শিরোনাম :

ইসলামে দাওয়াত ও তাবলিগের গুরুত্ব


বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮, ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ইসলামে দাওয়াত ও তাবলিগের গুরুত্ব

মুফতি হেলাল উদ্দিন হাবিবী : ‘তাবলিগ’ শব্দটি আমাদের সবার কাছে খুব পরিচিত। এর আভিধানিক অর্থ পৌঁছানো। ইসলামের শাশ্বত বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে তাবলিগ বলে। মহান রব্বুল আলামিন এই ধরণিতে এক লাখ বা দুই লাখ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর পাঠিয়েছেন। সবাই তাঁর একাত্মবাদের তাবলিগ করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই ধরাপৃষ্ঠে আগমন করে সম্পূর্ণ প্রতিকূলতার মধ্যেও শান্তি, কল্যাণ ও একাত্মবাদের প্রচার করেছেন। বিশ্বময় ছড়িয়ে দিয়েছেন ইসলামের মর্মবাণী; যার ফলে আইয়ামে জাহেলিয়া পরিণত হয়েছিল সোনালি যুগে। বিদায় হজের ভাষণে প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও।’

প্রিয় নবী (সা.)-এর এই নির্দেশ পালনার্থে যুগে যুগে সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়িন, তাবেতাবেয়িন, হক্কানি পীর-মাশায়েখ ও ইসলামী মনীষীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে জীবনের শেষ পর্যন্ত ইসলামের তাবলিগ করে গেছেন। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাই ছিল তাদের মিশন ও ভিশন।

রব্বুল আলামিন স্বয়ং তাঁর প্রিয় বান্দাদের শান্তি ও কল্যাণের দিকে তাবলিগ করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহ শান্তির ঘর তথা জান্নাতের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।’ (সূরা ইউনুস : ২৫)।

আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধু হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বময় দাওয়াতের নির্দেশ প্রদান করে বলেন, ‘আপনি বোঝাতে থাকুন, নিশ্চয় তা ইমানদারদের উপকারে আসবে।’ (সূরা জারিয়াত : ৫৫)।

আল কোরআনের অন্যত্র আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি আপনার রবের দিকে জ্ঞানগর্ভ কথা ও উত্তম উপদেশ দ্বারা দাওয়াত দিন এবং তাদের সঙ্গে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়। (সূরা নাহল : ১২৫)।

প্রিয় পাঠক! যারা মানুষকে শান্তি, কল্যাণ ও একাত্মবাদের দাওয়াত দেয় এবং ইসলামের দিকে আহ্বান করে, তাদের প্রশংসা করে রব্বুল আলামিন আল কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তার চেয়ে কার কথা উত্তম? যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলমান।’ (সূরা হা-মীম সিজদা : ৩৩)।

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিন! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর; যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর, যাতে পাষাণ হৃদয়, কঠোর স্বভাবের ফেরেশতারা নিয়োজিত আছে, তারা কোনো বিষয়ে আল্লাহতায়ালার অবাধ্য হয় না, আর তারা সেটাই করে যা তাদের নির্দেশ করা হয়। (সূরা তাহরিম : ৬)।

প্রিয় পাঠক! দাওয়াত ও তাবলিগের মাধ্যমে ইসলাম নামক বটবৃক্ষে ডালপালা ছড়ায়, পাতা গজায়; যদিও মহান এ কাজ অত্যন্ত কঠিন ও বিপত্সংকুল। সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত হিসেবে এই পবিত্র দায়িত্ব আজ আমাদের ওপর অর্পিত। তাই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইসলামের মর্মবাণী প্রচারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা আমাদের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ আমাদের দাওয়াতি কাফেলায় শামিল হওয়ার তাওফিক দান করুন।

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন ও ইসলামবিষয়ক গবেষক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন