শিরোনাম :

একজন লৌহমানব নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ


সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

একজন লৌহমানব নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ

মোঃ সারোয়ার আহমাদ:

গ্রামকে বড্ড ভালো লাগে। কিন্তু সেই ভালো লাগা বা ভালোবাসার জায়গা থেকে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে হাতেখড়ি নিলেও সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে অনেক সুবিধা গ্রহণ করতে পারিনি। অজপাড়া গাঁয়ের নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটরডেম কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারিনি। গ্রামেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। মন খারাপের এই গাড়িটাচলছিলো প্রথম বর্ষের পুরোটা সময় জুড়ে। নিজেকে হারিয়ে ফেলার উপলব্ধিটা আসার সাথে সাথেই নিজেকে সময় দিতে থাকি আর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছি বারবার। নিজেকে ফিরে পাওয়ার সেই সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। পরেরটা ইতিহাস...
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম দিকে অবস্থান করেও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে ভর্তি হয়েই স্বপ্ন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। আমার পরিবারের কেউ শিক্ষকতায় না থাকলেও এই মহান পেশাকে মজ্জাগত মনে হতো আমার কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছি। সেই ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে এসেছি জীবন ও জীবিকার টানে। সাংবাদিকতা দিয়েই পেশা শুরু করেছি। অন্যান্যদের মতো আশানুরূপ সোনার হরিণের দেখা না পেয়ে হতাশায় আচ্ছন্ন হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার। আশা আর হতাশার মাঝেই চলছিলো আমার পেশাগত জীবন!
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি) এ সুযোগ আসে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার। আত্মবিশ্বাস আর সাহস নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও তথাকথিত লবিং (এটাই চাকুরী পাওয়ার প্রধান নিয়ামক) নামক ফোয়ারা না থাকাটা আমাকে দুর্বলতর করছিলো। মনের মধ্যে টিকে থাকার আশা সঞ্চারিত হলেও ভরসা রাখতেই পারছিলাম না। ৯ মার্চ ২০১৯ হঠাৎ রিংটোন বাজতেই ফোনের ওপাশ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে আমাকে স্বপ্নের মধ্যেই ছেড়ে দিলেন। পরদিনই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছি। সে স্বপ্নপূরনের লৌহমানবের কথাটা জানাই বাহুল্য, জানতেই হবে, জানাতেই হবে, এ যেন আমাদের নৈতিক ও আদর্শিক বাস্তবতা। তিনি আর কেউ নন। তিনি আমাদের পিতৃতুল্য মহামান্য উপাচার্য Professor Dr. Major Nazmul Kalimullah, BNCCO স্যার। তিনি মহানায়ক, অতন্দ্র প্রহরী, তিনি অনুপ্রেরণাদায়ী স্বপ্ন বুননের এক ফেরিওয়ালা। তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। তিনি বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবে হাজারো যোগ্যদের স্বপ্ন, টিকে থাকবে পেশাদারিত্ব, এগিয়ে যাবে শিক্ষাব্যবস্থা, পথ প্রদর্শক হয়ে থাকবে তাঁর নানান উদ্যোগ। সততা, আদর্শ, পরিশ্রম আর কর্মনিষ্টার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত আমাদের স্যার!!!

 

প্রভাষক

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)

(লেখকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া হয়েছে)

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন