শিরোনাম :

অভিনন্দন বাংলাদেশ


সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

অভিনন্দন বাংলাদেশ

তুষার আবদুল্লাহ: অভিনন্দন বাংলাদেশকে। কোনও খাদ না রেখেই অভিনন্দিত করা যায় বাংলাদেশকে। টিম বাংলাদেশ আজ দেশে ফিরেছে। যদি সৌম্য উইকেটে বল রাখতো, কার্তিকের বলটি উড়ে না গিয়ে জমিন চিড়ে যেতো, রুবেলের ওভারটি অগোছালো না হতো কিংবা ফিল্ডাররা সরাসরি উইকেটে বল ছুড়ে দিতে পারতেন, তাহলে টিম বাংলাদেশের ফিরে আসা আনুষ্ঠানিক উৎসবের রূপ পেতো। কাছের অতীতে হয়তো এই ফলাফলেও উৎসবের আবির ছড়ানো হতো, কিন্তু এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের উপযোগের মাত্রা যেখানে পৌঁছেছে, সেখানে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল উঠলেই ‘ওয়াও’ বলে মূর্ছা যাবে না বাংলাদেশ। তাদের ক্ষুধা এখন ‘ট্রফি’র। রবিবারের মতো ট্রফি’র এত কাছাকাছি বাংলাদেশ যায়নি কখনও বিদেশের মাটিতে। আর প্রতিপক্ষ যখন ভারত। বলা যায় আঙুল ছুঁয়ে ট্রফি চলে গেছে অন্যের মুঠোতে।

বাংলাদেশ যখন ব্যাটিংয়ে ছিল,তখন মনে হচ্ছিল ভারত জিতে যাবে হেসে খেলেই। তামিম,মাহমুদউল্লাহ,সাকিব,মুশফিক,সৌম্য ‘বাইশ গজ’-এর মধ্যে অগোছালো ছিল। নিজেদের বোঝাপড়াতেও ছিল কমতি। স্পিনারদের সমীহ করে যেভাবে খেলছিল,তাতে স্কোরবোর্ড খুব সচ্ছল হবে না এমন শঙ্কা ছিল। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রানআউট হয়ে যাওয়ার দায় নিজেরও অনেকটা,এমন ভেবেই উদ্দীপ্ত হয়ে খেললেন সাব্বির। ফলে স্কোর বোর্ডের অঙ্ক দ্বিধা ও প্রত্যাশার দোলাচালে রেখে দেয় বাংলাদেশকে। ভারত খেলতে নামার পর প্রথম তিন ওভারে বল যেভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পেটাচ্ছিল,তাতে কেউ কেউ বলেই বসেছিলেন—দশ ওভারের বেশি হয়তো খরচ হবে না!

ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বোলাররা প্রাধান্য বিস্তার করতে থাকে। সমীহ করে খেলতে বাধ্য হয় ভারতের ব্যাটসম্যানরা। ১৭তম ওভারে এসে মুস্তাফিজের স্বপ্নীল ওভারে বাংলাদেশ জয় উৎসব শুরুই করে দিয়েছিল। কিন্তু উচ্ছ্বাসের অবসরে স্কোর কার্ডের দিকে তাকিয়ে দেখে শেষ এক বলে পাঁচ রান। ব্যাট হাতে ওয়াশিংটন নন,কার্তিক। বুকে কাঁপন,ব্যথা আর যা যা অনুভূতি, ক্রিকেট উন্মাদনা পীড়নের লক্ষণ আছে সবই বাংলাদেশকে আঁকড়ে ধরে বসেছিল। ওয়াশিংটন অপর প্রান্তে না থেকে যদি আক্রমণে থাকতেন,তাহলে সুখের পীড়নে ভেসে যেত বাংলাদেশ।

সেই পীড়নে ভাসতে না পারলেও বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাতেই চাই। কারণ, কাছের অতীতেও আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন উন্মাদনা পীড়নে আক্রান্ত হতাম ভারত,পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ,অস্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কার পক্ষ নিয়েই। শেষ বলে জয় এনে দেওয়া বা ছিনিয়ে নেওয়ার নায়করা ছিলেন ওয়াসিম আকরাম,ব্রায়ান লারা, আবদুর রাজ্জাক, সাঈদ আনোয়ার, সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন তেন্ডুলকার,জয়সুরিয়া,অ্যালেন ডোনান্ড, ব্রেটলি,স্টিভ ওয়াহ...। এখন সেই তালিকায় উঠে এসেছেন মাশরাফি, রুবেল, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক, মুস্তাফিজ,সাকিবেরা। দ্বিধা,শঙ্কার মিষ্টান্ন তৈরি করতে শিখে গেছে তারাও। এখনও সেই মিষ্টান্নের স্বাদ আমরা নিয়মিত পেতে শুরু করিনি। পাতে এসেও পিছলে যায়। তবে আগামীতে যে পাতেই টেকসই তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

তারপরও একটু খুঁত,অল্প দুঃখবোধের কথা তো বলতেই হয়। দর্শক গ্যালারি থেকে,প্রেসবক্সে বসে প্রশ্ন জাগে কোন কোন ম্যাচে বাংলাদেশ বুঝি ফলাফলের কোনও নকশা ছাড়াই খেলতে নেমেছে। মাঠের ১১ জন খেলোয়াড় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। সাজঘরের সঙ্গেও তাদের আত্মীয়তা নেই। ফলে ভালো লড়াই করার মতো কোনও কোনও ম্যাচে বাংলাদেশ আগেই সরে দাঁড়ায় লড়াই থেকে। একইভাবে মাঠে দীর্ঘদিন পারফরম্যান্স করতে না পারা খেলোয়াড়কে ব্যাট ও বল হাতে ব্যবহার করে যাওয়াও দলীয় ঐক্য নিয়ে সংশয় তৈরি করে। যোগ্য ও অনিবার্য খেলোয়াড়কে সময়ের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে না পারার রোগও আছে বাংলাদেশের। কখনও কখনও মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নির্বাচক বোর্ডের কতিপয় কর্তা। মূল নির্বাচকদের দল গঠনে ভূমিকা থাকে না। আছে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলার বিষয়েও অভিযোগ। এই উপসর্গগুলোর জন্যে বাংলাদেশের কয়েকটি নিশ্চিত জয় যে খসে ভূপাতিত হয়েছে, একথা স্বীকার করতেই হবে। হয়তো সকল ক্রিকেট বোর্ড বা দলেই কম বেশি এমন উপসর্গ আছে। সেই উপসর্গ আড়াল করে,নির্মূল করেই জয়যাত্রায় যোগ দিতে হয়। বাংলাদেশকেও সেই উপসর্গগুলো নির্মূলে মনোযোগী হতে হবে। তারপরও উপসর্গ সহযোগে তারা যে বিজয়ের পথেই আছে,উন্মাদনার রোগে আমাদের পীড়িত করতে পারছে, সেই জন্য তাদের আবারও অভিনন্দন। জয়তু বাংলাদেশ।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন