শিরোনাম :

এই আবালীকরণের মুক্তি কবে?


বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৮:৫১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

এই আবালীকরণের মুক্তি কবে?

নাদিম মাহমুদ:

আমরা তিন ভাই বোন। একজন আরেক জনের মধ্যে বয়সের পার্থক্য তিন বছর। ছোটকালে আমার ছোট ভাই ও বোন নিজেদের মধ্যে অহরহ মারামারি করতো। এখনো করে। সন্ধ্যায় যখন হ্যারিকেনের আলোয় পড়তে বসি, তখন ওদের দুই জনের মধ্যে কারো না কারো চোখে পানি ঝড়তো। আমি মাঝে মধ্যে মীমাংসা করে দিতাম।

ছোট বোনকে আমরা বাবা অনেক ভালবাসে। একদিন ওরা মারামারি লাগছে। বাবা বাজার থেকে ফিরে ছোটবোনকে কান্না করতে দেখে ছোট ভাইকে কয়েকটা থাপ্পড় দিচ্ছিল তখন ছোটবোন এগিয়ে গিয়ে ভাইকে বাঁচায়। তার গায়ে বাবা হাত না দিতেই,  বাধা দেয়।

এইকাণ্ড দেখার পর থেকে ওরা মারামারি লাগলে কিংবা কথাকাটি করলে আমি আর এগিয়ে যাই না। বাবাও যায় না। আজ ওরা দুই জনই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। এখনও তারা মারামারি করে, আবার এক থালায় খাবারও খায়।

আজ অনেক দিন পর ছোটকালের ওই ঘটনা মনে করে অনেক হেসেছি। আমাদের তিন ভাইবোনের বেড়ে হওয়ার এই গল্পের সাথে বর্তমানে দেশের কিছু ঘটনা মিলিয়ে সত্যিই অনেক হাসি পাচ্ছে।

গত মাসে ঢাকায় প্রবীর সিকদার কাহিনী নিয়ে পুরো দেশবাসি আবেগের গঙ্গায় ভেসেছিল। তার বিরুদ্ধে সদ্য জন্ম নেয়া ৫৭ ধারায় ভ্রষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু ভিতরের ঘটনা ছিল অরুণ গুহ নামক এক ব্যক্তির বসতভিটা হরণ করেছিল মন্ত্রী। যিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল বলে প্রবীর সিকদার তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাসিকরণ করেছিল। যার শ্রুতি কট খেয়ে ৫৪ ঘণ্টার জেল ভ্রমণ করতে হয়েছিল।

সেই সময় ফেইসবুকারা সেকেণ্ডে পোস্ট দিয়ে সরকারের গুষ্টি, মোশারফের মুষ্টিকে ভষ্ম করে দিচ্ছিল।

আর ওই ৫৪ ঘণ্টায় আমাদের মতো আবালরা তার মুক্তি চেয়ে ফেইসবুকে আইলা তুলে ৫৭ কে কলা দেখিয়ে ঘরে তোলেছিল প্রবীর সিকদারকে।

খুশি হওয়ার যখন কথা তখন গুহ কাকার বিষবাষ্প দেখে মনে হলো প্রবীর সিকদারকে জেলে রাখাই উচিত ছিল। কেন তিনি অরুণ গুহের জমি হরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মন্ত্রীর বিরাগ ভাজন হয়েছিলেন?

অরুণ গুহ কি বলেছিল মনে নেই, তিনি বলেছিলেন, তার জমি কেউ দখল করেনি, স্বেচ্ছায় বিক্রি করেছেন। যারা তার জমি খোয়ানোর খবর ছড়িয়েছে তারা মিথ্যাবাদী, প্রতারক।

পর্দায় যেন ছবিটি এসেছিল, তা যে অপরিপক্ক পরিচয়ে পরিচালিত হয়েছিল তা দেখে অনেক হেসেছি। গণমাধ্যমেও গুহ কাকে শুদ্ধি দিয়ে উদ্ধার করেছিল।

দুইদিন আগে শাবিতে পিটুনি দেয়ার ঘটনায় সেই একই ঝড় বইতে শুরু করে ফেইসবুকে। এবারও ক্ষমতাশীন ছাত্র সংগঠনকে তুলোধুনো করে দেয়া হচ্ছে। সরকার আগাছা দূরীকরণে নাতিদীর্ঘ পদক্ষেপের আহ্বান করেছে। সেলিব্রেটি ফেইসবুকার মুখে ফেন তুলে খেয়ে না খেয়ে রাত বিরাতে ফেইসবুক কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল।

প্রসঙ্গ জাফর ইকবাল স্যাররা মার খেয়েছেন। ইয়াসমিন ম্যাডামরা লাঞ্ছিত হয়েছে। গণমাধ্যমে সংবাদের ঘনঘটা। সবই যখন প্রতিবাদ মুখর সেই জাফর ইকবাল স্যারের অমৃয়বাণী আজ যখন ভিডিও ফুটেজে দেখলাম, তিনি বলে দিলেন, তাহারা বাচ্চা মানুষ, তারা কেউ হামলা করেনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া বড্ড অন্যায় হয়ে গেছে।

এখন উত্তর দেন গোলাম হোসেন। আপনারা যারা কয়েক দিন ধরে ফেইসবুকে বৃষ্টিভেজা-গলায় দড়ি দেয়ায় মর্মাহত তারা এখন উত্তর দেন, কার জন্য আপনারা খাওয়া-দাওয়াকে উদ্ধার করে ফেইসবুকে, অনলাইনে গলা ঝেড়েছেন, এখন মুখটা কোথায় লুকাবেন?

এতো আবেগের ঘনঘটা তখন এই মহৎ মানুষের মহত্ব আপনাদের চিন্তাশীলতার কোন পরিবর্তন আনবে কি? থামবে কি আগ বাড়িয়ে কথা বলার? লজ্জার অনুভূতি কি গায়ে লাগবে? যদি না লাগে তাহলে এই রকম আহবমান পুরাঘটিত বর্তমান স্ট্যাটার্সই হবে আবালীকরণ। যার মুক্তি মেলবে হাস্যময়।

লেখক: সাংবাদিক, পিএইচডি ফেলো প্রাণ রসায়ন, ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন