শিরোনাম :

জেরুজালেম প্রশ্নে ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতা বিশ্বশান্তি নষ্ট করছে


মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জেরুজালেম প্রশ্নে ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতা বিশ্বশান্তি নষ্ট করছে

মো. সাখাওয়াত হোসেন: বিগত ৭০ বছর ধরে ‘জেরুজালেম প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন’-এ নীতি মেনে চলছে যুক্তরাষ্ট্র। তারই ধারাবাহিকতায় জেরুজালেমের পশ্চিম অংশ ব্যবহার করছে ইসরায়েল এবং পূর্বাংশ ব্যবহার করছে ফিলিস্তিন। কিন্তু হঠাৎ করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা বিবাদমান বিরোধকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে পূর্বের বিরোধকে উস্কে দিয়েছেন। তবে মনে হয় এই প্রথমবারের মতো সাম্রাজ্যবাদের শক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মহাসচিব সহ বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের এ সংক্রান্তে ঘোষণার বিরোধিতা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতারেস ট্রাম্পের ঘোষণার বিরোধিতা করে বলেছেন, জেরুজালেমের কী হবে তা কেবল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে আমি এখন থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আমার অবস্থানের কথা জানিয়ে যাব। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল তার মুখপাত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিন ইসরাইলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ভঙ্গ করে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তিনি সমর্থন করেন না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসো মে বলেছেন, তার সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না। বাংলাদেশ সরকারও ট্রাম্পের ঘোষণার বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে ট্রাম্প কেন এ জাতীয় ঘোষণা দিলেন?

প্রথমত: ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহারে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। এবং মূলত তিনি তার কট্ররপন্থী সমর্থকের নিকট জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঘোষণাটি দিয়েছেন। কারণ, ট্রাম্পের এ ঘোষণাটি তার প্রশাসনের অনেকেই সমর্থন করেন না। ঘোষণা সংক্রান্ত বক্তব্য প্রদানের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন উপস্থিত ছিলেন না। ডেভিড ফ্রিডম্যান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিশেষ পরামর্শদাতা ছিলেন এবং ইসরায়েলে বর্তমানে মার্কিন দূতের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত তারই প্ররোচনা এবং অনুপ্রেরণায় ট্রাম্প ঘোষণাটি প্রদান করেন।

দ্বিতীয়ত: ট্রাম্পের সাম্রাজ্যবাদ চিন্তা চেতনার মিশেলেই মূলত মুসলিম বিশ্বকে বার্তা স্বরূপ এ সংক্রান্তে ঘোষনা আসে। তৃতীয়ত: মার্কিন প্রশাসনকে নিজের স্বেচ্ছাচারিতার গুরুত্বকে আরো প্রকট আকারে তুলে ধরা।
চতুর্থত: মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের স্নায়ুযুদ্ধের কারণে ট্রাম্প এ সুযোগটি গ্রহণ করেছেন।
পঞ্চমত: সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পকে প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি বিনষ্টের পায়তারা করণ।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া স্থাপনের যে প্রক্রিয়া চলছিল কার্যাত তা বাস্তবায়নের অন্তরায়। হামাসের প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা মানে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধ ঘোষণার শামিল এবং মার্কিন বাহিনীর উপর হামলা এখন বৈধ হয়ে উঠেছে। মার্কিনদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সবসময়ই থাকে, এখন আবার ট্রাম্প সেই ক্ষোভে রসদ যোগাচ্ছে। ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্মালগ্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে দেশটিকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। এমনিতেই ফিলিস্তিনেদের সাথে সবসময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নেমে পড়ে ইসরাইল। ইসরাইলের সব অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধতা দেওয়ারই নামান্তর মনে হয় জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

সৌদি আরব ইরানকে দমনের জন্য গোপনে ইসরায়েলের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাই এ ইস্যুতে তারা হয়তো নিশ্চুপ থাকবে। কিন্তু এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আজকে ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখানো হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ সংক্রান্তে মিটিং এ বসার কথা।

সুতরাং বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় অবস্থান করছে। অনেকেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশংকা করছেন যদি না তড়িৎগতিতে সমাধান না হয়। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান-তুরস্ক-রাশিয়ার দ্বন্দ্ব সংঘাত এবং এর সাথে সারাবিশ্বের সংযোগ অবান্তর চিন্তা নয়। আশা করছি, জাতিসংঘসহ বিশ্ব বিবেকরা এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি সুরাহা করবেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন