শিরোনাম :

বিদেশী পর্যবেক্ষকদের জন্য ভোটগ্রহণের তারিখ পেছাতে হবে কেন?


বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিদেশী পর্যবেক্ষকদের জন্য ভোটগ্রহণের তারিখ পেছাতে হবে কেন?

সুলতান মির্জা: 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ একবার পেছানোর পরও বিএনপি অযৌক্তিকভাবে বলছে একমাস পেছানোর জন্য। কিন্তু তারা এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোনো যুক্তি দিতে পারেনি। অবশ্য তারা বলছে, সামনে বড়দিন আছে, তারা এ উপলক্ষে ছুটিতে থাকবে, তাই আসতে পারবে না।

এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন তো আসতেই পারে, তাহলে কি বিদেশি প্রভুরা পর্যবেক্ষণের নামে এসে হুমকি দিয়ে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপি-জামায়াত-কামাল হোসেন গংকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবে? বিদেশী প্রভুরা আসতে না পারায় এখন কি বিএনপি- জামায়াত-কামাল হোসেনদের ক্ষমতায় আসার স্বপ্নপূরণ হচ্ছে না?

এই প্রশ্ন এ কারণে আসছে যে, কিছু দাবি করার আগে দাবির ম্যাচিউরিটি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভেবে দেখাটা জরুরী সবার আগে। তাছাড়া এটাও সত্যি যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বিদেশী বন্ধু আছে, উন্নয়ন সহযোগী আছে, কিন্তু কোন প্রভু নেই। সেই হিসেবে যেসব বিদেশী রাষ্টগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন কিংবা অন্যান্য বিষয় নিয়ে আগ্রহী তারা অবশ্যই বাংলাদেশের সহযোগী বন্ধু রাষ্ট্র, উন্নয়ন সহযোগী।

কিন্তু এর মানে এমন নয় যে বিদেশী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের প্রভু রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ হলো তাদের কলোনী স্টেট। কাজেই তাদের সুযোগ ও সুবিধা মত সময় নিয়ে তারা আসতে পারবে নাকি ছুটিতে যাবে সেইসব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে? একদম হাস্যকর ও ছেলেমানুষি হয়ে গেল দাবিটা।

এ বিষেয়ে আরেকটা প্রশ্ন উত্থাপন করা যেতেই পারে। বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চায় এমন বিদেশি রাষ্ট্র বা তাদের প্রতিনিধি, কোনো সরকার প্রধান কিংবা তাদের প্রতিনিধি কি বিএনপি-জামায়াত ও কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা বড়দিনের ছুটিতে থাকবে তাই আসার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না? তারা কি বলেছে, এমন অবস্থায় নির্বাচনে যেও না, নির্বাচনে হেরে গেলে আমাদের কিছু করার থাকবে না? উত্তর কী হবে?

একটা কথা মনে রাখতে হবে, যেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি-জামায়াত-কামাল হোসেনের ঐক্যজোটের দাবির প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যেকোন পর্যবেক্ষককে অবাধে আসতে দেয়া হবে। সেখানে বড়দিনের ছুটিকে গুরুত্বে নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে, এটা কেমন দাবি? বাংলাদেশের গণতন্ত্রে, সংবিধানে কিংবা আইনের শাসনে কি উল্লেখ এমনটা রয়েছে?

আমরা তাহলে কোন দেশে আছি? কারা এই দেশের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এই দেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে? যদি বাংলাদেশের বাস্তবতা, বাংলাদেশের ভোটার, বাংলাদেশের মিডিয়ার উপর আস্থাই না থাকে, তাহলে এরা শুধুই বিদেশী পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে কিভাবে এরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসনের বাস্তবায়ন করবে? এরা কি ক্ষমতায় আসার আগেই স্বাধীন বাংলাদেশকে বিদেশীদের কাছে বর্গা দিয়ে কলোনী রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলেছে?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-নির্বাচনযাহোক, বিএনপি জামাত ও কামাল হোসেনের ঐক্যজোটের মনে রাখা উচিত যে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৫৯৩ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৯৩ জন বিদেশী পর্যবেক্ষকের কাছে যদি বড় দিনের ছুটি, নববর্ষের ছুটি ফ্যাক্টর না হয়ে থাকে, বড়দিন উদযাপন করে নববর্ষের ছুটির আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিদেশী পর্যবেক্ষকের কাছে বড়দিনের ছুটি, নববর্ষের ছুটি ফ্যাক্টর হবে কেন?

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন