড়িয়ে নিতে অনন্তের পথে যাত্রা করলেন আমাদের প্রিয় আনিস ভাই। ওপারে ভালো থাকুন। বিশ্রাম নিন।

লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, বার্তা বিভাগ, নাগরিক টিভি

Saiful.hasan@gmail.com

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন