শিরোনাম :

অবসর বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা


রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৫, ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

অবসর বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা

মোঃ আশারাফ হোসেন : সম্প্রতি সংবাদপত্র থেকে জানা গেছে যে, পেনশন বরাদ্দ সরকারের বাজেটে আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারের ১৫ লক্ষ পেনশন হোল্ডার রয়েছে। আগামী বছর এর সঙ্গে একটা বৃহৎ অঙ্ক যুক্ত হবে; কারণ ৫৯ বছর পূর্ণ করাতে অনেক সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশনে যাবেন। ব্রিটিশ ভারতে সরকারী চাকুরেদের ইতিহাস হতে জানা যায় যে, সিভিল সার্ভিসের প্রথম দিকে ১৮ থেকে ২০ বছরের স্থানীয় লোকদের ব্রিটিশ সরকার চাকুরীতে নিয়োজিত করতো। ব্রিটিশ-ভারতে একজন চাকুরে ২০ বছর বয়সে চাকুরীতে প্রবেশ করলেও ৩৭ বছর চাকুরীর সুযোগ পেত। পরবর্তীতে চাকুরীতে প্রবেশের বয়স কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুরুতে মেট্রিকুলেট ছিল চাকুরীতে যোগদানের শিক্ষাগত যোগ্যতা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সময়ে চাকুরীতে প্রবেশের বয়স কয়েকবার বৃদ্ধি করার পর বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩০ বছর স্থির করা আছে। সম্প্রতি বিসিএস ক্যাডারে চাকুরীর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর বা সমপর্যায়ের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে স্নাতক ছিল। বর্তমানে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর বয়স ৫৯ বৎসর। যা বর্তমান সরকার দুই বছর বৃদ্ধি করে পুনঃনির্ধারণ করেছে। ইতিপূর্বে ৫৭ বছর পূর্ণ হলে একজন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবসরে যেতে হতো। অবসর বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি অবশ্যই সরকারের একটি প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত। একজন সরকারী কর্মকর্তা বর্তমানে ২৯ বছর চাকুরীর সুযোগ পেয়ে থাকেন যদি তিনি ৩০ বছর বয়সে কর্মে যোগদান করে থাকেন যা কিনা ব্রিটিশ-ভারতে ছিল ৩৭ বছর। সরকারের পরিবার পরিকল্পনা ব্যাপক প্রচারে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষিত যুবকেরা বিলম্বে বিয়ে করা ও ছোট পরিবার গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। যখন তারা ৫৯ বছর বয়সে উপনিত হয়, তারা দেখে যে, তাদের সন্তানেরা শিক্ষা শেষ করতে পারেনি এবং রোজগার শুরু করেনি। তারা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করে যে, তাদের মেয়েকে তখনো বিয়ে দেয়া হয়নি যা কিনা বাংলাদেশের সমাজে বাবা-মায়ের একান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এপ্রিল ২০১৫ তে ২০১৩ সময়ে দেশের মানুষের গড় বেঁচে থাকার সময় ৭১ বছর ১ মাস বলে তথ্য প্রকাশ করেছে যা কিনা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ছিল ৪৫ বছর। নাগরিকদের অধিক আয়, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সরকারের মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষকদের অবসর বয়স ৬৫ বছর। তারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। পূর্ববর্তী সরকার সম্মানীত সুপ্রীমকোর্ট বিচারকদের অবসর বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করেছিল যা বর্তমান সরকার বলবৎ রেখেছে। সন্দেহাতীত ভাবে এটা বলা যায় যে, সুপ্রিমকোর্ট বিচারকগণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে ৬৭ বছর বয়স যদি বিচারকদের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তবে সরকারী কর্মকর্তাদের কেন ৫৯ বছর বয়সে (আট বছর পূর্বে) অবসর গ্রহণ করতে হবে? দেশে আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীরা ৫৯ বছরের উর্দ্ধ বয়সে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন বিখ্যাত মন্ত্রী ৫৯ বছর বয়সের অনেক বেশী বয়সে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি’র চেয়ারপারসন ৭০ বছর বয়সেও দলটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন। সরকার কর্মকর্তা-কমকর্মচারীদের বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করলে সরকারের অবসর ভাতার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ধরা যাক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে ৭০ বছর একমাস বেঁচে থাকন (পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে) তবে একজন কর্মকর্তা ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের পর গড়ে তিন বছর একমাস পেনশন ভোগ করবেন। যদি তিনি ৫৯ বছর বয়সে অবসরে যান তবে তিনি ১১ বছর একমাস গড়ে পেনশন ভোগ করবেন। দেখা যাচ্ছে যে, অবসর বয়স ৬৭ বছরে সম্প্রসারিত করলে সরকারের কোষাগার হতে গড়ে আট বছরের পেনশন অর্থ ব্যয় কম হবে। আমরা জানি, অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। এতে করে জাতি ও কর্মকর্তা উভয়পক্ষ উপকৃত হবে। কর্মকর্তা ও সরকারের জন্য এটা জয়-জয় অবস্থা। অবসর বয়স ৬৭ বৎসরে সম্প্রসারিত করলে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩৭ বছর চাকুরীর সুযোগ পাবেন; যদিও তিনি ৩০ বছর বয়সে কর্মে যোগদান করে থাকেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাঁর সন্তানের পড়া শেষ করা ও মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য দুঃশ্চিন্তা করতে হবে না। এমন অবস্থায়, সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণের মত সরকারী কর্মকর্ত-কর্মচারীগনের অবসর বয়স ৬৭ বছরে উর্ন্নীত করা প্রয়োজন। লেখক : মোঃ আশারাফ হোসেন ১২০, সেন্ট্রাল বাসাবো, ঢাকা-১২১৪।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন