শিরোনাম :

বই যেন বোঝা না হয়!


বুধবার, ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ০২:৫৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বই যেন বোঝা না হয়!

সারওয়ার-উল-ইসলাম:

‘বইয়ের বোঝায় খুকু হয়ে যায় বাঁকা
বাবা-মা’র কাজ শুধু তাকিয়েই থাকা।
ইশকুলে প্রতিদিন এত এত পড়া!
ব্যাগ তো ভারিই হবে, না নিয়ে কি করা!
বাড়ি ফিরে হোম টাস্ক, কোচিং বিকেলে
সারাদিন ব্যস্ততা, অবসর মেলে?
এতটুকু মাথাটায় কত কিছু থাকে
জিপিএ ও গোল্ডেন পেতে হবে তাকে।’

বইয়ের ভারে আপনার শিশু কুঁজো হয়ে যাচ্ছে, বিষয়টা খেয়াল করেছেন?

সকালে ঘুম থেকে ওকে তুলে দেন। ঘুম চোখে মুখ ধুয়ে স্কুল ড্রেস পড়তে পড়তে খাওয়া, তারপর স্কুল ব্যাগ কাঁধে চড়িয়ে দেওয়া হয় ওর। ব্যাগ নিয়ে ছুটে চলে স্কুলের দিকে। সাত আটটা বই, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে খাতারাও জড়ো হয় ব্যাগের ভেতরে। আর রয়েছে টিফিন বক্স, সাথে পানির বোতল।

ব্যাগের ওজনটা কত হয় খেয়াল করেছেন? ওর বয়স অনুপাতে ব্যাগের ওজন ঠিক আছে কিনা কখনো চিন্তা করেছেন? নাকি ওকে জিপিএ-৫ পেতে হবে, এই স্বপ্নে বিভোর আছেন?

আমাদের চারপাশে ব্যাঙের ছাতার মত স্কুল আর স্কুল। একেকটা একেক নামে পরিচিত। কিন্ডারগার্টেনই বেশি। ঘরে ঘরে কিন্ডারগার্টেন প্রকল্প যেন হাতে নেওয়া হয়েছে- একটি বাড়ি একটি কিন্ডারগার্টেন। সেখানে আদৌ কি কিছু শিখছে আপনার শিশু?

একটি শিশু বয়স অনুপাতে যতটুকু ভার সহ্য করতে পারে তা না জেনেই স্কুল কর্তৃপক্ষ চাপিয়ে দিচ্ছে বইয়ের বোঝা। মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে ভবিষ্যতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে সেটা নিয়ে ভাবার কেউ নেই।

একটি শিশুর ওজন যদি ত্রিশ কেজি হয়, তাকে তিন কেজির বেশি ভারি বইয়ের ব্যাগ দেওয়া যাবে না, অর্থাৎ শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি নয়, এমন ব্যাগ বহনের বিষয়টি নজরদারিতে রেখে এক মাসের মধ্যে পরিপত্র জারি আর রায়ের কপি পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সরকারকে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়ে গত ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি আদালতের নির্দেশনা। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননা বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চান আদালত। আদালতের এই প্রক্রিয়ায়ও থেমে নেই শিশুদের ব্যাগ বহন।

আমরা যারা অভিভাবক, বা যারা স্কুল পরিচালনা করি, তারা কি কখনো বিষয়টি ভাবি? আপনার আমার শিশু আগামীতে ভয়াবহ শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, তাই আজই আদালতের সেই নির্দেশ কেন মানা হচ্ছে না, সেই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া দরকার। আমরা আমাদের সন্তানদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। অতি জ্ঞানী হয়ে কুঁজো জাতিতে রূপান্তরিত করতে চাই না। ওদেরকে ওদের মত আনন্দ, খেলাধুলা আর প্রাণখোলা হাসির মধ্যে বেড়ে উঠতে দেওয়া হোক।

সেই আনন্দই ওদেরকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করবে। 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন