শিরোনাম :

মাটি কামড়ে লড়াই করেই শক্ত হল হাত


বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মাটি কামড়ে লড়াই করেই শক্ত হল হাত

অমল সরকার

নাম-পরিচয় জানতে চাইলে বলতে চাননি। কিন্তু বিজেপির সেই নাম না-জানা নেতার কথাই মিলে গেল। মধ্যপ্রদেশে ভোটের তখনও দিন দশেক বাকি। ইন্দোরে দলীয় কার্যালয়ে বসে টেলিফোনে কাউকে তিনি বলছিলেন, ‘জনতাকে সন্তুষ্ট করা কুকুরের লেজ সোজা করার চেয়েও কঠিন কাজ। দুর্নীতি-অনিয়ম-অনুন্নয়ন---এসব কিচ্ছু না। বিপদ আসলে রাহুল গান্ধী।’

কথাটা কতটা নির্ভেজাল, গো-বলয়ের তিন রাজ্যের বিধানসভা ফলই তার প্রমাণ। ভারতের রাজনীতিতে দেশের যে রাজ্যগুলি কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে বেছে নিয়েছিল তার মধ্যে গুজরাট বাদে বাকি তিন রাজ্য ছিল রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড়। মঙ্গলবার বিধানসভা ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সেই তিন রাজ্যেই কেন্দ্রের শাসকদল বড় ধরনের ধাক্কা খেল। বলা যায়, বিজেপির গর্ভগৃহের ভিত নড়িয়ে দিলেন কংগ্রেসের তরুণ সভাপতি। গত বছর ঠিক এই দিনেই মায়ের হাত থেকে দলীয় সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেচিলেন সনিয়া-পুত্র। তিন রাজ্যের ফলাফল নিঃসন্দেহে দলীয় সভাপতি পদে রাহুলের বর্ষপূতির্তে সেরা উপহার।

ভোটের ময়দানে রাহুল যদিও নরেন্দ্র মোদীকে মোকাবিলা করে আসছেন সেই ২০১৪-র আগে থেকেই। সাড়ে চার-পাঁচ বছরের মাথায় ৫৬ ইঞ্চি বুকের ছাতিওয়ালা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই প্রথম অনেকটাই ঘায়েল করতে সক্ষম হলেন সেই রাহুল। বিজেপি এই ভোটের প্রচারেও যাকে ‘পাপ্পু’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। স্বয়ং মোদী তো নেতা হিসাবে রাহুলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রায় প্রতিটি সভায় প্রশ্ন তুলেছেন। ভোটের ফল বলছে, শুধু নেতা হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠাই নয়, এই নির্বাচনে কংগ্রেসেরও পুনর্জন্ম হল।

রাহুলের এই সাফল্য মাপতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে সাড়ে চার বছর আগে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটে ষাট বছর দেশ শাসন করা কংগ্রেসের আসন ৪৪-এ নেমে আসার পরও রাহুল কালক্ষেপ করেননি। রাতারাতি লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়েছিলেন। ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের নানা প্রান্তে। বিশেষ করে কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন যথাসাধ্য।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন