শিরোনাম :

জব্দ তাপ, ১০ বছরে কম দহন এই এপ্রিলেই


মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জব্দ তাপ, ১০ বছরে কম দহন এই এপ্রিলেই

কমলেশ চৌধুরী:

টিএস এলিয়ট লিখেছিলেন, 'এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস৷' উপমহাদেশের আবহাওয়া প্রতি বছর সেটা প্রমাণও করে৷ এ বার তা মালুম হল না৷ অন্তত বাংলার জনতার অভিজ্ঞতা তাই বলছে, বলছে অঙ্কও৷

কলকাতায় মাত্র ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে খাতা খুলেছিল এপ্রিল৷ শেষ করল ৩২.১ ডিগ্রিতে৷ সবমিলিয়ে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ .৫ ডিগ্রি৷ প্রকৃতির এমন 'ছাড়' গত দশ বছরে পাওয়া গেছে মাত্র একবারই৷ ২০১৫ সালে৷ তা-ও সে বার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৮ .৫ ডিগ্রিতে৷ এবার আটত্রিশের আগেই থেমেছে পারদের দৌড়৷ তীব্র দহনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে পশ্চিমাঞ্চলও৷ এখনও পর্যন্ত থাবা বসাতে পারেনি তাপপ্রবাহ৷ উত্তরবঙ্গেও বৈরী আবহাওয়া৷ রাতে লেপ -কম্বল লাগছে কোচবিহার -জলপাইগুড়িতে!

গত গ্রীষ্মেও রাজ্যে জব্দ ছিল তাপ৷ মার্চে দশকের সবচেয়ে কম দহন পায় ঢাকা ও কলকাতা৷ এ বার মার্চে অবশ্য ঝড়-বৃষ্টির আকাল ছিল৷ ফলে তাপমাত্রা ছিল গতবারের চেয়ে বেশি৷ এপ্রিল আবার শুরু থেকেই অন্যরকম৷ প্রথম দিনের সন্ধ্যায় প্রান্তি হয় মরসুমের প্রথম কালবৈশাখী৷ শেষ দিন আবার সাতসকালেই কালবৈশাখী৷ বিশাল বপুর বজ্রগর্ভ মেঘ ঘণ্টায় ৪৮ কিমির ঝড় তোলে শহরে৷ সবমিলিয়ে আলিপুরের হিসেবেই পাঁচ দিনে সাতটি কালবৈশাখী৷ এর মধ্যে দু’দিনে দু'টা জোড়া ঝড়! তথ্য বলছে , শহরে এপ্রিলের ভাগ্যে বড়জোর ২-৩ খানা কালবৈশাখী জোটে৷ এ বার সংখ্যাটা দ্বিগুণেরও বেশি৷ বৃষ্টিও হয়েছে দেদার৷ সোমবার বিকাল পর্যন্ত ভারতের আলিপুরের প্রান্তি , ১২২ মিলিমিটার৷

এই পরিমাণও দ্বিগুণের বেশি৷ পূর্বাভাস বলছে , মে মাসের শুরুর ক’দিনও ঝড় -বৃষ্টির এই প্রবণতা বজায় থাকবে৷ থাকবে স্বস্তিও৷


কী ভাবে ভরা গ্রীষ্মেও এমন সদয় প্রকৃতি? মৌসম ভবনের পর্যবেক্ষণ , গোটা দেশের চিত্র মোটেই এমন নয়৷ তাপপ্রবাহে জ্বলছে মহারাষ্ট্র৷ সেখানকার চন্দ্রপুর (৪৬ .৮ ডিগ্রি ) ছিল এ দিন দেশের উষ্ণতম৷ দেশের বিস্তীর্ণ অংশ ৪০ ডিগ্রির উপরে৷ উত্তর -পশ্চিমের রাজস্থান , হরিয়ানা , গোটা মধ্য ভারত , দক্ষিণের তেলেঙ্গানা , তামিলনাড়ু-- তল্লাট বিশাল৷ বাদ শুধু পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড , বাংলা , ওডিশা৷ কারণ , গরম বাতাসের প্রবেশ নিষেধ এখানে৷

মৌসম ভবনের আবহবিদ সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘এই মুহূর্তে বাংলা লাগোয়া পূর্ব বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে৷ সেখান থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত৷ বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢোকায় আগামী দু’দিনও রাজ্য জুড়ে বজ্রবিদ্যুত্-সহ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা৷’এই অবস্থা এখনকার৷

হাওয়া অফিস বলছে, মাস জুড়েই অনুকূল ছিল আবহাওয়া৷ শুরুর দিকে, বঙ্গোপসাগরের বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত সঙ্গ দিয়েছে৷ মাঝে একটা দীর্ঘ সময় পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত ছিল নিম্নচাপ অক্ষরেখা৷ মাসের বিভিন্ন সময় ঝাড়খণ্ড , গাঙ্গেয় বাংলা , ওডিশা বা ছত্তিসগড়ের উপর ঘোরাফেরা করেছে ঘূর্ণাবর্ত৷ জলীয় বাষ্পকে নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত ঠেলে তুলতে সাহায্য করেছে সে -ই৷ এখন যে কাজটা করছে বিহারের ঘূর্ণাবর্ত৷ ২০১৬ সালেই এপ্রিলে ৪১ .৩ ডিগ্রির গরমে সেদ্ধ হয়েছিল কলকাতা৷ আট দিন পারদ ছিল চল্লিশের উপরে৷ সেই দুঃসহ ছবিটা এ বার নেই, তার অন্যতম কারণ এই প্রাকৃতিক অবস্থাগুলোর যোগ্য সঙ্গত৷ এরাই কখনও একা, কখনও যৌথ ভাবে ঠেকিয়ে রেখেছে পশ্চিমি গরম হাওয়া অর্থাত্ ‘লু’কে৷ হাত শক্ত করেছে দখিনা -পুবালি বাতাসের৷ যারা বারবার ডেকে এনেছে ঝড় -বৃষ্টিকে৷ তাপও তাই জব্দ!

লেখক: ভারতীয় সংবাদিক

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন