শিরোনাম :

জয়তু হে জনপ্রিয় লেখক!


বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জয়তু হে জনপ্রিয় লেখক!

মুরাদুল ইসলাম : ইমদাদুল হক মিলনের একটা স্বাক্ষাতকার প্রকাশ হয়েছে হয়ে বিডিনিউজ আর্টসে। যেখানে তিনি বলেছেন একসময় মাসে একটা উপন্যাস লিখতেন টাকার জন্য। আর সেসব উপন্যাসে কোন সেন্সর থাকত না। এগুলা নাকী তুমুল জনপ্রিয় ছিল এবং তিনি নিজেকে দাবী করেন দেশের প্রথম জনপ্রিয় লেখক বলে। তার দাবী ইত্যাদি নিয়ে সমস্যা নাই কিন্তু কিঞ্চিত সমস্যাটা হল টাকার জন্য লুতুপুতু প্রেমের আনসেন্সরড উপন্যাস লেখে জনপ্রিয়তায়। এইভাবে উপন্যাস লিখে তো উনারা উপন্যাসের সংজ্ঞাই পালটে দিয়েছেন। তারা পাঠকদের কু খাদ্য খাইয়েছেন। পাঠকও খেয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের প্যাকেজ সংবাদ নাটকের ডায়লগের মত। যে দর্শক গোবর খায় তারে গোবর খাওয়াও। কিন্তু পাঠকের অল্প বয়সে গোবরের প্রতি ভালোলাগা থাকলে সেটার সুযোগ নিয়া ডেলিশিয়াস সব গোবরের খানা খাদ্য পরিবেশনের মাধ্যমে তার পাকস্থলীকে অন্য খাদ্যের জন্য অনুপযোগী করে তোলা তো ঠিক না।

তাহলে সেই পাঠক হয়ে যাবে আজীবনের জন্য গোবরখেকো। সে যদি কোনদিন বুঝতে পারে তারো অন্য অনেক কিছু খাওয়ার কথা ছিল, তখন তার মনে দুঃখের উদয় হতে পারে? এই পাঠককে গোবরখেকো প্রতিবন্ধীতে পরিণত করার দায় কী গোবরখাদ্য পরিবেশন করে লাখ লাখ টাকা কামানো লেখকের উপরেও পড়ে? এইসব লেখকের সাথে খাদ্যে ভেজাল দেয়া ব্যবসায়ীদের কী পার্থক্য?

লুতুপুতু চটি স্টাইলের উপন্যাস পাঠকেরা কী আর সিরিয়াস উপন্যাস পড়বে, হে জনপ্রিয় লেখক। আর ইচ্ছাকৃতভাবে মাসে একটা উপন্যাস লেখা, যেকোন কিছু দিয়ে পাতা ভরিয়ে ফেলা কিংবা চটি স্টাইলের দিকে যাওয়া জনপ্রিয়তার জন্য, এইগুলা তো পাঠকের লগে প্রতারনাই, নাকী?

আরো কিছু জিনিস বুঝা গেল এই ইন্টারভিউ পড়ে। যেমন ইমদাদুল হক দাবী করেছেন হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয়তা এসেছে বিটিভিতে তার নাটক প্রচারিত হবার পর। তখন টিভি চ্যানেল একটাই ছিল। বিটিভিতে মুখ দেখাতে পারলেই জনপ্রিয় ব্যক্তি। তখনকার সময়ে বিটিভিতে নাটক প্রচারিত হওয়ায় হুমায়ুন আহমেদের অই বিক্রি বেড়ে যায়। তারপর থেকে বাড়তেই থাকে। তখনকার বই বিক্রিতে টিভি নাটকের এই ভূমিকার কথা জানা ছিল না।

লেখক: তরুণ কথাসাহিত্যিক, সিলেট।

বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমজে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন