শিরোনাম :

বেকার ভাতার দাবিতে যুব সংগঠনগুলো এক হবে কি?


সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮, ০১:২৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বেকার ভাতার দাবিতে যুব সংগঠনগুলো এক হবে কি?

এখলাসুর রহমান: 

বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলেরই যুব সংগঠন রয়েছে। কোনো কোনো সংগঠনের একটি নয় দুটি যুব সংগঠন রয়েছে। যেমন যুব নারীদের সংগঠন। যে নারীরা যুব সংগঠনের সদস্য হওয়ার অধিকার রাখে তাদের আবার পৃথকভাবে যুব নারীদের সংগঠনের কী প্রয়োজন তা বোধগম্য নয়। আর এসব যুব সংগঠন যুবদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কি কোনো ভূমিকা রাখছে?

পড়াশোনা শেষ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি না পেয়ে হতাশায় বিপথগামী হচ্ছে এদেশের লক্ষ লক্ষ যুবক। অথচ এই যুবকদের জন্য রয়েছে মন্ত্রনালয়। রয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। রয়েছেন এর দুজন মন্ত্রী। একজন প্রতিমন্ত্রী আরেকজন উপমন্ত্রী। প্রতি জেলায় উপজেলায় রয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের শাখা। এসব কার্যালয়ে কি বেকার যুবকদের কোন তালিকা আছে? তারা কি বলতে পারবে তাদের নিজনিজ জেলা উপজেলায় কয়টি যুব সংগঠন রয়েছে? প্রতিটির সদস্য সংখ্যা কতজন?শুধু অফিস নিয়ে চেয়ারে বসে থাকা ছাড়া কি কাজ হয় ওখানে? কোন কোন যুব সংগঠনকে বলতে শোনা যায়,শিক্ষাশেষে কাজ চাই নইলে বেকারভাতা চাই। এই দাবী যদি খন্ডিত ভাবে না তুলে সকল যুব সংগঠনের মধ্য দিয়ে উত্থাপিত হত তখন কি তা বিশেষ গুরুত্ব পেতো না?

বেকার ভাতার দাবীতে প্রয়োজন একটি যুব কনভেনশনের আহবান। সরকার পন্থী ও সরকার বিরোধী পন্থী সকল যুব সংগঠনই এ কনভেনশনে যোগ দেবে। বেকার ভাতার দাবীতে একাট্টা হতে হবে সকল যুব সংগঠনকে। ৫ কোটি কর্মক্ষম মানুষ বেকারত্বের অভিশাপে পতিত রয়েছে। হতাশায় ও কর্মহীনতায় তাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে নেশার জগতে। সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে ইয়াবার গডফাদাররা তাদের অনেককে ইয়াবা বহনের কাজেও লাগাচ্ছে। এসব বিপথগামী যুবকদের পাশে দাঁড়াতে যুব সংগঠন গুলোর কি কোন দায় নেই?

সরকার খুব গুরুত্বের সাথে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করেছে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যুব মন্ত্রণালয় কি কাজ করছে বেকারদের জীবন মান উন্নয়নে? বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের যুব সংগঠন গুলোও এব্যাপারে নিরব কেন? বাংলাদেশ যুব মৈত্রী তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির পেজে বলছে শিক্ষাশেষে কাজ দাও নইলে বেকার ভাতা দাও। যুব মৈত্রী ১৪ দলীয় জোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির বন্ধু সংগঠন। আওয়ামী লীগ, বিএনপির মত তারা অঙ্গ সহযোগী সংগঠন বলেনা,বলে বন্ধু সংগঠন। বন্ধুর সম্পর্ক সহযোগীর চেয়ে গভীর। যদি তাই না হতো তাহলে দেশ বন্ধু হত দেশ সহযোগী। বঙ্গবন্ধু হত বঙ্গ সহযোগী। যুব মৈত্রী এই বেকার ভাতার দাবী কি বন্ধু সংগঠন ওয়ার্কার্স পার্টির কাছে তুলে ধরেছে? ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সমাজকল্যান মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। সমাজসেবায় কি বেকারদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে? যুব মৈত্রীর কি উচিত নয় তাদের বন্ধু সংগঠনকে দিয়েই এ দাবী কে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া? বন্ধু সংগঠন কি পারতোনা সংসদে বেকার ভাতার দাবী তুলতে?

যুবলীগ, যুবদল, যুব সংহতি, যুব মৈত্রী, যুব ইউনিয়ন, যুব জোট, যুব আন্দোলন প্রভৃতি কত নামের যুব সংগঠন দেশে। প্রতিটি সংগঠনই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের বন্ধু কিংবা সহযোগী সংগঠন। প্রতিটি যুব সংগঠনই যদি নিজ নিজ মূল সংগঠনকে বেকার ভাতার দাবির পক্ষে নিয়ে আসে এ দাবীর পক্ষে কি তখন ঐক্যমত সৃষ্টি হয় না? অার ঘুরেফিরে কি এসব রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসছেনা? জাসদের যুব সংগঠন জাসদ নেতার মন্ত্রনালয়ে শিক্ষাশেষে ঘুষ দুর্নীতিমুক্ ভাবে চাকরির দাবিতে সোচ্চার হোক। জাতীয় পার্টির যুব সংহতি তার দলীয় মন্ত্রীদের কাছে এ দাবী তুলুক। আওয়ামী লীগের যুবলীগ দাবি তুলুক আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের কাছে। বিএনপির যুবদল দাবি তুলুক বিএনপি নেতৃত্বের কাছে। সরকার ও সরকার বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলেরই উচিত এ দাবীতে একমত হওয়া। দেশব্যাপী চলছে বেকারদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টা। চলছে নিয়োগ বাণিজ্যের নামে বেকারদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। চাকরির জন্য টাকা দিয়ে চাকরিও না পেয়ে আম ছালা দুটোই হারিয়ে পথে বসছে লক্ষ লক্ষ যুবক,যুবতী। বাংলাদেশের যুব সংগঠন গুলি কি এ খবর রাখেনা? না রাখলে কেন রাখেনা? রাখাটা কি তাদের দায়িত্বের পর্যায়ে পড়েনা?

শিক্ষাশেষে কাজ দাও, নইলে বেকার ভাতা দাও। এটাকে কেবলই ইস্যু করে ইস্যুবাজী হোক এটা কারও কাম্য নয়। এদেশে দুর্নীতিবাজরাও দুর্নীতি বিরোধী মিছিল, শোভাযাত্রা ও মানব বন্ধনে যায়। মাদকাসক্তরাও মাদকবিরোধী মিছিলে যায়। সন্ত্রাসবিরোধী সভায় জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় সন্ত্রাসের অভিজ্ঞ কারিগরেরা। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তুখোড় বক্তৃতা ঝাড়ে যারা তারাই নিজগৃহে পুষে বৈষম্য ও শোষণ বঞ্চনা। তারাই গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে। বক্তাদের বক্তব্যে আজকাল মানুষ আশান্বিত হতে ভুলে গেছে। কারণ এগুলো হয়ে উঠছে কেবলই কথামালার ভূনাখিচুরি মাত্র। শিক্ষাশেষে কাজ খুঁজতে খুঁজতে কতকত শিক্ষিত বেকার তার চাকরির আবেদনের বয়স সীমা হারাচ্ছে। এ পরিসংখ্যান কি জানে যুব মন্ত্রনালয়,বিভিন্ন যুব সংগঠন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়? চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ করার দাবি উঠছে রাজপথে। এ দাবীকে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশের কয়টি যুব সংগঠন? বয়সসীমা ৩৫ করলে কি সরকারি অফিস আদালতে কোন সমস্যা হতে পারে? নইলে কেন এ দাবি মানতে এত সময় ক্ষেপন?

শিক্ষিত বেকারদের অনেকেই বেকারত্ব সইতে না পেরে জড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা ব্যবসার মত সমাজবিরোধী অপকর্মে। কত বেকার চাকরির জন্য টাকা দিয়ে বাপ-মায়ের সহায় সম্পদ বেঁচে পথে বসেছে। যারা এদেশের যুব সমাজকে নিয়ে রাজনীতি করছেন তারা এসবের কোনো খবর রাখেন? কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে কী ভূমিকা রাখছে? দেশের সকল যুব সংগঠন যতদিন পর্যন্ত এ যুব সমাজের পক্ষে না দাঁড়াবে ততদিন যুবকদের এই অমাবস্যার প্রহর ঘুচবেনা। সরকারি বরাদ্দের প্রতি বছর যে লুটপাট হচ্ছে প্রয়োজনে এগুলো উদ্ধার করে বেকার ভাতা দেয়া হোক। এদেশে উন্নয়ন যে হারে হয় লুন্টনও সে হারে হয়। ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দে ২৫ লাখ টাকারও কাজ হয়না। এক শ্রেণির লোক কথিত উন্নয়নকেই তাদের স্বার্থসিদ্ধির বাহন হিসেবে নিচ্ছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ,কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি কোষাগার হতে অর্থ বরাদ্দ আনা হয়। এনে একটি লুণ্ঠনের সিন্ডিকেটকেও সক্রিয় করা হয়। ‘সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল’ কথাটি এমনি এমনি চালু হয়নি এর যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা রয়েছে।

ছাত্র যুবরাই দেশের প্রাণশক্তি। ছাত্ররাই ছাত্রত্বের সময় পার করে যুবত্বে প্রবেশ করে। শিক্ষাশেষে কাজ না পেয়ে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে উঠছে তারা। এই বোঝা অপসারণের তেমন কোন উদ্যোগ নেই দেশে। দেশের উন্নয়নকে যথার্থ উন্নয়নের দিকে নিতে হলে যুব সমাজের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন সকল যুব সংগঠনের সোচ্চার ভূমিকা। শিক্ষাশেষে কাজ দাও, নইলে বেকার ভাতা দাও। এই দাবিতে সকল দ্বিমত অথবা ভিন্নমত পরিহার করে এক হতে হবে সকলকে। এটা আপামর যুব সমাজের প্রাণের দাবি। এটা নিয়ে কোনো ইস্যুবাজি কিংবা কৃতিত্ববাজি নয়। এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার তা তা করা হোক। উপায় একটাই সকল যুব সংগঠনের এ দাবিতে ঐক্যমত হওয়া। তা না হলে এটাও ইস্যুবাজির গলাবাজিতেই হারিয়ে যাবে। বাংলাদেশের সকল যুব সংগঠনের প্রতি আহ্বান, আসুন এ দাবিতে সোচ্চার হোন সকলে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন