শিরোনাম :

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের মূল্যায়ন নেই কেন?


বৃহস্পতিবার, ৯ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের মূল্যায়ন নেই কেন?

এখলাসুর রহমান: 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এই নির্মম হত্যাযজ্ঞটির পরেও ফুঁসে উঠলো না দেশ! কাপুরুষের মত সারা জাতি চুপসে গেল। অথচ এই মানুষটিই বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতির মাথা উঁচু করেছেন। জেল, নির্যাতন ও মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন তিনি। শিশুর মত সরল এই মহৎপ্রাণ মানুষটি কাউকে সন্দেহ করতেন না। মানুষের প্রতি ছিল তার অগাধ বিশ্বাস।

মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তেও তিনি এটা বিশ্বাস করেননি যে, কোনো বাঙালি তার কোনো ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু নিয়তির পরিহাস, অকৃতজ্ঞ, মুনাফেক ও বেঈমানদের গভীর ষড়যন্ত্রেই জীবন দিতে হল তাকে। আগস্টের এই শোকাবহ দিনে কারা প্রতিবাদে ও প্রতিরোধে জেগে উঠেছিল সেদিন? কারা ভীরু বিশেষণটা মুছে দিতে চেয়েছিল সেদিন? ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিল, ২৬ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বরে তারা অবশ্যই মূল্যায়িত হয়। তাদেরকে দেখা যায় মঞ্চে সম্মানসহকারে বসতে ও পুরস্কৃত হতে। ভাষার জন্য যারা লড়াই করেছেন, তাদেরকেও সম্মাননা পেতে দেখা যায়। ২১ ফেব্রুয়ারির দিনে তারাই সেদিন হয় সর্বোচ্চ সম্মানের দাবীদার। ঠিক তেমনই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান দিবসে কারা মূল্যায়িত হয়? এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সৈনিকরা নয় কি?

১৫ আগস্ট আসে, যায়। কিন্তু এর প্রতিরোধ যোদ্ধারা পায় না কোন স্বীকৃতি ও সম্মান। কেন এমনটি হচ্ছে? তবে কি বঙ্গবন্ধু নেই বলে? এত এত বঙ্গবন্ধু ভক্তরা কোথায় থাকে এই দিনটিতে। যারা সেদিন প্রতিবাদ করেছিল তৎকালীন সরকার তাদের অভিহিত করতো দুষ্কৃতিকারী হিসাবে। মুশতাক, জিয়া, এরশাদ সবাই এই নামেই ডাকতো। খুনকে বৈধতা দিতে তৎকালীন খুনী মুশতাক সরকার ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করে মুজিব হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকেও থামিয়ে দিলো। ক্ষমতায় বসে আওয়ামী লীগ ও বাকশাল দুটোকেই বিলুপ্ত করল মুশতাক। দলের নামকরণ করলেন ডেমোক্রেটিক লীগ। এই দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে কারা কারা ছিল? কত সদস্য বিশিষ্ট ছিল কেন্দ্রীয় কমিটি? এ বিষয়গুলো জাতির সামনে পরিষ্কার হওয়া কাম্য।

ডেমোক্রেটিক লীগ কি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছিল? কত সাল হতে কত সাল পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম চালু ছিল? কত সনে তার বিলুপ্তি ঘটে? ডেমোক্রেটিক লীগের পরে আত্মপ্রকাশ করল ফ্রিডম পার্টি। এর চেয়ারম্যান হন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী লেঃ কর্নেল ফারুক রহমান। দলটি তখন গর্ব করে বলে বেড়াতো, আমরাই ৫ম বাহিনী ও শেখ মুজিবকে হত্যা করেছি।

ফ্রিডম পার্টির দৈনিক মিল্লাত নামের একটি পত্রিকাও ছিল। যার কাজই ছিল বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হনন। তারা দুঃশাসনের ১৩৩৮ রজনী নামের একটি বইও লিখেছিল। ১৫ আগস্টের খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলকে দুঃশাসন বলে অভিহিত করতো। তারা প্রজন্মের সামনে মুজিবকে ফুটিয়ে তুলতো অনেক খারাপভাবে। দৈনিক মিল্লাতের সেদিনের সাংবাদিক কলিগরা আজ কোথায়? তারা জেনে শুনে বঙ্গবন্ধুর খুনীর পত্রিকায় কিভাবে চাকরি করতো? দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় সম্পাদক কারা কারা ছিল?পত্রিকাটির পৃষ্ঠপোষক কারা ছিল? কারা ছিল এর অর্থের যোগানদাতা?

১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডিকে চাপা দিতে কত ফন্দি ফিকির চলেছে বিভিন্ন সময়ে। রেডিও টিভিতে ১৫ আগস্ট নিষিদ্ধ ছিল সেদিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সেসময় টিভিতে কথা বলতে সাহস করা কতজন মানুষ ছিল তখন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুকে ঘিরে শোক পালন করার মত সাহসী ব্যক্তি কে ছিল তখন? রেডিও টিভিতে হেলাফেলা করার মতো করে বলা হত মরহুম মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু নামটিও ছিল সেদিন নিষিদ্ধ। এখন ঘটা করে পালিত হয় জাতীয় শোক দিবস। রেডিও টিভিতে ও পত্রপত্রিকায় কেবলই বঙ্গবন্ধু। আর সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে চেপে যেতে কত কি ফন্দি! বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলে জাতি জেগে উঠতে পারে এই ভয় ছিল সবার মনে। জাতির পিতার কন্ঠস্বরটিকে তাই চেপে যেতে থাকে মতলববাজের দল। জিয়া ও এরশাদের বড় ভয় ছিল এই ভাষণটিকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একটি কালোদিন। এই দিনটিকে ঘিরে চতুর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বিশ্বাসঘাতকের দল। যে জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিলেন সে জাতিই তাকে হত্যা করল। পিতার রক্তে রঞ্জিত হল বাংলার মানচিত্র। আগস্ট আসে আগস্ট যায়। আগস্টের মর্যাদাকে যারা সুউচ্চে স্থাপন করেছে, প্রতিবাদে, প্রতিরোধে জেগে উঠেছে। সেই আগস্টের বীর সৈনিকরা কি ১৫ আগস্টে মূল্যায়িত হয়েছে কখনো? আজও কেন তা হচ্ছে না? জাতীয় শোক দিবসকে যারা প্রতিবাদে ও প্রতিরোধে জাগিয়েছিল সেই সূর্য সন্তানদের জাতীয় শোক দিবসের মঞ্চে মূল্যায়ন হবে কবে?

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন