শিরোনাম :

আমাদের ভেজালই খাওয়া উচিত!


বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আমাদের ভেজালই খাওয়া উচিত!

নাদিম মাহমুদ: অধ্যাপক এবিএম ফারুক ৪৩ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ১৯৯০ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত তিনি প্রায় ১১ টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যার সিংহভাগই ঔষধ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বাজারের কিছু পণ্যের পরীক্ষা করে যে ফল প্রকাশ করেছেন তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের যে অবস্থান দেখছি তা সত্যি লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বলছি না অধ্যাপক ফারুকের গবেষণার মান কেমন, তবে তার চেয়ে অনেক ভাল মানের গবেষক যে বাংলাদেশে নেই তা বলা যাবে না। তাদের গবেষণা প্রকাশিতও হয়েছে বিশ্বের নামি-দামি জার্নালে।

প্রশ্ন হল, অধ্যাপক ফারুকের মত দৃঢ়চেতা শিক্ষক বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে শুনি? তিনি যে পরীক্ষা করেছেন, তা তো আহা মরি কোন গবেষণা নয়, সেফ কিছু টেস্ট ছিল, এই কাজটি করার সাহসই বা কোন অধ্যাপক/গবেষক দেখিয়েছেন?

হাজার হাজার শিক্ষকদের ভিড়ে যিনি মাথাটা তুলেছেন, সেই মানুষটির পাশে কোন সহকর্মী দাঁড়িয়েছেন?

আপনি নামি দামি গবেষক, আপনার বড় বড় ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টরে প্রকাশনা আছে, আপনি এই অধ্যাপকের কাছে নস্যি। যে কাজ আপনার দেশের জন্য কাজে লাগে না, সেই কাজে কিছুটা হলেও ব্যর্থতা লুকিয়ে থাকে।

আজ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজ দেশের সম্পদ/পণ্যে নিয়ে গবেষণা করতেন, তাহলে নিশ্চয় অধ্যাপক ফারুককে ক্ষমতাধারীদের চোখ রাঙানি দেখতে হতো না। কর্পোরেটের কাছে নতজানু হতো না। এই জাতির কপাল খারাপ যে এই দেশের বুদ্ধিজীবীরা মেরুদণ্ডহীন। তাদের মেরুদণ্ডহীনতার সুযোগে অধ্যাপক ফারুকরা অসহায়!

এই দেশে নদী বাঁচাতে, বন বাঁচাতে, নেতা বাঁচাতে, রাস্তা বাঁচাতে আন্দোলন হয়, কিন্তু ভেজাল ঠেকাতে প্রতিবাদ করার কেউ সাহস পায় না।

তাই বলতে ইচ্ছে করছে, কি দরকার ছিল অধ্যাপক ফারুককে এই ঝুঁকি নেয়ার। সবাই তো এই বিষ খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে লেকচার দিচ্ছে, টকশো করছে, পত্রিকায় লিখছে, রাষ্ট্রশাসন করছে, তাহলে আপনার কিসের মাথা ব্যথা মহাশয় এই কাজটি করার? আপনার বিলেত ফেরত ডক্টর করা সহকর্মীরা কি জানেন না, যে তারা ভেজাল খাচ্ছেন, ভেজাল পড়ছেন এবং ভেজাল পড়াচ্ছেন? যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই সামান্য পরীক্ষা করার যোগ্যতা নেই, নেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার সুযোগ সরকার দেবে না এটাই স্বাভাবিক। বিষ খেলেও যাদের মুখ দিয়ে কথা বের হয় না, তাদের জন্য ভেজাল খাওয়াই শ্রেয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন