শিরোনাম :

জনগণ শান্তি চায়, রক্তপাত নয়


সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জনগণ শান্তি চায়, রক্তপাত নয়

নাদীম কাদির : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বিরোধী দল বিএনপির কথিত ‘নির্বাচনকালীন সরকারে’র দাবি মেনে নেননি তিনি।

বিশ্বে নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চলতি মেয়াদের পঞ্চম বছর শুরু করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সহযোগী জামায়াতে ইসালামীকে নিয়ে বিএনপি সারাদেশে তাণ্ডব ও জ্বালাও-পোড়াও চালায়। তখন জামাতের নেতৃত্বে ছিল গোলাম আজম ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো যুদ্ধাপরাধীরা।

সেই ধ্বংসযজ্ঞে প্রাণ হারান অনেক মানুষ। তাদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয় আগুনে পুড়ে। জামায়াত-বিএনপি জোট সেসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে রাজনৈতিক জয় হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার কোনও প্রস্তাব বা দাবিতেই সেসময় রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভাষণের সময় সেসব বিষয় সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, ২০১৩ সালের মতোই পরের নির্বাচন হবে এবং কোনও সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘জনগণের হাতেই সব ক্ষমতা এবং তারাই দেশ চালায়। ১০ বছর ধরে সরকার জনগণের প্রতিশ্রুতিই রক্ষার চেষ্টা করে আসছে।’

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর এই ১০ বছরেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন দেখেছে বাংলাদেশ। সবাইকে চমকে দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে, যা কখনও কেউ ভাবতে পারেনি। আরও অনেক প্রকল্প চলমান, যেগুলো দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

আমরা ভুলেই গেছি, আগে কী পরিমাণ লোডশেডিং হতো আর এজন্য আমাদের ব্যবসার কত ক্ষতি হতো। অথচ বিরোধী দল অভিযোগ তোলে, এই খাতে নাকি সরকার দুর্নীতি করেছে। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানিকে এই দায়িত্ব দিয়ে নাকি সরকার স্বার্থ হাসিল করেছে। কিন্তু বাস্তবতা মেনে নিন। প্রধানমন্ত্রী তার কথা রেখেছেন। এখন জনগণ যেমন ভালো আছে, তা জেনারেল জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার শাসনামালের সময় ভাবাই যেত না।

সেসময় আমরা দেখেছি, কীভাবে প্রতিপক্ষকে হত্যা করে চুপ করিয়ে রাখা যায়। সামরিক ও বেসামরিক যারাই সেসময় বিপক্ষে গিয়েছিল, তদের হত্যা করা হয়েছে। হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের দুর্নীতিতে কোটি কোটি ডলার প্রবেশ করেছে। এখন লন্ডনেও বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জবাবে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই আবার সংকটে পড়তে যাচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কোনও ছাড় দেবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, তার এই বক্তব্য দেশকে বর্তমান সমস্যা সমাধান না করে আরেকটি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

প্রথমত, মির্জা ফখরুলের উচিত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়া। কারণ তিনি তাদের পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সময় দিয়েছেন। নয়তো বিএনপিকে শুধু ইতিহাস হয়েই থাকতে হতো।

আর প্রধানমন্ত্রী কেন ছাড় দেবেন? কী জন্য ছাড় দেবেন? আমরা কি ভাবতে পারি যে কোনও নির্দিষ্ট দলের কথা চিন্তা করে ভারত বা যুক্তরাজ্য তাদের সংবিধান পাল্টাচ্ছে? কেউ হয়তো বলতে পারেন— এই দুই দেশের তুলনায় আমাদের গণতন্ত্র একদমই শিশু। তারা এই অবস্থানে আসতে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেছে। কিন্তু এমন কোনও কারণে তারা তাদের সংবিধান পরিবর্তন করেনি।

রাজনীতি অবশ্যই দাবা খেলার মতো। আর এই খেলায় এখন পর্যন্ত বিএনপি ভুল চাল দিয়ে চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামাতে তাদের পদক্ষেপে আমার হাসিই আসে। এটা হয়তো বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়ার দেখানো পথ। তিনি যেমন বন্দুক ও গুলির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন, খালেদা জিয়াও তার বিরোধীদের চুপ রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন।

আর মির্জা ফখরুলের দাবি করা বর্তমান সংকটটা আসলে কী? শেখ হাসিনা টানা দুইবার নির্বাচন জিতে মাইলফলক তৈরি করেছেন। যার মানে হচ্ছে, দেশে তার শক্ত প্রভাব রয়েছে। আর বিএনপির হুমকির পরও যে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাইবেন, সে বিষয়েও কোনও সন্দেহ নেই।

জনগণ জানে, প্রধানমন্ত্রী সব সহিংসতা এড়িয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। গতবারও তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন। বিএনপি অন্যায্য দাবির পরও তিনি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছেন। তিনি আবারও সেটা করবেন যা জনগণ চায়।

পাশ্চাত্যের ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে’র পরামর্শ মানে এই না যে সংবিধানকে ছোট করতে হবে। আমি আমার ব্রিটিশ সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘আপনারা কি সংবিধান পরিবর্তনকে সমর্থন করেন?’ জবাবে তারা সবাই নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তাই বিএনপি যতই পশ্চিমা মিডিয়াদের মিথ্যা বলুক না কেন, মনে রাখতে হবে তারা বোকা নয়।

আর যদি কোন সংকট তৈরি হয়ে থাকে, সেই দায় বিএনপিকেই নিতে হবে। আর জনগণের কল্যাণে তার সমাধান করতে হবে।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন